• প্রধানমন্ত্রীর প্রচারে নারাজ, বাংলার ‘অবাধ্য’ নাট্যদলগুলির অনুদান বন্ধ
    বর্তমান | ০৪ আগস্ট ২০২৪
  • নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: লোকসভা নির্বাচনের ঠিক আগেই এসেছিল নাটকের মাধ্যমে মোদি-মহিমা প্রচারের ‘ফতোয়া’। দিল্লি থেকে কেন্দ্রের অনুদান নেওয়া বাংলার নাট্যদলগুলির কাছে পৌঁছে যায় ‘রেডিমেড’ নাটক ‘লে আয়ে ওয়াপাস সোনে কি চিড়িয়া’। ফরমান ছিল স্পষ্ট—এটি মঞ্চস্থ করতেই হবে। আর তার ভিডিও জমা দিতে হবে ন্যাশনাল স্কুল অব ড্রামা (এনএসডি)-র ওয়েবসাইটে। না হলে বন্ধ হয়ে যেতে পারে অনুদান। সেই প্রচ্ছন্ন হুমকিই এবার সত্যি হল! এভাবে প্রধানমন্ত্রীর প্রচার না করার শাস্তি মিলল হাতেনাতে। বন্ধ হয়ে গেল রাজ্যের প্রায় ২০-২২টি ঐতিহ্যশালী নাটকের দলের কেন্দ্রীয় অনুদান। সেই তালিকায় অন্যতম নাট্যব্যক্তিত্ব দেবেশ চট্টোপাধ্যায়ের ‘সংসৃতি’। এ নিয়ে তীব্র ক্ষোভ উগরে দিয়েছেন দেবেশবাবু। রাজ্যের তথ্য ও সংস্কৃতিমন্ত্রী ইন্দ্রনীল সেনও ধিক্কার জানিয়েছেন মোদি সরকারকে। নাট্যব্যক্তিত্ব অর্পিতা ঘোষের সাফ কথা, ‘মুখ্যমন্ত্রী বারবার বাংলার সঙ্গে বঞ্চনার কথা বলছেন। বাংলার থিয়েটারের লোকেদের সঙ্গে পাচ্ছে না বিজেপি সরকার। তাই এসব করছে। বাংলার শিল্পীরা অত সহজে ছেড়ে দেবে না।’


    ভারতের নাটকের দলগুলো দীর্ঘদিন ‘গুরু শিষ্য পরম্পরা’ নামের একটি মাসিক অনুদান পেয়ে থাকে। এই অনুদান দেয় কেন্দ্রের সংস্কৃতি মন্ত্রকের অধীন এনএসডি। তারাই এবার তালিকা থেকে ওই নাট্যদলগুলির নাম বাদ দিয়েছে। তাদের মধ্যে অনেকেই ভোটের আগে মন্ত্রকের পাঠানো প্রধানমন্ত্রীর গুণকীর্তন করা নাটিকা করেনি। কিন্তু এটাই টাকা বন্ধের আসল কারণ? নাট্যদলগুলি অবশ্য মনে করছে, এর নেপথ্যে রয়েছে রাজনৈতিক অথবা ব্যক্তিগত প্রতিহিংসা। আবার এনএসডির পাঠানো ওই নাটক করা সত্ত্বেও কয়েকটি দলের অনুদান বন্ধ করা হয়েছে বলে অভিযোগ।


    দেবেশবাবু সাফ বলেছেন, ‘আমরা ওই নাটক করিনি। এখন ওরা বলছে, আমি নাকি বাণিজ্যিক থিয়েটারে খুবই সফল। সিনেমা ও তথ্যচিত্রও করি। তাই আমার নাম কাটা হল। তাহলে একই যুক্তিতে রুদ্রপ্রসাদ সেনগুপ্ত, বিভাস চক্রবর্তী, মনোজ মিত্রের দলের অনুদানও বন্ধ হওয়ার কথা।’ নাট্যদল ‘সায়ক’ কিন্তু মন্ত্রকের পাঠানো ওই নাটিকা করেছিল। তবুও কেন অনুদান বাতিল? এপ্রসঙ্গে নাট্যব্যক্তিত্ব মেঘনাদ ভট্টাচার্য বলেন, ‘আমার প্রেজেন্টেশন মনমতো নয় বলছে। আসলে এখান থেকে কেউ একটা তালিকা দিয়েছে, যার কথা মন্ত্রক শোনে। আমি দেখেছি বাম-তৃণমূল মনোভাবাপন্ন দলগুলোরই নাম বাদ গিয়েছে।’ বাদ পড়েছে ‘প্রাচ্য’, ‘অশোকনগর নাট্যমুখ’। 


    অনুদান তালিকায় থেকে গিয়েছে ‘নান্দীকার’। দলের তরফে অভিনেত্রী-নির্দেশক সোহিনী সেনগুপ্তের দাবি, ‘যত দূর জানি প্রতি বছর এর জন্য কাগজপত্র জমা দিতে হয়। নাহলে শাস্তি দেবে বলে অনুদান বন্ধ, এটা মনে হয় কোনও সরকারই করবে না।’
  • Link to this news (বর্তমান)