২৩ কোটির বেশি টাকা খরচ করে ১০৮৪টি স্কুলে ল্যাবরেটরি সংস্কার
বর্তমান | ০৪ আগস্ট ২০২৪
নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: রাজ্যের কলেজে কলেজে বিজ্ঞান শাখার বিষয়গুলিতে ভর্তির হার একেবারেই কম। মৌলিক বিজ্ঞান নিয়ে পড়াশোনার চাহিদা বহু বছর ধরেই কমছে। এই বিজ্ঞান-বিমুখ প্রবণতা বছর বছর বাড়ছে। গোদের উপর বিষফোঁড়ার মতো ল্যাবরেটরিতে প্রয়োজনীয় বিভিন্ন রাসায়নিকের উপর শুল্ক ১০ শতাংশ থেকে বাড়িয়ে ১৫০ শতাংশ করা হয়েছে কেন্দ্রীয় বাজেটে। ফলে স্বাভাবিকভাবেই বাড়ছে বিজ্ঞানের পরীক্ষানিরীক্ষা ও গবেষণার খরচ। এই পরিস্থিতিতে আশার আলো দেখাচ্ছে রাজ্য সরকার। ১০৮৪টি উচ্চ মাধ্যমিক স্কুলে ২৩ কোটিরও বেশি অর্থ ব্যয় করে বিজ্ঞানের ল্যাবরেটরিগুলি সাজিয়ে তুলতে চলেছে শিক্ষাদপ্তর।
পূর্ব বা পশ্চিম মেদিনীপুরের মতো জেলাগুলি থেকে ২৫০-৩০০ স্কুল এই অনুদান পাচ্ছে। বেশ কিছু জেলা থেকে ৫০ থেকে ১০০টি স্কুল এই তালিকায় রয়েছে। পদার্থবিদ্যা এবং রসায়নবিদ্যার জন্য ল্যাবরেটরি পিছু বরাদ্দ হয়েছে ৭০ হাজার টাকা করে। জীববিদ্যা এবং ভূগোলের ল্যাবরেটরির জন্য মিলবে ৬০ হাজার টাকা। ফলে সমস্ত বিষয়ের ল্যাবরেটরির জন্য এক-একটি স্কুল ২ লক্ষ ৬০ হাজার টাকা পর্যন্ত পাচ্ছে। কয়েকটি স্কুল কেবল ৬০ হাজার টাকাও পেয়েছে। মোট বরাদ্দের পরিমাণ ২৩ কোটি ৮ লক্ষ ৩০ হাজার টাকা। নির্দিষ্ট সময় অন্তর স্কুলগুলিকে ল্যাবরেটরি খাতে এই অর্থ বরাদ্দ করে থাকে সরকার। সরকারের সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়েছে বিভিন্ন শিক্ষক সংগঠন। তাদের বক্তব্য, স্কুলস্তরে বিজ্ঞানচর্চা এবং গবেষণার পরিকাঠামো বাড়ানো হলে উচ্চশিক্ষাতেও তার সুফল মিলবে।
উচ্চ মাধ্যমিক উত্তীর্ণ হওয়ার পরেই আসে স্নাতকে ভর্তির পালা। স্কুলে যদি বেশি সংখ্যক ছাত্রছাত্রী বিজ্ঞান পড়ে ভালো মার্কস সহ উত্তীর্ণ হন, তাঁদের মধ্যে বিজ্ঞান নিয়ে উচ্চশিক্ষার আগ্রহ বাড়বে বলে আশা করা হচ্ছে। মেডিক্যাল, ইঞ্জিনিয়ারিং ও প্রযুক্তি শাখার চিরাচরিত বিষয়গুলিতে ভর্তি হওয়া ছাড়াও বেশ কিছু ছাত্রছাত্রী থাকবেন, যাঁরা মৌলিক বিজ্ঞান নিয়ে উচ্চশিক্ষা নিতে চান। সেক্ষেত্রে কলেজগুলির পরিকাঠামো এবং লোকবলের সঠিক ব্যবহার হবে। একই সঙ্গে রাজ্যেও বিজ্ঞানচর্চা বাড়বে। মাধ্যমিক শিক্ষক ও শিক্ষাকর্মী সমিতির নেতা অনিমেষ হালদার বলেন, ‘খুবই ভালো সিদ্ধান্ত। তবে কোন পদ্ধতিতে স্কুলগুলি বাছাই করা হচ্ছে, সেটাও জানা দরকার। দক্ষিণ ২৪ পরগনার ঝাপবেড়িয়া হাইস্কুলে ২০১৪ সাল থেকে উচ্চ মাধ্যমিক স্তরে ভূগোল পড়ানো হয়। তারা এখনও ল্যাবরেটরি গ্রান্ট পায়নি। তাই অগ্রাধিকারের ভিত্তিতে স্কুলগুলির তালিকা তৈরি হোক।’