• উদয়নারায়ণপুরের মান্দারিয়া খালের ঢালাই ব্রিজ ভাঙল, আরামবাগে বন্যার ভ্রুকুটি 
    বর্তমান | ০৪ আগস্ট ২০২৪
  • নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: গোটা দক্ষিণবঙ্গে বন্যা পরিস্থিতি। রাতভর একটানা বৃষ্টির দোসর ডিভিসি। একধাক্কায় ডিভিসির ১ লক্ষ কিউসেক জল ছাড়ার প্রকোপে পড়েছে হাওড়া, হুগলি সহ শহরতলির একাধিক এলাকা। মূলত গ্রামীণ এলাকায় সার্বিক পরিস্থিতি ভয়াবহ। হাওড়ায় উদয়নারায়ণপুরের মান্দারিয়া খালের উপরের ঢালাই ব্রিজ ভেঙে গিয়েছে। হুগলি, উত্তর ২৪ পরগনার বিভিন্ন এলাকা চলে গিয়েছে জলের তলায়। দক্ষিণ ২৪ পরগনার মহেশতলা পুরসভার ৮টি ওয়ার্ডের একাধিক এলাকা জলমগ্ন। তবে ব্যতিক্রম খাস কলকাতা। রাতভর বৃষ্টিতেও জলমগ্ন পরিস্থিতি তৈরি হয়নি শহরের কোথাও।


    উদয়নারায়নপুরের খোসালপুরে মান্দারিয়া খালের উপরে থাকা ঢালাই ব্রিজের পিলার বসে যায়। পিলারের নিচের বালি সরে যাওয়ায় সেতুর মাঝে ফাটল দেখা দেয়। অতিরিক্ত জলের তোড়ে মাঝখান থেকেই ভেঙে যায় ঢালাই ব্রিজ। এরপরেই দ্রুত প্রশাসনের পক্ষ থেকে সেতুর দুই প্রান্ত বাঁশের বেড়া দেওয়া হয়। স্থানীয়দের দাবি, খালের ওপারে সব জমি আছে। চাষাবাদ বন্ধ হয়ে গিয়েছে। বিধায়ক সমীর পাঁজা বলেন, নতুন সেতু তৈরির জন্য প্রশাসনকে বলা হয়েছে। প্রবল বৃষ্টিতে জগৎবল্লভপুরের তিনটি গ্রাম পঞ্চায়েতের সংযোগকারী অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ রাস্তা এখন জলের তলায়। ফলে গ্রামীণ হাসপাতাল, স্কুল-কলেজে যেতে চূড়ান্ত ভোগান্তির সম্মুখীন হচ্ছেন কয়েক হাজার গ্রামবাসী।


    গ্রামীণ হাওড়ার পাশাপাশি পুরসভা এলাকাতেও অবস্থা তথৈবচ। সবচেয়ে বেশি জল জমেছে ৭, ৮, ৪৪, ৪৭, ৪৮ নম্বর ওয়ার্ডে। এদিনের পরিস্থিতি নিয়ে হাওড়া পুরসভার মুখ্য প্রশাসক সুজয় চক্রবর্তী বলেন, সাঁতরাগাছি ও বেলগাছিয়া এলাকায় দু’টি পাম্পের সাহায্যে জল বের করা হয়। হুগলির চন্দননগরে ১৫, ১৯ ও ৩২ নম্বর ওয়ার্ডের একাধিক জায়গায় শনিবারও জমা জলে ভোগান্তি হয়েছে বাসিন্দাদের। বাসিন্দারা জানিয়েছেন, অধিকাংশ জায়গায় ঘরের ভিতর জলমগ্ন। পুরসভার দাবি, ১০টি পাম্প চালিয়ে যাবতীয় জল বের করে দেওয়া হয়।


    নিম্নচাপের অতিবর্ষণ আর ডিভিসি’র ছাড়া জলে বিপর্যয়ের সম্মুখীন গোটা আরামবাগ মহকুমা। ইতিমধ্যেই আরামবাগ শহরের সতীতলা এলাকায় দ্বারকেশ্বরের রিভার বেডের বাসিন্দাদের ঘরে জল ঢুকে গিয়েছে। দুর্গতরা নদের বাঁধে অস্থায়ী ডেরা বানিয়েছেন। খানাকুলের ঘোষপুর পঞ্চায়েতে সম্ভাব্য বন্যা পরিস্থিতি নিয়ে খানাকুলের ঘোষপুর পঞ্চায়েতে জরুরি বৈঠক করেন সাংসদ মিতালি বাগ, জেলাশাসক মুক্তা আচার্য, জেলা পরিষদের সভাধিপতি রঞ্জন খাঁড়া, বিধায়ক রামেন্দু সিংহ রায় প্রমুখ। দ্বারকেশ্বর নদের পরিস্থিতি খতিয়ে দেখেন মন্ত্রী বেচারম মান্না। ঘাটাল মাস্টার প্ল্যান নিয়ে দীর্ঘসূত্রতায় কেন্দ্রের বিরুদ্ধে তোপ দাগেন তিনি। পরিস্থিতি মোকাবিলায় সব রকমভাবে প্রস্তুত থাকার নির্দেশ দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।


    অপরদিকে প্রতিবারের বর্ষার মতো একই ছবি পাতিপুকুর, দমদম স্টেশনের আন্ডারপাসে। জলের তলায় চলে যায় দু’জায়গাই। বরানগর, বিটি রোড, নিমতা, উত্তর দমদম, কল্যাণী এক্সপ্রেসওয়ে লাগোয়া একাধিক এলাকায় জল থই থই পরিস্থিতি। দু’দিনের বৃষ্টিতে পানিহাটি রাজ্য সাধারণ হাসপাতাল জলমগ্ন হয়ে পড়েছে। চিকিৎসা করাতে এসে ভোগান্তির সম্মুখীন হতে হচ্ছে সাধারণ মানুষকে। দক্ষিণের মহেশতলা, বারুইপুর, সোনারপুর, জয়নগর এলাকার বিস্তীর্ণ অংশ জলমগ্ন হয়ে পড়েছে। 
  • Link to this news (বর্তমান)