সংবাদদাতা, বারুইপুর: দীর্ঘ কয়েক বছর ধরেই জল জমার যন্ত্রণায় জর্জরিত বারুইপুর পুরসভা এলাকা। এই জল বেরনোর পথ আদি গঙ্গা। কিন্তু রেলের ডায়মন্ডহারবার শাখার দু’টি জায়গায় ও লক্ষীকান্তপুর শাখার একটি জায়গায় আদি গঙ্গার উপর কালভার্টের মুখ অতি ছোট। ফলে সেখানে জল প্রবাহ বাধা পাচ্ছে। এই আদি গঙ্গাতেই পুর এলাকার জল পাম্প করে ফেলা হয়। এই সমস্যার জন্য কালভার্টের মুখ আরও চওড়া করার চিন্তাভাবনা করেছিল সেচদপ্তরের মগরাহাট ড্রেনেজ ডিভিশন। কিন্তু আর্থিক জটিলতার জেরে এই কাজ পিছিয়ে যায়।
সেচদপ্তর সূত্রে খবর, এই জটিলতা কাটিয়ে সাড়ে দশ কোটি টাকা ধার্য করা হয়েছে এই কাজের জন্য। এই টাকা দিয়েই রেলের কালভার্ট সংস্কারের কাজ করা হবে। কিন্তু রেল কাজের চুক্তিপত্রে সই করতে ঢিলেমি করছে বলে অভিযোগ। এর জেরেই কাজ পিছিয়ে পড়ছে। ফলে জমা জলের সমস্যা লেগেই থাকছে পুর এলাকায়। এই প্রসঙ্গে সেচদপ্তরের মগরাহাট ড্রেনেজ ডিভিশনের এক বাস্তুকার বলেন, আমরা অর্থ বরাদ্দের কথা জানিয়ে দিয়েছি। তবে রেলের তরফে আমাদের এখনও জানানো হচ্ছে না, এই টাকায় তারা কাজ শুরু করবে কি না। তারা চুক্তিপত্রে সইও করছে না। ফলে সমস্যা বেড়েই চলেছে। যদিও পূর্ব রেলের শিয়ালদহের সিনিয়র ডিভিশন ইঞ্জিনিয়ার মিস্টার রঞ্জন বলেন, ২০১৯ সাল থেকে এই নিয়ে একটা সমস্যা চলছে। এখনও টাকা জমা করছে না সেচদপ্তর। তবে আমরা তৈরি আছি।
বারুইপুর পুরসভার ১৭টি ওয়ার্ড। ফি বছর জল জমার সমস্যায় ভুগতে হয় পুর এলাকার বাসিন্দাদের। এবারেও তিনদিন ধরে জলমগ্ন ১, ২, ৩, ৪, ৫, ১০, ১১, ১৩ এবং ১৪ নম্বর ওয়ার্ড। চরম নাকাল হচ্ছেন বাসিন্দারা। অধিকাংশ ওয়ার্ডেই নর্দমার মুখ আটকে রয়েছে প্লাস্টিক, আবর্জনা পড়ে। অন্যদিকে, পুর এলাকা ঘেঁষা মদারাট পঞ্চায়েত এলাকাও জলমগ্ন। জমা জলে বাড়ছে দুর্গন্ধ। বাসিন্দাদের অভিযোগ, ১০ লক্ষ টাকা দিয়ে নর্দমা করা হলেও সমস্যা মেটেনি। এছাড়াও নায়েবের মোড়ে ফর্দির পোল খাল সরু হয়ে গিয়েছে সংস্কারের অভাবে। এর জেরে জল সরাতে সমস্যা হচ্ছে।