কাজ অসমাপ্ত, সন্দেশখালির সমীক্ষা বৈঠকে অসন্তোষ, দ্রুত শেষের নিদান
বর্তমান | ০৪ আগস্ট ২০২৪
নিজস্ব প্রতিনিধি, বারাসত: মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নির্দেশ মতো শনিবার দুপুরে সন্দেশখালিতে প্রশাসনিক বৈঠক হয়। সূত্রের খবর, সন্দেশখালি ২ নং ব্লকের কাজ নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন প্রশাসনিক কর্তারা। আগামী এক সপ্তাহের মধ্যে এখানকার বকেয়া কাজ দ্রুত শেষ করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। সরকারের উন্নয়নমূলক কাজে কোনও গাফিলতি বরদাস্ত করা হবে না বলে সাফ জানিয়ে দিয়েছেন কর্তারা। সেই সঙ্গে এলাকার পরিযায়ী শ্রমিকদের কর্মসংস্থানের জন্য ব্যবস্থা গ্রহণ করার কথা ঘোষণা করা হয় এদিন।
গত জানুয়ারি থেকে সন্দেশখালি ইস্যুতে তোলপাড় গোটা রাজ্য। লোকসভা ভোটের প্রচারে এই ইস্যুকে হাতিয়ার করে গেরুয়া শিবির। নারী নির্যাতন থেকে জমিদখল, একগুচ্ছ অভিযোগ ওঠে স্থানীয় তৃণমূল নেতা শেখ শাহজাহান ও তার দলবলের বিরুদ্ধে। পরিস্থিতি সামাল দিতে উদ্যোগী হয় রাজ্য সরকার। দখল হয়ে যাওয়া জমি ফেরানোর প্রক্রিয়া শুরু হয় সন্দেশখালির বিভিন্ন এলাকায়। তবে লোকসভা ভোটে বিজেপির সন্দেশখালি নিয়ে প্রচারের ঢক্কানিনাদ কার্যত বিফল হয়। জয়জয়কার হয় তৃণমূলেরই। তারপর সন্দেশখালি এলাকার নাগরিক পরিষেবায় জোর দিতে উদ্যোগী হয়েছে রাজ্য সরকার। সেই মতো সন্দেশখালি ১ নম্বর ব্লকের ন্যাজাটে শনিবার দুপুরে প্রশাসনিক পর্যালোচনা বৈঠক হয়।
উপস্থিত ছিলেন দমকল মন্ত্রী সুজিত বসু, সভাধিপতি নারায়ণ গোস্বামী, বিধায়ক সুকুমার মাহাত, সন্দেশখালি ১ ও ২ নম্বর ব্লকের বিডিও, পুলিস সুপার সহ অন্যান্যরা। সুজিতবাবু বলেন, ‘বৈঠকে আমরা স্পষ্টভাবে বলেছি, বকেয়া কাজ স্বচ্ছতার সঙ্গে শেষ করতে হবে।’ বিজেপির বিরুদ্ধেও সুর চড়ান তিনি। জেলার সভাধিপতি নারায়ণ গোস্বামী বলেন, ‘সন্দেশখালি ২ নং ব্লকে কাজের গতি কিছুটা কম। বিজেপির তৈরি করা রাজনৈতিক অস্থিরতার কারণে দীর্ঘদিন কাজ বন্ধ ছিল। তাই এদিন বলা হয়েছে, আগামী এক সপ্তাহের মধ্যে কাজ শেষের প্রক্রিয়া নিয়ে রিপোর্ট জেলায় জমা দিতে হবে। এলাকার পরিযায়ী শ্রমিকদের সেচদপ্তরের মাধ্যমে কর্মসংস্থান নিয়েও আলোচনা হয়েছে।’ প্রশাসনিক বৈঠকের পর দলীয় কর্মীদের নিয়ে সভা করেন তৃণমূলের নেতারা।