নিজস্ব প্রতিনিধি, ঝাড়গ্রাম: ঝাড়গ্ৰামে জামবনি এলাকার বাসিন্দারা হাতির তাণ্ডবে অতিষ্ঠ। খাবারের সন্ধানে হাতির দল এলাকায় বারবার হানা দিচ্ছে। শুক্রবার মাঝরাতে কেন্দাডাংরী পঞ্চায়েতের কাপাসী গ্ৰামে একটি হাতি ঢোকে। খাবারের সন্ধানে পাকা ও মাটির ৯টি বাড়িতে ভাঙচুর চালায়। জানালা, দরজা ভেঙে ঘরে ঢোকার চেষ্টা করে। গ্ৰামবাসীরা বাজি ফাটিয়ে হাতিটিকে জঙ্গলে ফেরত পাঠায়। হাতি নিয়ে এলাকায় আতঙ্ক তৈরি হয়েছে। বনদপ্তরের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন উঠছে। জামবনি রেঞ্জে গত কয়েকদিন ধরে একটি হাতির দল ঘুরে বেড়াচ্ছে। বনদপ্তর সূত্রে খবর, ঝাড়গ্রাম ডিভিশনে একটি হাতির দলকে পুরনো পথ দিয়ে দিন কয়েক আগে ঝাড়খণ্ডে পাঠানো হয়েছে। অপর দলের ৩৬টি হাতি এখনও এলাকার জঙ্গলে ঘুরে বেড়াচ্ছে। গত শুক্রবার জামবনী রেঞ্জের চিচিড়া বিটের ফুলবেড়িয়া গ্ৰামে দু’টি হাতি খাবারের সন্ধানে ঢুকে পড়ে এবং দু’টি বাড়িতে ভাঙচুর চালায়। শুক্রবার রাতে রেহরা জঙ্গল থেকে বের একটা হাতি ডুলুং নদী পার হয়ে কাপাসি গ্ৰামে ঢোকে। পাকা ও মাটির নয়টি বাড়িতে ভাঙচুর চালায়। বাসিন্দারা হামলা থেকে অল্পের জন্য রক্ষা পান। গ্ৰামের বাসিন্দারা চিৎকার চেঁচামেচি ও বাজি ফাটিয়ে হাতিটিকে জঙ্গলে ফেরত পাঠায়। মাঝরাতে হাতির পরপর হামলায় এলাকাজুড়ে চাঞ্চল্য তৈরি হয়েছে।
গ্ৰামের বাসিন্দা মন্টু চৌধুরী বলেন, হাতিটি মাঝরাতে গ্ৰামে ঢোকে। আমার বাড়ির কাঠের দরজা ভেঙে দেয়। প্রাণভয়ে স্ত্রী ও তিনটে ছোট ছেলেকে নিয়ে ছাদে উঠে যাই। বৃষ্টির মধ্যে সারারাত ওইভাবে কাটাতে হয়েছে। আবার হাতি হামলার আশঙ্কা করছি। রীতা চৌধুরী বলেন, গতকাল রাতে হাতিটি গ্ৰামজুড়ে তাণ্ডব চালিয়েছে। কারও দরজা, কারও মাটির দেয়াল ভেঙে দিয়েছে। আমার ঘরের দরজাটা ভাঙলেও বড় শরীর নিয়ে ঢুকতে পারেনি। স্থানীয় বাসিন্দা বিপ্লব মাহাত বলেন, স্থানীয় জঙ্গলে হাতির দল ঘুরে বেড়াচ্ছে। জমির ফসল উঠে গিয়েছে। জঙ্গলেও হাতির উপযুক্ত খাবার নেই। খাবারের সন্ধানে হাতির দল বারবার লোকালয়ে ঢুকে পড়ছে। বনদপ্তরের কর্মীদের সেভাবে দেখা যাচ্ছে না। হাতির দলটিকে দূরে না পাঠালে যেকোনও মুহূর্তে প্রাণহানির ঘটনা ঘটতে পারে। ঝাড়গ্ৰামের ডিএফও উমর ইমাম বলেন, হাতির একটি দলকে ইতিমধ্যেই পুরনো রুট দিয়ে ঝাড়খণ্ডে পাঠানো হয়েছে। অপর দলটিকে পাঠানোর পরিকল্পনা চলছে। অতর্কিতে দলছুট কোনও হাতি লোকালয়ে ঢুকে পড়ছে। বনকর্মীরা হাতির দলটির গতিবিধির উপর লাগাতার নজরদারি চালাচ্ছে। বনদপ্তরের তরফে ক্ষতিগ্ৰস্ত পরিবারকে ক্ষতিপূরণ দেওয়ার ব্যবস্থা করা হবে।