দুর্ঘটনাগ্রস্ত শিশুর মৃত্যুকে কেন্দ্র করে ব্যাপক উত্তেজনা জেলা হাসপাতালে
বর্তমান | ০৫ আগস্ট ২০২৪
নিজস্ব প্রতিনিধি, কৃষ্ণনগর: দুর্ঘটনাগ্রস্থ শিশুকন্যা লাবণী ঘোষের (৪) মৃত্যুকে কেন্দ্র করে ব্যাপক উত্তেজনা ছড়াল শক্তিনগর জেলা হাসপাতালে। শনিবার রাতে চিকিৎসার গাফিলতির অভিযোগ তুলে হাসপাতালে ব্যাপক ভাঙচুর চালায় শিশুটির বাড়ির লোকজন। পরিস্থিতি সামাল দিতে আসে কোতোয়ালি থানার পুলিস। তারা মৃত শিশুর পরিবারের লোকজনের সঙ্গে কথা বলে। পরিবারের তরফে হাসপাতাল সুপার ও কোতোয়ালি থানায় লিখিত অভিযোগ করা হয়েছে। যদিও এই প্রথম নয়, এর আগেও চিকিৎসার গাফিলতিতে রোগী মৃত্যুর অভিযোগ উঠেছিল এই জেলা হাসপাতালের বিরুদ্ধে।
শক্তিনগর জেলা হাসপাতালে সুপার জয়ন্ত সরকার বলেন, চিকিৎসায় গাফিলতির অভিযোগ ভিত্তিহীন। কারণ, ওই শিশুটির অবস্থা প্রথম থেকেই খারাপ ছিল। ট্রান্সফার করে দিলে রাস্তাতেই মারা যেত। তাই আমরা হাসপাতালে রেখেই চিকিৎসা করছিলাম। তাতেও শেষরক্ষা হয়নি। হাসপাতালে ভাঙচুরের বিষয়টি আমরা পুলিসকে জানিয়েছি।
জানা গিয়েছে, শনিবার রাতে কৃষ্ণনগর কোতোয়ালি থানার অন্তর্গত ভান্ডার খোলা পঞ্চায়েতের পানিনালা এলাকায় পথ দুর্ঘটনার কবলে পড় লাবণী। মা রূপশ্রী ঘোষ মেয়েকে নিয়ে রাস্তা পারাপার করেছিলেন। ওই সয় একটি গাড়ি এসে তাঁদের সজোরে ধাক্কা মারে। মা ও মেয়ে দুজনেই গুরুতর জখম হন। তাঁদের শক্তিনগর হাসপাতালে নিয়ে আসা হয়। হাসপাতালে ভর্তি হওয়ার কিছুক্ষণের মধ্যেই লাবণীর মৃত্যু হয়। পরিবারের অভিযোগ, আইসিইউ বেড না থাকার কারণে ঠিকমতো চিকিৎসা করা যায়নি। ফলে দীর্ঘ ৩ ঘন্টা জেনারেল বেডেই রাখা হয়েছিল লাবণীকে। শুধু মাত্র নার্সদের তত্ত্বাবধানেই চিকিৎসা চলে ওই শিশুর। চিকিৎসা চলাকালীন তার মৃত্যু হয়।
শিশুর মৃত্যুতে পরিবারের লোকজন উত্তেজিত হয়ে পড়েন। হাসপাতালের বিভিন্ন সামগ্রী ভাঙচুর করে। পরিস্থিতি জটিল হয়ে উঠলে কোতোয়ালি থানার পুলিস বাহিনী আসে। পুলিসের সঙ্গেও বচসায় জড়িয়ে পড়েন রোগীর পরিবারের লোকজন।
মৃত লাবণীর কাকা নির্মল ঘোষ বলেন, লাবণী মামার বাড়ি থেকে ফিরছিল। পানিলালার কাছে রাস্তা পার হওয়ার সময় পিছন দিক থেকে আসা একটি গাড়ি ওদের ধাক্কা মারে। আমরা ওদেরকে শক্তিনগর হাসপাতালে নিয়ে আসি। হাসপাতালে ভর্তি নিতে আধ ঘন্টা দেরি করে। তারপর উপরে নিয়ে যাওয়া হয় ডাক্তারের কাছে। ডাক্তার কোনও কিছু না দেখেই কয়েকটা ওষুধ লিখে দেয়। আর সিটি স্ক্যান করতে বলে। কিন্তু সেই রিপোর্টে কিছু না পেয়ে ডাক্তার বলেন সকাল সাতটার পর রোগীকে রেফার করা হবে। জেনারেল বেডে তিন ঘণ্টা একটা শিশুকে রেখে দেওয়া হয়েছিল। কোনওরকম চিকিৎসা ছাড়াই আমার ভাইঝি মারা গেল।
চলতি বছরে মে মাসে চিকিৎসার গাফিলতিতে কৃষ্ণগঞ্জের এক রোগী মৃত্যুর অভিযোগ উঠেছিল শক্তিনগর জেলা হাসপাতালের বিরুদ্ধে। তখনও পরিবার দাবি করেছিল, রোগীর চিকিৎসার সময় মত শুরু করা হয়নি। সেই কারণেই মৃত্যু হওয়ার ঘটনা ঘটেছিল। চিকিৎসা পরিষেবা নিয়ে জেলা হাসপাতালের বিরুদ্ধে অভিযোগ নতুন নয়। সম্প্রতি ন্যায্যমূল্যের ওষুধ পেতে গিয়েও সমস্যা হচ্ছে রোগী পরিবার পরিজনের।