• জট কাটল, হলদিয়ায় বিদেশি জাহাজ থেকে পণ্য খালাস শুরু
    বর্তমান | ০৫ আগস্ট ২০২৪
  • সংবাদদাতা, হলদিয়া: রবিবার দিনভর মিটিংয়ের পর অবশেষে তৃতীয় দিনে শ্রমিক জট কাটল হলদিয়া বন্দরে। এদিন সন্ধে ৭টা নাগাদ শ্রমিক জটে আটকে থাকা ‹হেলিওস› নামে বিদেশি জাহাজ থেকে পণ্য নামানোর কাজ শুরু করেছে নির্ধারিত কার্গো হ্যান্ডেলিং এজেন্সি। বন্দর সূত্রে জানা গিয়েছে, ওই এজেন্সি বন্দরের কার্গো পুল থেকে আপাতত শ্রমিক ভাড়ায় নিতে সম্মত হয়েছে। শ্রমিক ভাড়ায় নেওয়াকে কেন্দ্র করেই জট পাকিয়েছিল। গত ২ আগস্ট শুক্রবার থেকে ওই কার্গো হ্যান্ডেলিং এজেন্সির শ্রমিক সরবরাহ সংক্রান্ত ঝামেলায় বিদেশি জাহাজ থেকে পণ্য নামানোর কাজ বন্ধ ছিল বলে অভিযোগ উঠেছে। ওই এজেন্সির সঙ্গে শিল্পশহরের এক প্রভাবশালী তৃণমূল নেতা জড়িত বলেও জানা গিয়েছে। বন্দরে কার্গো পুল থেকে শ্রমিক ভাড়ায় নেওয়াকে ঘিরেই ঝামেলার সূত্রপাত। মূলত শ্রমিক সরবরাহ নিয়ে বন্দরের দুই হ্যান্ডেলিং এজেন্সির দ্বন্দ্বের জেরেই পণ্য খালাস বন্ধ ছিল। এই ঘটনায় বিপাকে পড়ে বন্দর কর্তৃপক্ষ। এদিকে, বন্দরে বিদেশি জাহাজে কাজ বন্ধ থাকায় পণ্য আমদানি রপ্তানিকারী এজেন্সি ও শিল্প সংস্থাগুলির কাছে ভুল বার্তা গিয়েছে বলে মনে করছেন বন্দর বিশেষজ্ঞরা। 


    জানা গিয়েছে, ‹হেলিওস› নামে বিদেশি জাহাজটি বিভিন্ন সংস্থার জন্য পেট্রলিয়াম কোক ও কয়লা নিয়ে বন্দরে এসেছে বৃহস্পতিবার। প্রায় ১৫ হাজার টন পণ্য রয়েছে জাহাজে। চারটি কার্গো হ্যান্ডেলিং এজেন্সির সঙ্গে জাহাজ থেকে পণ্য নামানোর চুক্তি হয়। ওই জাহাজের চারটি আলাদা হ্যাচ বা খোপে পণ্য বোঝাই রয়েছে। চার নম্বর হ্যাচে রয়েছে এক টন ওজনের পেট কোক বোঝাই ১ হাজার ৮৯৩টি জাম্বো ব্যাগ। প্রায় দু›হাজার টন পেট কোক জাহাজ থেকে নামানোর চুক্তি রয়েছে তৃণমূল নেতার ওই এজেন্সির সঙ্গে। একসময়ে ওই তৃণমূল নেতার সংস্থা বন্দরে কার্গো পুল নিয়ন্ত্রণ করত। ওই কার্গো পুল থেকে বন্দরে কাজের জন্য শ্রমিক সরবরাহ করা হয়। কার্গো পুলের অধীনে আটশোর বেশি শ্রমিক নথিভুক্ত রয়েছেন। জাহাজে পণ্য ওঠানো নামানোর কাজ করেন তাঁরা। বছর দু›য়েক আগে কার্গো পুলের নিয়ন্ত্রণ চলে যায় ‹অ্যারো› নামে বন্দরের অন্য একটি এজেন্সির হাতে। 


    বন্দর সূত্রে জানা গিয়েছে, তৃণমূল নেতার ওই এজেন্সি নিজের কর্মী দিয়ে জাহাজ থেকে পণ্য নামাতে চেয়েছিল। কিন্তু বন্দরের নিয়ম অনুযায়ী, জাহাজে কাজ করতে গেলে চলমান ব্যবস্থা অর্থাৎ কার্গো পুল থেকেই শ্রমিক ভাড়া নিতে হবে। এই দ্বন্দ্ব ঘিরেই সমস্যা। ‹হেলিওস› জাহাজের বাকি ৩টি হ্যাচ থেকে পণ্য নামানোর কাজ চলছে। কিন্তু ৩ দিন ধরে বন্ধ ছিল ৪ নম্বর হ্যাচের কাজ। ওই হ্যাচের দু› হাজার টন পণ্য খালাস না হলে জাহাজটি বন্দরে আটকে থাকত। 


    ক্ষতির মুখে পড়ত বন্দর ও শিল্প সংস্থা। তবে নির্দিষ্ট সময়ে কাজ শেষ না হওয়ায় গুণাগার দিতে হবে পণ্য আমদানিকারী এজেন্সিকে। জানা গিয়েছে, রবিবার দুপুরে বন্দর কর্তৃপক্ষের সঙ্গে তৃণমূল নেতার ওই এজেন্সির মিটিং হয়েছে। ওই এজেন্সির অভিযোগ, তাঁদের শ্রমিকদের দিয়ে কাজ করাতে দেওয়া হচ্ছে না। অন্য এজেন্সি থেকে শ্রমিক ভাড়ায় নিয়ে কাজ করাতে হবে। জানা গিয়েছে, শ্রমিক নিয়ে বন্দরের দুই এজেন্সির মধ্যে দু›বছর ধরে ঝামেলায় প্রায়ই কাজ বন্ধ হচ্ছে বন্দরে। এদিন, মিটিংয়ে তৃণমূল নেতার ওই এজেন্সিকে বন্দর কর্তৃপক্ষ প্রস্তাব দেয়, তাদের শ্রমিকদের কার্গো পুলের অন্তর্ভুক্ত করেই কাজ করতে হবে। অভিযোগ, বন্দরের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের গাফিলতির ফল ভুগতে হচ্ছে শিল্পকে। বন্দরের এক পদস্থ আধিকারিক বলেন, কার্গো পুলের শ্রমিক নিয়ে দুই এজেন্সির মধ্যে প্রাথমিক সমঝোতা হয়েছে। সমঝোতার পরই জাহাজে কাজ শুরু হয়েছে।  নিজস্ব চিত্র
  • Link to this news (বর্তমান)