মিড ডে মিলের জন্য স্কুলেই সব্জির চাষ প্রধান শিক্ষকের
বর্তমান | ০৫ আগস্ট ২০২৪
সংবাদদাতা, কৃষ্ণনগর: মিড ডে মিলে পড়ুয়াদের পাতে ভেজালহীন শাকসব্জি তুলে দিতে ও পয়সার সাশ্রয় করতে প্রধান শিক্ষক চাষ করছেন স্কুল প্রাঙ্গণে। মাজদিয়া রেলবাজার প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক সুকুমার হালদারের এই উদ্যোগে উচ্ছ্বসিত অভিভাবক থেকে সাধারণ মানুষ। বাজারে আসা সব ফসলেই রয়েছে রাসায়নিক সার ও কীটনাশক। সেই শাকসব্জিতেই বিদ্যালয়ে বিদ্যালয়ে মিড ডে মিল রান্না হয়। সেই খাবার খেয়ে ছোট ছোট পড়ুয়াদের বিভিন্ন সমস্যা হয়। কখনও পেটে ব্যাথা, কখনও শরীর খারাপ হতে দেখা গিয়েছে। আবার শাকসব্জিতে নানারকম পোকামাকড়ও দেখা যায়। স্বাভাবিক ভাবেই মিড ডে মিলে দেওয়া খাবারের গুণগত মান নিয়ে প্রশ্নও উঠেছে। মাস ছয়েক আগে মাজদিয়া রেলবাজার প্রাথমিক বিদ্যালয়ে যোগদান করেন সুকুমারবাবু। তিনি স্কুলের আবর্জনায় ভর্তি একখণ্ড জায়গা পরিষ্কার করান। ৩৫ হাত লম্বা আর ১২ ফুট চওড়া সেই জমিতে চাষ শুরু করেন। ধীরে ধীরে বিদ্যালয়ের প্রাঙ্গণ ভরে উঠেছে পুঁইশাক, লালশাক, বেগুন, কাঁচালঙ্কা, কুমড়ো, ঢেঁড়শ সহ নানা সব্জি। শুধু গাছ লাগানোই নয়, সেগুলির নিয়মিত পরিচর্যা করেন সুকুমারবাবুর সঙ্গে স্কুলের সহ শিক্ষকরা। রেলবাজার প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ২০২ জন পড়ুয়ার জন্য রয়েছেন প্যারা টিচার সহ মোট ৮ জন শিক্ষক। প্রত্যেকে সুকুমার হালদারের সঙ্গে কাজ করেন। শিক্ষকের এই উদ্যোগে খুশি পড়ুয়া থেকে শুরু করে অভিভাবকরাও। তাঁরা বলেন, এই পদক্ষেপ প্রতিটি বিদ্যালয়েরই করা উচিত। প্রায় সমস্ত সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে প্রাঙ্গণে বেশ কিছুটা জায়গা থাকে। সেই জায়গাগুলিতে যদি এভাবে শাকসব্জি চাষ করা হয়, তাতে যেমন আর্থিক সাশ্রয় হবে। ঠিক তেমনি বাজারের ভেজাল রাসায়নিক সার ও কীটনাশক দেওয়া সব্জি আর খেতে হবে না। এ নিয়ে সুকুমার হালদার বলেন, মিড ডে মিলের জন্য ৫ টাকা ৪৫ পয়সা দেয় সরকার। তাই টাকা সাশ্রয় হওয়া দরকার। চাষ করতে পারলে সাশ্রয় হয়। পড়ুয়ারা নির্ভেজাল খাবারও খেতে পারে। একইসঙ্গে সৌন্দর্যায়নও হয়। • নিজস্ব চিত্র