রোগীমৃত্যুর জেরে তাণ্ডব রামপুরহাট মেডিক্যালে, ২ লক্ষ টাকার ওষুধ নষ্ট
বর্তমান | ০৫ আগস্ট ২০২৪
সংবাদদাতা, রামপুরহাট: রোগীমৃত্যুকে কেন্দ্র করে রামপুরহাট মেডিক্যালে তাণ্ডব চালানোর ঘটনায় ১২ জনকে গ্রেপ্তার করল পুলিস। ধৃতদের বিরুদ্ধে চিকিৎসককে মারধর, হাসপাতালে ভাঙচুর ও প্রায় দু’লক্ষ টাকার ওষুধ নষ্ট করার অভিযোগ রয়েছে। রবিবার ধৃতদের বিরুদ্ধে একাধিক জামিন অযোগ্য ধারা যুক্ত করে রামপুরহাট আদালতে তোলা হয়। তাদের মধ্যে সাব্বির শেখ ও ফিটু শেখ নামে দুজনকে তিনদিনের পুলিস হেফাজত ও বাকিদের ১৪ দিন জেল হেফাজতের নির্দেশ দিয়েছেন বিচারক। পুলিস জানিয়েছে, মেডিক্যালের এমএসভিপি ৪০ জনের নামে এফআইআর করেছেন। বাকিদের খোঁজ চলছে। ঘটনার নিন্দা করার পাশাপাশি প্রশাসনকে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়ার অনুরোধ জানিয়েছেন রোগী কল্যাণ সমিতির চেয়ারম্যান আশিস বন্দ্যোপাধ্যায়।
শনিবার দুপুরে তারাপীঠ থানার শাসপুরে বাইক দুর্ঘটনায় জখম হন বছর সাতাশের আনসারুল শেখ। তাঁর বাড়ি পাইকর থানার হাবিশপুর গ্রাম। পরিবারের লোকজন দুপুর আড়াইটে নাগাদ তাঁকে রামপুরহাট মেডিক্যালের সার্জিক্যাল ওয়ার্ডে ভর্তি করেন। যুবকের আত্মীয় রয়েল শেখ বলেন, ভর্তি করার পর থেকে একবারের জন্যও সিনিয়র চিকিৎসক আসেননি। রোগীর বুক জ্বালা ও অস্বস্তি বোধ করায় ওয়ার্ড থেকে এক্সরে ও সিটিস্ক্যান করিয়ে আনার জন্য বলে। রাত পৌনে ৯টা নাগাদ চিকিৎসক এসে রিপোর্ট দেখে একটি ইঞ্জেকশন দেন। তার ১০ মিনিটের মাথায় রোগী মারা যান।
হাসপাতাল সূত্রে জানা গিয়েছে, রোগী মারা যাওয়ার পরই ধন্ধুমার কাণ্ড বেধে যায়। রোগীর পরিজনরা চিকিৎসায় গাফিলতির অভিযোগ তুলে বিক্ষোভের পাশাপাশি ফোন করে আত্মীয়স্বজনদের ডেকে নেয়। এরপরই তাণ্ডব শুরু করে। তারা তিনতলায় থাকা সার্জিক্যাল ওয়ার্ডের ভিতরে ঢুকে ওষুধের আলমারি উল্টে দেয়। পাশের বেডে থাকা এক রোগী বরাত জোরে বেঁচে গিয়েছেন। এরপর প্রচুর জীবনদায়ী ইঞ্জেকশন ও ওষুধপত্র নষ্ট করে দেয়। আতঙ্কে ওয়ার্ডের ইর্ন্টান চিকিৎসকরা একটি ঘরে ঢুকে দরজা লাগিয়ে দেন। ধাক্কা মেরে লক ভেঙে সেই রুমে ঢুকে এক ইর্ন্টানকে মারধর করে। প্রায় শ’খানেক লোকের তাণ্ডবে আতঙ্কিত হয়ে পড়েন অন্যান্য রোগীরাও। এরপর নীচে এসে ইমার্জেন্সিতে ঢুকে দুই সিনিয়র চিকিৎসক ও এক ইর্ন্টানকে মারধর করে। ইমার্জেন্সি পরিষেবা বন্ধ করে দেয় তারা। বিপাকে পড়েন মূমুর্ষ রোগীর আত্মীয়রা। আক্রান্ত চিকিৎসক মহম্মদ সামিম বলেন, ডিউটি করার সময় হঠাৎ করে একদল ঢুকে ঘুষি মারতে শুরু করে। তার মধ্যে ইর্ন্টানের মুখ দিয়ে রক্ত বেরিয়ে আসে। ভয়ঙ্কর পরিস্থিতি।
হাসপাতালে তাণ্ডবের খবর পেয়ে পুলিস এসে হামলাকারীদের বুঝিয়ে শান্ত করার চেষ্টা করেও ব্যর্থ হয়। পুলিসের সঙ্গে ধাক্কাধাক্কি শুরু করে দেয়। তারপরই পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে ব্যাপক লাঠিচার্জ শুরু করে পুলিস। ঘটনাস্থল থেকে চারজনকে ধরে ফেলে পুলিস। পরে জাতীয় সড়কের উপর থেকে আরও আটজনকে গ্রেপ্তার করে।
পুলিস জানিয়েছে, ধৃতদের মধ্যে চারজন হাবিশপুরের বাসিন্দা। বাকিদের বাড়ি শাসপুরে। এদিন আদালতে যাওয়ার পথে ধৃত মৃতের শ্বশুর মিঠু শেখ বলেন, বিনা চিকিৎসায় মারা যাওয়ার জন্যই ভাঙচুর চালানো হয়েছে।
যদিও এমএসভিপি পলাশ দাস বলেন, দু’জন সিনিয়র চিকিৎসক ওই রোগীর চিকিৎসা করেছেন। ঘটনার সময় তাঁরা ওয়ার্ডেই ছিলেন। মারধর করবে বলে স্টাফরা তাঁদের অন্যত্র সরিয়ে দিয়েছিলেন। তাঁদের না পেয়ে ইমার্জেন্সির চিকিৎসক ও ইর্ন্টানদের মেরেছে। এভাবে ভয়, আতঙ্কের পরিবেশ তৈরি হলে চিকিৎসকদের মনোবল নষ্ট হবে। তবে পুলিস দ্রুত পদক্ষেপ করায় খানিকটা রেহাই হয়েছে।