• তেঘড়িপাড়ার রাস্তায় বাজার বসায় সমস্যা যান চলাচলে, সরানোর দাবি
    বর্তমান | ০৫ আগস্ট ২০২৪
  • সংবাদদাতা, নবদ্বীপ: রাজ্যজুড়ে যখন হকারদের থেকে দখল করা জমি উদ্ধারের কাজ চলছে, তখন উল্টো ছবি নবদ্বীপের তেঘড়িপাড়া রোডে। বহাল তবিয়তে জবরদখলকারী হকাররা রয়ে গিয়েছেন নবদ্বীপের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ এই প্রবেশ পথে। দীর্ঘদিন ধরে এই রাস্তার উপরে শাকসব্জি থেকে শুরু করে মাছ মাংসের দোকান রয়েছে। সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত দীর্ঘ সময় রাস্তায় যাতায়াত করা খুব কঠিন হয়ে পড়ে। ফলে সমস্যায় পড়তে হয় পড়ুয়া, পথচলতি সাধারণ মানুষ থেকে যানবাহন চালকদের।


     নবদ্বীপ পুরসভার তেঘড়িপাড়ার তেমাথা মোড় থেকে বড়শ্যামা মন্দিরের কাছাকাছি পর্যন্ত রাস্তাজুড়ে  প্রায় ৬০ থেকে ৭০টি দোকান। প্রতিদিন নবদ্বীপ সহ পার্শ্ববর্তী পূর্ব বর্ধমান জেলার পূর্বস্থলী, বেলের হল্ট, লক্ষ্মীপুর, পারুলিয়া, ফরেস্টডাঙা থেকেও বহু মানুষ এই বাজারে দোকান দিয়ে বসেন। রাস্তাটি এমনিতেই সংকীর্ণ, তার মধ্যে প্রতিদিন রাস্তাজুড়ে দোকান বসছে। তাছাড়া রাস্তা দিয়ে টোটো, রিকশ সহ ছোটবড় বিভিন্ন যানবাহন, অ্যাম্বুলেন্স যাতায়াত করে। বিশেষ করে যাতায়াতের সমস্যায় পড়তে হচ্ছে স্কুল কলেজের পড়ুয়াদের। মূলত সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত এই ব্যস্ততম রাস্তাটি এখন স্থানীয় বাসিন্দা ও পথচারীদের কাছে আতঙ্কের কারণ হয়ে উঠেছে। স্থানীয় বাসিন্দাদের দাবি, রাস্তার উপর থেকে বাজার সরিয়ে অন্যত্র নিয়ে যাওয়া হোক। রাস্তার দু’ ধারে বাজার তো আছেই, তারসঙ্গে ভ্যান রিকশ নিয়ে অনেকেই তাদের পণ্য বেচছেন। 


    এক স্থানীয় বাসিন্দা জানান, অন্ততপক্ষে স্কুলের সময়টা ট্রাফিক নিয়ন্ত্রণ করতে পারলে খুবই ভালো হয়। এছাড়া বাজারের সময় যেভাবে মানুষের ভিড় হয়, সেই সময়ে কোনও চারচাকার যান ঢুকে পড়লে অন্য যানবাহন যাতায়াতের সমস্যা হয়। আবার অনেকেই বাজার করতে এসে যেখানে সেখানে মোটরসাইকেল, সাইকেল রেখে বাজার করছেন। ফলে মাঝে মধ্যেই ভীষণ যানজট হচ্ছে। এই সমস্যার সমাধান দরকার।


    তেঘরি বাজার এলাকার বাসিন্দা সুবল সরকার বলেন, নবদ্বীপ শহরের বিভিন্ন জায়গায় যানজট রুখতে ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। এখানেও অবশ্যই নজর দেওয়ার দরকার। কাছেই নবদ্বীপ ধাম স্টেশন। আশপাশের এলাকার অনেকেই এই রাস্তা দিয়ে স্টেশন যান। ট্রেন ধরার তাড়া থাকে। অনেক ক্ষেত্রেই এই যানজটের কারণে দেরি হয়ে হয়। নবদ্বীপ পুরসভার চেয়ারম্যান বিমানকৃষ্ণ সাহা বলেন, তেঘরিপাড়া বাজারে বাইরে থেকে সব্জি আসে। পার্শ্ববর্তী পূর্ব বর্ধমানের জেলা থেকে সব্জিওয়ালারা ভিড় করেন। আমরা ইচ্ছা করলে ওঁদের তুলে দিতে পারি। তবে এই ভাবে তুলে দেওয়াটা জনসাধারণও চাইবে না। সব্জি পাবে কোথায়? আমরা প্রচেষ্টা চালাচ্ছি যাতে বেআইনি দখলমুক্ত করা যায়। সহনশীলতা বজায় রেখে পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে।  নিজস্ব চিত্র
  • Link to this news (বর্তমান)