সুখেন্দু পাল, আউশগ্রাম: কুনুর নদীতে সারা বছর জল থাকে না। প্রতিবার বর্ষার সময় কিছুটা জল বাড়ে। কিন্তু এই নদীর জলের পুরো এলাকা প্লাবিত হয়েছে, এমন রেকর্ড নেই। রবিবার পিচকুড়ির ঢাল এলাকায় গিয়ে দেখা গেল, পুরো মাঠ জলের তলায় রয়েছে। জমিতে চাষ দেওয়ার জন্য ট্রাক্টর নামানো হয়েছিল। সেটিও জলের মাঝে আটকে রয়েছে। শুধু আউশগ্রাম নয়, ভাতারের বনপাশ, মাহাতা, নিত্যানন্দপুর এলাকার জমিও জলের তলায় রয়েছে। দামোদর ফুঁসছে। নদীতে আরও বেশি জল বাড়ছে বলে আশঙ্কা। সেক্ষেত্রে জামালপুর, গলসি, খণ্ডঘোষ এবং রায়নার বহু এলাকা নতুন করে প্লাবিত হতে পারে। নদী পাড়ের বাসিন্দাদের মাইকে প্রচার করে জেলা প্রশাসন সতর্ক করেছে। প্রয়োজনে ওই এলাকার বাসিন্দাদের অন্যত্র সরানো হতে পারে। তারজন্য প্রশাসন কয়েকটি স্কুল ঠিক করে রেখেছে। জেলাশাসক কে রাধিকা আইয়ার বলেন, গঙ্গা, দামোদর সহ সমস্ত নদ ও নদীতে ফেরি চলাচল বন্ধ করা হয়েছে।
আতঙ্ক বাড়ছে আউশগ্রাম-২ ব্লকের অজয়ের বাঁধের পাশে থাকা বাসিন্দাদের মধ্যে। ওই এলাকার কয়েকটি জায়গায় নদীবাঁধ দুর্বল রয়েছে। প্রশাসন ওই জায়গাগুলিতেও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিয়েছে। ভাতারের বেশকিছু জায়গায় রাস্তা কেটে জল বের করা হচ্ছে। বর্ধমানের মহকুমা শাসক(সদর) তীর্থঙ্কর বিশ্বাস বলেন, ভাতার, আউশগ্রাম, গলসি এলাকার বেশকিছু রাস্তা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। সেগুলির তালিকা তৈরি করা হচ্ছে। দামোদরে জল বাড়লে এলাকার বাসিন্দারা যাতে সমস্যায় না পড়েন তারজন্য প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। জেলা পরিষদের শিক্ষা কর্মাধ্যক্ষ শান্তনু কোনার বলেন, শুধু ভাতার বিধানসভা কেন্দ্রেই এক হাজারের বেশি মাটির বাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। প্রশাসন সূত্রে জানা গিয়েছে, বর্ধমান, গুসকরা, মেমারি এবং কাটোয়া শহর সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ৩০০টি গ্রামে জল ঢুকেছে। ওই গ্রামগুলিতে বহু মাটির বাড়ি আংশিক ও সম্পূর্ণ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। শুধু গলসি এলাকাতেই ৪৬০ হেক্টর জমির ধান ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। জেলায় ২৫টি জায়গায় রান্না করে প্লাবিত এলাকার বাসিন্দাদের খাওয়ানো হচ্ছে। পূর্ব বর্ধমান জেলা পরিষদের সভাধিপতি শ্যামাপ্রসন্ন লোহার বলেন, ডিভিসি জল ছাড়ার জন্য পরিস্থিতির অবনতি হয়েছে। নদীগুলিতে কানায় কানায় জল বইছে। মোট কতটা এলাকার ধানজমি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে সেই তালিকা তৈরির কাজ চলছে। প্রতিটি ব্লকেই ত্রিপল পাঠানো হয়েছে। পিচকুড়ির ঢাল এলাকার বাসিন্দা ইমতিয়াজ খান বলেন, এভাবে বিঘার পর বিঘা জমি জলের তলায় চলে যেতে আগে দেখেনি। বহু জমির ধান নষ্ট হয়ে গেল।
উদ্যানপালন দপ্তর সূত্রে জানা গিয়েছে, জেলায় সব্জি চাষও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। জল জমে থাকায় অনেক সব্জি গাছ পচে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। ডিভিসি জল ছাড়া বন্ধ না করলে আরও ক্ষতি হয়ে যাবে। বিশেষ করে সদ্য ধান রোপণ করা জমিগুলির পরিস্থিতি সবচেয়ে খারাপ। ওই জমিগুলিতে আবার বীজ রোপণ করতে হবে বলে চাষিদের দাবি। বর্ধমানে জলমগ্ন ধানের জমি।-নিজস্ব চিত্র