নিজস্ব প্রতিনিধি, আসানসোল: অতিবর্ষণের পরই এবার ধসের আতঙ্ক গ্রাস করছে খনি অঞ্চলের বাসিন্দাদের। রানিগঞ্জ থেকে শুরু করে অণ্ডাল, পাণ্ডবেশ্বর— একের পর এক এলাকায় ধস নামছে। রবিবার সকালেও ধস নামে রানিগঞ্জ থানার বাঁশড়া এলাকায়। এক বাসিন্দার বাড়ির উঠোন ভূগর্ভে চলে গিয়েছে। বিশাল গর্ত তৈরি হয়েছে সেখানে। পরিবারের লোকজনদের অন্যত্র সরানো হয়েছে। পুরো এলাকা ঘিরে দিয়েছে ইসিএল। বাঁশড়া শুড়িপাড়া এলাকায় বহু মানুষের বাস। সেখানে ধস নামার কারণে ব্যাপক আতঙ্ক ছড়িয়েছে। যে কোনও মুহূর্তে বড়সড় বিপদের মুখে পড়তে হতে পারে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
শনিবার রাতে ধস নেমেছে অণ্ডাল থানার নর্থ জামবাদ কোলিয়ারি কোয়াটার সংলগ্ন এলাকায়। শুক্রবার ধসের ঘটনা ঘটেছিল অণ্ডাল থানার কাজোড়া ও পাণ্ডবেশ্বর বিধানসভার বহুলা বাদ্যকর পাড়ায়। অন্যদিকে, অতি বর্ষণের জেরে জেলায় ৯৪টি বাড়ি সম্পূর্ণ ভাবে ভেঙে পড়েছে। ৪৫৬টি বাড়ি আংশিক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
জেলাশাসক পোন্নমবলম এস বলেন, খনি অঞ্চলজুড়েই ধসের সমস্যা রয়েছে। প্রাথমিক ভাবে আমাদের লক্ষ্য পরিস্থিতির বিরুদ্ধে লড়াই করা। খনি অঞ্চলের পুনর্বাসন দেওয়ার বিষয়টিও গুরুত্ব দিয়ে পর্যালোচনা করা হচ্ছে।
রানিগঞ্জ ব্লকের আমরাসোঁতা পঞ্চায়েতের মহম্মদ ইসমাইল মিঁয়া প্রায় ৫০ বছর ধরে বাঁশড়া শুঁড়িপাড়ায় বসবাস করছেন। পাট্টা পাওয়া জমিতের তাঁর বাবার আমল থেকে বাসবাস। বাড়ি লাগোয়া কিছুটা জমিও রয়েছে। শুক্রবার থেকেই প্রবল বৃষ্টিতে জমির মাটি ধসতে শুরু করে। রবিবার সকালে তা বিশাল আকার নেয়। স্থানীদের দাবি, ৬০ বর্গফুট এলাকা প্রায় ২৫ ফুট বসে গিয়েছে। খবর পেয়ে চলে আসেন তৃণমূল যুব কংগ্রেসের জেলা সম্পাদক যীশু দত্ত। তিনি বলেন, এই এলাকায় ইসিএলে কয়লা উত্তোলন করার পর ভেতরে ঠিকভাবে বালি ভরাট না করার জন্যই এই ঘটনা। পুরো এলাকা ধসে গেলে বহুমানুষ সর্বস্বান্ত হবেন। আমরাসোঁতা গ্রাম পঞ্চায়েতের সিপিএমের প্রধান সঞ্জয় হেমব্রম বলেন, ইসিএলেকে বলে একটি কোয়ার্টারের ব্যবস্থা করা হয়েছে পরিবারটিকে রাখার জন্য। এদিন ছুটি থাকায় ইসিএলের আধিকারিকরা আসেননি। তাঁরা এলে ক্ষতিপূরণের দাবি করা হবে। যদিও এলাকাবাসীর একটি অংশের দাবি, এই এলাকায় রমরমিয়ে কয়লা লুটও হয়েছে। সেই কারণেও ধস হয়ে থাকতে পারে।
মহম্মদ ইসমাইল মিঁয়া বলেন, আমরা দরিদ্র পরিবার। সরকার ও ইসিএলের সাহায্য না পেলে পথে বসতে হবে। রানিগঞ্জ কয়লা খনি অঞ্চলে সমীক্ষাতে উঠে এসেছিল, প্রায় দেড়শোটি এলাকা ধস প্রবণ। ওইসব এলাকা থেকে মানুষদের সরিয়ে পুনর্বাসন দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়। প্রায় ৩০ হাজার পরিবার রয়েছে এই তালিকায়। দেড় দশক ধরে সেই কাজ সম্পন্ন করতে পারেনি এডিডিএ। ইসিএলের বিরুদ্ধেও অর্থ না দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। এডিডিএ’র নতুন চেয়ারম্যান হয়েই সেই কাজে গতি আনতে সচেষ্ট হন কবি দত্ত। এখন দেখার কবে পুনর্বাসন পান ধসপ্রবণ এলাকার মানুষজন। বাঁশড়া কোলিয়ারি এলাকায় ধস।-নিজস্ব চিত্র