সংবাদদাতা, দিনহাটা: জুলাই মাসে কোচবিহার জেলাজুড়ে ব্যাপক বৃষ্টি হয়েছে। যার জেরে অনেক জায়গায় নদীর পাড় ভাঙন শুরু হয়েছে। বিঘার পর বিঘা জমি নদীতে তলিয়ে গিয়েছে। শতাধিক বাড়ি নদীগর্ভে বিলীন হয়েছে। আরও ক্ষয়ক্ষতি এড়াতে জেলাজুড়ে ভাঙন ঠেকানোর উদ্যোগ নিয়েছে সেচদপ্তর। বাঁশ ও বালির বস্তা ফেলে চলছে কাজ।
গত মাসে ভিডিও কনফারেন্সে জেলার ভাঙন পরিস্থিতির খোঁজখবর নিয়েছিলেন মুখ্যমন্ত্রী। তারপরই ভাঙন ঠেকানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়। গত মাসে ৪০টি জায়গায় ভাঙন ভয়াবহ আকার নেয়। তার থেকে ১৯টি জায়গায় অস্থায়ীভাবে ভাঙন ঠেকানোর কাজ শুরু হয়েছে। ধাপে ধাপে অন্য জায়গায় কাজ হবে। এরজেরে কিছুটা হলেও স্বস্তিতে নদী পাড়ের বাসিন্দারা।
সেচদপ্তরের কোচবিহার ডিভিশনের নির্বাহী বাস্তুকার বদরুদ্দীন শেখ বলেন, ১.৭০ কোটি টাকায় ১৯টি ক্ষতিগ্রস্ত জায়গায় ভাঙন ঠেকানোর কাজ চলছে।
জেলার বার্ষিক গড় বৃষ্টিপাতের ৭৫ শতাংশ। যা ইতিমধ্যেই হয়ে গিয়েছে। জুলাই মাস পর্যন্ত কোচবিহারে ২২৫০ মিলিমিটার, মাথাভাঙায় ২১৪৭ এমএম, তুফানগঞ্জে ২৩৭০ এমএম বৃষ্টি হয়েছে। কোচবিহারে এক বছরে গড়ে ৩০১৬ মিলিমিটার বৃষ্টি হয়। জুলাইয়ে টানা বর্ষণে ফুলেফেঁপে উঠেছিল একাধিক নদী। তুফানগঞ্জের রায়ডাক, গদাধর, মাথাভাঙার মানসাই, কোচবিহারের তোর্সা সহ একাধিক নদীতে জলস্তর বেড়ে যায়। রায়ডাক ছাড়া অন্য কোনও নদীতে লাল সংকেত জারি না করা হলেও ভাঙন বেড়েছে প্রচুর। দ্রুত ওই স্থানগুলি সংস্কার করে ভাঙন রোখার চেষ্টা চলছে।
সেচদপ্তর সূত্রে জানা গিয়েছে, বাঁশ আর বালির বস্তা দিয়ে অস্থায়ীভাবে ভাঙন রোখার চেষ্টা হচ্ছে। তুফানগঞ্জের রায়ডাক নদীর উপর লাঙ্গল গ্রাম, গদাধর নদীর উপর কৃষ্ণপুর গ্রামে ক্ষয়ক্ষতি হয়েছিল। সেখানে বাঁধ সংস্কার চলছে। কোচবিহারের তোর্সা নদীর উপর ঘুঘুমারিতেও কাজ চলছে। বানেশ্বর গ্রাম পঞ্চায়েতের সিদ্ধেশ্বরীতে কাজ হচ্ছে। নন্দা নদীর বড় খলিসামারির এলাকায় ভাঙন রোখার চেষ্টা হচ্ছে। তুফানগঞ্জের ভজনের চড়া তিকনিয়ার পাট এলাকাতেও ভাঙন মোকাবিলার চেষ্টা করছে সেচদপ্তর। এই ব্যাপারে কোচবিহারের সাংসদ জগদীশ বসুনীয়া বলেন, বর্ষা চলছে, তাই আপতকালীনভাবে কাজ হচ্ছে। বর্ষার পর সেখানে স্থায়ী বাঁধ নির্মাণ হবে। নিজস্ব চিত্র।