• রাস্তা বেহাল, খাটিয়ায় রোগী নিয়ে হাসপাতালে
    বর্তমান | ০৫ আগস্ট ২০২৪
  • সংবাদদাতা, হরিশ্চন্দ্রপুর: শান্তি নেই! হরিশ্চন্দ্রপুর ২ ব্লকের মালিওর ২ গ্রাম পঞ্চায়েতের কাতলামারি গ্রামের বাসিন্দাদের যেন হাপিত্যেশের সীমা নেই। তাঁদের দাবি, গ্রামটি প্রায় ১০০ বছরের পুরনো। অথচ প্রায় তিন কিলোমিটার মাটির রাস্তা আজও পাকা হল না। রাস্তায় এতটাই কাদা হয়েছে, রবিবার গ্রামের এক বৃদ্ধ অসুস্থ হয়ে গেলে তাঁকে খাটিয়ায় চাপিয়ে হাসপাতালে নিয়ে যেতে হয়। বাসিন্দারা বলছেন, অসুস্থদের নিয়ে এটাই তাঁরা করে আসছেন দিনের পর দিন। বছরের অন্যান্য সময়ও কর্দমাক্ত পথ দিয়ে প্রাণের ঝুঁকি নিয়ে যাতায়াত করতে হয় আট থেকে আশি সকলকে। গ্রামের মধ্যে অ্যাম্বুলেন্স ঢোকে না। খারাপ রাস্তার জন্য ছেলেমেয়েদের বিয়েও ভেঙে যাচ্ছে। স্থানীয় জনপ্রতিনিধি থেকে শুরু করে প্রশাসনিক আধিকারিকদের একাধিকবার জানিয়েও কাজ হয়নি। প্রশাসন ও জনপ্রতিনিধিদের উদাসীনতার জন্যই দুর্দশার শেষ নেই বলে অভিযোগ করছেন বাসিন্দারা। তাঁদের কথায়, সাইকেল বা অন্য যানবাহন দূরের কথা, হেঁটেই পার হওয়া যায় না।


    পাকা করার দাবিতে রবিবার রাস্তায় ধানের চারা রোপণ করে বিক্ষোভ দেখান কাতলামারি গ্রামের বাসিন্দারা। তারপরেই অবশ্য দ্রুত রাস্তা মেরামতের কাজ করার আশ্বাস দিয়েছেন পঞ্চায়েতের উপপ্রধান। তাতে অবশ্য খুব একটা উচ্ছ্বাস দেখাতে পারছেন না বাসিন্দারা। তাঁরা বলছেন, এরকম প্রতিশ্রুতি আগেও অনেকবার দেওয়া হয়েছে। স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, কাতলামারি গ্রাম থেকে ট্যাংটা ঘাট পর্যন্ত প্রায় তিন কিলোমিটার কাঁচা রাস্তা বেহাল। ৩০ বছর ধরে বাসিন্দারা সেটি পাকা করার দাবি জানিয়ে আসছেন। কিন্তু তাঁদের অবস্থার কোনও পরিবর্তন হয় না। গত পঞ্চায়েত নির্বাচনের সময় নেতাদের কাছে এই রাস্তা মেরামতের দাবি জানানো হয়েছিল। তাঁরা আশ্বাসও দিলেও কাজ হয়নি। স্থানীয় বাসিন্দা তারিক আনোয়ারের আক্ষেপ, এই রাস্তা পাকা করার দাবি জানাতে জানাতে আমরা ক্লান্ত হয়ে পড়েছি। ইতিমধ্যে আমার দাদুর মৃত্যু হয়েছে। বাবারও যথেষ্ট বয়স হয়েছে। তিনিও রাস্তা দেখে যেতে পারবেন কি না বলতে পারছি না। কেউ আমাদের দাবিকে গুরুত্বই দেয় না। পঞ্চায়েত থেকে ব্লকস্তরে জানিয়েও কাজ হচ্ছে না। বিধানসভা নির্বাচনের আগে মেরামত না হলে আমরা ভোট বয়কট করব। গ্রামের অনেকে পেশায় টোটোচালক। কিন্তু বর্ষায় সময় তাঁরা টোটো বের করতে না পারায় রোজগার প্রায় বন্ধ। পরিবারে চরম অর্থসংকট দেখা দিয়েছে। এলাকার মানুষের ব্যবসাও বন্ধ হয়ে গিয়েছে বেহাল রাস্তার জন্য। মালিওর ২ গ্রাম পঞ্চায়েতের উপপ্রধান বাহারুদ্দিনের কথায়, আমি ব্লক প্রশাসনকে জানিয়েছি। ‘দিদিকে বলো’য় একাধিকবার ফোন করে অভিযোগ করেছি। তিন মাস আগে ব্লক আধিকারিকরা এসে রাস্তাটি পরিদর্শন করে গিয়েছেন। শীঘ্রই রাস্তা মেরামতের কাজ শুরু হবে। 


    হরিশ্চন্দ্রপুর ২ এর বিডিও তাপসকুমার পাল বলেন, রাস্তাটি পরিদর্শন করা জেলায় রিপোর্ট পাঠানো হয়েছে। টেন্ডার হলেই কাজ শুরু হবে।  খাটিয়া করে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে রোগীকে। - নিজস্ব চিত্র।
  • Link to this news (বর্তমান)