• ডিভিসির ছাড়া জলে বন্যা পরিস্থিতির অবনতি রাজ্যে
    বর্তমান | ০৫ আগস্ট ২০২৪
  • নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা ও আসানসোল: নিম্নচাপ উত্তরপ্রদেশের দিকে সরে যাওয়ায় দক্ষিণবঙ্গের পাশাপাশি ঝাড়খণ্ডেও বৃষ্টি কমেছে। কিন্তু পশ্চিমবঙ্গ সরকারের আপত্তি উড়িয়ে রবিবার ডিভিসি মাইথন ও পাঞ্চেত বাঁধ থেকে জল ছাড়ার পরিমাণ আরও বাড়িয়েছে। ফলে বৃষ্টি কমলেও দক্ষিণবঙ্গে বন্যা পরিস্থিতির ক্রমশ অবনতি হচ্ছে। রবিবার সকালে ১ লক্ষ ২০ হাজার কিউসেক জল ছাড়া হয়েছিল। রাতে তা কমিয়ে ৭৫ হাজার কিউসেক করা হয়।  কয়েকদিনের ভারী বৃষ্টির জেরে হাওড়া, হুগলি, দুই বর্ধমান সহ বিভিন্ন জেলার বিস্তীর্ণ অংশ আগেই জলমগ্ন হয়ে রয়েছে। তার উপর ডিভিসি যেভাবে জল ছাড়ার পরিমাণ বাড়িয়েছে, তাতে দামোদর অববাহিকা অঞ্চলের বহু এলাকা প্লাবিত হওয়ার আশঙ্কা জোরালো হয়েছে। ডিভিসির ছাড়া জলের বেশিরভাগটাই আসছে পাঞ্চেত থেকে। ঝাড়খণ্ড সরকারের নিয়ন্ত্রণে থাকা তেনুঘাট বাঁধ (দামোদরের উপর) থেকে বেশি পরিমাণে জল ছাড়ার কারণেই পাঞ্চেত থেকে এত জল ছাড়তে হচ্ছে বলে দাবি করেছে ডিভিসি। 


    মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এদিন ঝাড়খণ্ডের মুখ্যমন্ত্রী হেমন্ত সোরেনের সঙ্গে বন্যা পরিস্থিতি নিয়ে কথা বলেন। হেমন্তকে তিনি বলেন, ঝাড়খণ্ডের ছাড়া জল বাংলাকে ভাসিয়ে দিচ্ছে। তেনুঘাট থেকে আচমকা বিপুল পরিমাণ জল ছাড়া হচ্ছে। এটা ‘ম্যান মেড’। বিষয়টিতে নজর দিতে ঝাড়খণ্ডের মুখ্যমন্ত্রীকে অনুরোধও করেন তিনি। এর মধ্যে ঘোলা জলে মাছ ধরতে নেমে পড়েছে বিজেপি। অসমের মুখ্যমন্ত্রী তথা বিজেপি নেতা হিমন্ত বিশ্বশর্মা সামাজিক মাধ্যমে পোস্ট করে বাংলার মুখ্যমন্ত্রীর দাবি নস্যাৎ করার চেষ্টা করেন। তিনি লেখেন, জলের কোনও সীমা নেই। জল নীচের দিকেই প্রবাহিত হয়। অসমে বন্যা হয়েছে অরুণাচল প্রদেশ ও ভূটান থেকে জল ঢোকার জন্য। রাজনৈতিক মহল মনে করছে, জাতীয় রাজনীতিতে ‘ইন্ডিয়া’ জোটে থাকা হেমন্ত সোরেনের পাশে দাঁড়িয়ে মমতাকে কোণঠাসা করার কৌশলী চেষ্টা চালিয়েছেন হিমন্ত। যদিও তৃণমূল তা ‘অক্ষম চেষ্টা’ বলে উড়িয়ে দিয়েছে। 


    ডিভিসির তরফে বলা হয়েছে, তেনুঘাট থেকে এক লক্ষ কিউসেক জল ছাড়ায় পাঞ্চেত বাঁধের জলাধার উপচে পড়ছে। তবে বরাকর নদীর উপর মাইথন বাঁধ থেকে মাত্র ৬ হাজার কিউসেক হারে জল ছাড়া হচ্ছে। সূত্রের খবর, রবিবার তেনুঘাট থেকে জল ছাড়ার পরিমাণ কমিয়ে ২৮ হাজার কিউসেক করা হয়েছে। এর ফলে পাঞ্চেত থেকে জল ছাড়ার পরিমাণ কখন ও কতটা কমানো হবে, তা নিয়ে অবশ্য ডিভিসির চিফ ইঞ্জিনিয়ার এ কে দুবে কোনও মন্তব্য করতে চাননি। প্রসঙ্গত, তেনুঘাট বাঁধের জলধারণ ক্ষমতা কম। বৃষ্টিতে দামোদরের জলস্তর কিছুটা বাড়লেই সেখান থেকে জল ছাড়তে হয়। 
  • Link to this news (বর্তমান)