• উপরে বড় মাছ, নীচে থরে থরে সাজানো খোকা ইলিশ, চালান হয়ে যাচ্ছে বাজারে
    বর্তমান | ০৫ আগস্ট ২০২৪
  • নিজস্ব প্রতিনিধি, দক্ষিণ ২৪ পরগনা: সমুদ্র থেকে বন্দরে ট্রলার আসতেই  পটাপট চার-পাঁচটি ক্রেট নামিয়ে দিলেন মৎস্যজীবীরা। ওইসব ক্রেট থেকে উপচে পড়ছে বড় ইলিশ। যা দেখে চোখ ধাঁধিয়ে উঠবে। কয়েকজন সেই ক্রেট মাথায় তুলতে গিয়েই বুঝতে পারেন, উপরের দিকে বড় ইলিশ থাকলেও নীচের দিকে ‘পিল’ আছে। সেই ক্রেটগুলি নামখানার আড়তে ঢুকছে না। বরং লরিতে করে চলে যাচ্ছে ডায়মন্ডহারবারের দিকে। মাঝপথে নগেন্দ্রবাজারের কাছে লরি থামিয়ে আলাদা করা হচ্ছে বড় মাপের রুপোলি ফসল আর ‘পিল’। পিল আসলে খোকা ইলিশের সাংঙ্কেতিক নাম। মৎস্যজীবী, ট্রলার মালিকরা এই শব্দবন্ধকেই ব্যবহার করেন। পাইকারি ব্যবসায়ীদের একাংশ ওই ‘পিল’ বোঝাই ক্রেটই বিক্রি করে দিচ্ছেন।


    কেউ কিছু জানার আগে এভাবেই বাজার ঢুকে পড়ছে ১০০-২০০ কিংবা ৩০০ গ্রাম ওজনের খোকা ইলিশ। দেদার বিকোচ্ছে সেসব। সূত্রের খবর, সমুদ্র থেকে কখন কত পরিমাণ ইলিশ ও ‘পিল’ আসছে, ট্রলার মালিকদের থেকে তা আগেই জেনে নেন ব্যবসায়ীরা। খোকা ইলিশ ধরা ও বিক্রির অভিযোগে পাছে ধরা পড়ে, তাই সন্ধ্যার পর লরি থেকে খালাস করা হয় এই মাছ। তবে নগেন্দ্রবাজারের আড়তেও ‘পিল’ ঢোকানো হয় না। কারণ এ খবর চাউর হয়ে গেলে বিপদ তৈরি হতে পারে। 


    মৎস্যজীবী সংগঠনগুলির দাবি, ক্রেটের নীচের দিকে খোকা ইলিশ রেখে তার উপর বড় মাছ দিয়ে ঢেকে রাখে অসাধু মৎস্যজীবী ও ট্রলার মালিকদের একাংশ। এভাবেই বন্দর থেকে বাজারে চালান হয়ে যায় খোকা ইলিশ। পুলিস ও প্রশাসনের চোখ ফাঁকি দিয়েই এই কাজ চলছে বলে দাবি মৎস্যজীবী সংগঠনগুলির। তাদের বক্তব্য, এই অসাধু কারবারিদের জন্যই খোকা ইলিশ রমরমিয়ে বিক্রি হচ্ছে বিভিন্ন বাজারে। এভাবে চলতে থাকলে এই মরশুমেও ভালো এবং ওজনদার ইলিশ পাওয়া যাবে না। 


    গত বছর দেখা গিয়েছিল, ট্রলারগুলি খোকা ইলিশের ক্রেট মাঝসমুদ্রে হাতবদল করে নামখানার বদলে কাকদ্বীপে নিয়ে যাচ্ছে। এবার অন্য পথ বেছে নিয়েছেন মৎস্যজীবারা। আইনকে বুড়ো আঙুল দেখিয়ে যেভাবে মরশুমের শুরুতেই খোকা ইলিশ ধরার ধুম পড়েছে, তাতে এবারও বাঙালির পাতে ভালো মানের ইলিশ উঠবে কি না, তা নিয়ে সংশয় থেকে যাচ্ছে। কাকদ্বীপ মৎস্যজীবী উন্নয়ন সমিতির সম্পাদক বিজন মাইতি বলেন, আমরা বারে বারে ছোট মাপের ইলিশ না ধরার জন্য আবেদন করছি। তবুও মৎস্যজীবীদের একাংশ এই কাজ করে চলেছে। দ্রুত তাদের চিহ্নিত করে ব্যবস্থা নেওয়া হোক, না হলে বাকিরা এবারও ভুগবে।
  • Link to this news (বর্তমান)