১০ বছর চাকরির পর মহিলা কনস্টেবলদের নিজ জেলায় পোস্টিং, নতুন নীতি আসছে রাজ্য পুলিসে
বর্তমান | ০৫ আগস্ট ২০২৪
নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: ১০ বছর পর মহিলা কনস্টেবলদের নিজের জেলায় পোস্টিংয়ের নীতি আনতে চলেছে রাজ্য পুলিস। বিবাহিত বা সন্তানসম্ভবা মহিলা কনস্টেবলরা যাতে পছন্দসই জায়গায় বদলি হতে পারেন, সেদিকেও বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে বলে নবান্ন সূত্রে খবর। সেই সঙ্গে গ্রামীণ এলাকায় মেয়েদের বিক্ষোভ সামলাতে বাড়তি মহিলা পুলিস রাখার উপরও জোর দেওয়া হয়েছে বলে খবর।
গ্রামীণ এলাকায় ছোটোখাটো ইস্যুতে বিক্ষোভে নেমে পড়ছেন মহিলারা। মহিলা কনস্টেবল সংখ্যায় কম থাকায় পুরুষ পুলিসকর্মী দিয়েই পরিস্থিতি সামাল দিতে হচ্ছে। পুলিসকর্তারা চাইছেন, ফোর্সের সমবন্টন হোক। নবান্ন সূত্রে খবর, কমিশনারেটগুলিতে মহিলা পুলিসকর্মীর সংখ্যা যেখানে ৩০ শতাংশের কাছাকাছি, সেখানে গ্রামীণ এলাকায় এই হার প্রায় ১৫ শতাংশ। তাই গ্রামীণ এলাকায় মহিলা ফোর্সের সংখ্যা বাড়াতে তৎপর হয়েছে নবান্ন। গ্রামীণ এলাকার থানাগুলিতে কতজন মহিলা পুলিসকর্মী রয়েছেন, তার তালিকা তৈরি করা হয়েছে। কোনও নির্দিষ্ট এলাকার জনংসখ্যা এবং অপরাধপ্রবণতা বিশ্লেষণ করে কোথায় কত মহিলা পুলিস দেওয়া হবে, তা ঠিক হবে। মহিলা পুলিসকর্মীদের চেঞ্জিং রুম ও রেস্টরুমের ব্যবস্থা গ্রামীণ এলাকার বহু থানায় নেই। অনেক থানায় তাঁদের শৌচালয় অনেক দূরে। এসব পরিকাঠামো দ্রুত গড়ে তোলার উপর জোর দেওয়া হচ্ছে।
সরাসরি সাব ইনসপেক্টরের চাকরি পাওয়া অফিসাররা বছরের পর বছর কমিশনারেটে থেকে যাচ্ছেন। গ্রামীণ এলাকায় অনেকের কাজ করায় অনীহা রয়েছে। অথচ রাজ্য পুলিসে ৩৫০টি ওসি পরিচালিত থানা রয়েছে, যার সবক’টি কমিশনারেট এলাকার বাইরে। এখানে সিনিয়র এসআইদের থানার দায়িত্ব পাওয়ার সুযোগ রয়েছে। কর্তারা সিদ্ধান্ত নিয়েছেন, গ্রামীণ ও কমিশনারেট এলাকায় আধিকারিকদের বলা হবে, ট্রান্সফার নিতে ইচ্ছুক পুলিসকর্মীদের তালিকা স্বরাষ্ট্রদপ্তরে পাঠাতে হবে। তার ভিত্তিতে দু’টি জায়গাতেই কুড়ি শতাংশ পুলিসকর্মীকে বদলি করা হবে বলে নবান্ন সূত্রে খবর।