সাতসকালে সন্ধিপুজো, অষ্টমীর অঞ্জলি নিয়ে ধন্দে বাঙালি
বর্তমান | ০৫ আগস্ট ২০২৪
নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: ‘এত ভোরে কীভাবে অঞ্জলি দিতে যাব?’ দুর্গাপুজোর নির্ঘণ্ট শুনে ঝাঁঝিয়ে উঠলেন বেহালার গৃহবধূ সোমাশ্রী দাস। তিনি একা নন, এবার মহাষ্টমীর অঞ্জলি নিয়ে একই উদ্বেগ বহু মানুষের। কারণ, এবার সন্ধিপুজো সাতসকালে। অঞ্জলি দিতে হবে তার আগে। তাই পুরোহিত মশাই মণ্ডপে কখন আসবেন, সেটাই এখন বাঙালির লাখ টাকার প্রশ্ন। সেই সঙ্গে চারদিনের পুজো এবার কেটেছেঁটে তিনদিনে চলে আসা নিয়েও রীতিমতো ধন্দে আম বাঙালি থেকে পুজো উদ্যোক্তা— সবাই। গুপ্ত প্রেস পঞ্জিকা মতে বলা হয়েছে, দেবীর দর্পণ বিসর্জন ১২ অক্টোবর। সেক্ষেত্রে পুজো এবার তিনদিন। কিন্তু পুজোকর্তারা চারদিনের পুজো ধরেই প্রস্তুতি শুরু করে দিয়েছেন। তবে কঠিন হিসেব শুরু হয়েছে ১১ অক্টোবর ভোরে নির্ধারিত অষ্টমীর সন্ধিপুজো নিয়ে। ওই দিন কয়েক ঘণ্টার মধ্যে সেই তিথি ফুরোবে। সন্ধিপুজো শেষ হলে শুরু হবে নবমী পুজো। গুপ্ত প্রেস পঞ্জিকা অনুযায়ী, সকাল ৯টা ২৭ মিনিটের মধ্যে অষ্টমীর পুজো, সন্ধি পুজো শেষ করে নবমীর পুজোর সূচনা করে দিতে হবে। এই পঞ্জিকার প্রধান রাজগণক অচিন্ত্য ভট্টাচার্য বলেন, ‘সংক্ষিপ্ত সময়ে পুজো করার বিধান এবার। সেক্ষেত্রে সূর্যোদয়ের দেড় ঘণ্টা আগে থেকেই পুজোয় বসা যেতে পারে। অরুণোদয়ের এই মুহূর্ত থেকে মুনিঋষিরা তপস্যায় বসেন।’ শাস্ত্রজ্ঞ যুগলকিশোর শাস্ত্রী বলেন, ‘অতি অল্প সময়ের মধ্যে অষ্টমীর পুজো শেষ করে সন্ধিপুজো শুরু করে দিতে হবে। তারপর আবার নবমীর পুজো। যাঁরা পারবেন, তাঁরা সাতসকালে মণ্ডপে এসেই অঞ্জলি দেবেন। না পারলে বেলার দিকে এসে নবমীতে অঞ্জলি দেওয়া যাবে।’
পুজোর এই নির্ঘণ্টে মাথায় হাত বেহালার সোমাশ্রীদেবী থেকে সোদপুরের তরুণী নূপুর অধিকারীর। সোমাশ্রী যেমন বললেন, ‘বছরভর অপেক্ষা করে থাকি, মণ্ডপে গিয়ে অষ্টমীর অঞ্জলি দেব বলে। নতুন পোশাকে নিজে তৈরি হব, মেয়েকে তৈরি করব, তারপর তো মণ্ডপে যাব। রাত থেকে উঠে তো আর সাজতে পারব না!’ নূপূরের কথায়, ‘অষ্টমীতে সাধারণত ঠাকুর দেখতে বেরনোর প্রোগ্রাম রাখি না। সেদিন সকাল ১০টার দিকে পাড়ার মণ্ডপে চলে যাই। অঞ্জলি দিয়ে ঘরে ফিরি সপরিবারে। এবার কী হবে তাহলে!’ বিষয়টি নিয়ে উদ্বিগ্ন পুজো কমিটির কর্তারাও। বাগবাজারের পুজোকর্তা অভয় ভট্টাচার্যের বক্তব্য, ‘অষ্টমী-সন্ধিপুজো-নবমী একত্রিত করেই যাতে ভক্তরা অঞ্জলি দিতে পারেন, তার যাবতীয় ব্যবস্থা করা হবে।’ একডালিয়া এভারগ্রিনের কর্মকর্তা স্বপন মহাপাত্র বলেন, ‘এবার ভোররাত থেকে ভোগ রান্নার কাজে নেমে পড়তে হবে। পুজোর তিন অংশের জন্য তিনরকম বাসনপত্রের ব্যবস্থা রাখতে হচ্ছে।’ কলেজ স্কোয়ার পুজো কমিটির বিকাশ মজুমদারও ভোগের আয়োজন নিয়ে চিন্তিত। বেশিরভাগ কমিটি গুপ্ত প্রেস পঞ্জিকা মেনে যাবতীয় আয়োজন করে। তবে বিশুদ্ধ সিদ্ধান্ত পঞ্জিকা মতে অবশ্য সন্ধিপুজো পড়েছে বেলা ১১টা ৪৩ মিনিটে। এই পঞ্জিকা মতে পুজো এবারও চারদিন।