• রেশন দুর্নীতির তদন্ত, আনিসুরদের কোম্পানির লেনদেনে নজর ইডির
    বর্তমান | ০৫ আগস্ট ২০২৪
  • নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা, বারাসত: রেশন দুর্নীতিকাণ্ডে ধৃত দেগঙ্গায় তৃণমূলের ব্লক সভাপতি আনিসুর রহমান ওরফে বিদেশ ও আলিফ নূর ওরফে মুকুল ২০১৫ থেকে একের পর কোম্পানি খুলেছেন। সবক’টিতেই তাঁরা ডিরেক্টর ছিলেন। এগুলির মাধ্যমে কোটি কোটি টাকার লেনদেন হয়েছে। তদন্তে নেমে এই তথ্য হাতে এসেছে ইডির। কোম্পানিগুলির ব্যালান্স শিট এখনও তদন্তকারীদের নজরে। কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থার নজরে এসেছে, ২০০৭ সালে দুই ভাই চালকল ব্যবসায় নামলেও তখন তাঁদের মাত্র দু’টি কোম্পানি ছিল। তাতে বিরাট অঙ্কের কোনও লেনদেন হতো না। ইডির দাবি, ওই সময় থেকেই তাঁরা দুর্নীতি করে আসছেন। তখন তাঁরা বামফ্রন্ট সরকারের কাছ থেকে ধান পেতেন। চাল তৈরির পর কিছু বস্তা নিজের কাছে রেখে দিতেন। হিসাব মেলাতে বাজে চালের বস্তা সরবরাহ করতেন। দুর্নীতির মাত্রা কম হওয়ায় তা নজরে আসেনি। পরবর্তী সময়ে তাঁদের সঙ্গে খাদ্যমন্ত্রী জ্যোতিপ্রিয় মল্লিকের যোগাযোগ বাড়ে। ইডির দাবি, ২০১৫ থেকে দুই ভাই একের পর এক কোম্পানি খুলতে শুরু করেন। সব মিলিয়ে দশটির বেশি কোম্পানি খুলে বসেন এই ক’বছরে। ২০১৬-২২ এই ছ’বছরে বিপুল পরিমাণ টাকার লেনদেন হয়েছে এই কোম্পানিগুলির অ্যাকাউন্টে। 


    এদিকে আনিসুরের একটি ভিডিও ভাইরাল হয়েছে। (ভিডিওর সত্যতা বর্তমান যাচাই করেনি) সেখানে দেখা যাচ্ছে আনিসুর বলছেন, ‘পার্টির নেতৃত্ব প্রশাসনকে যেভাবে দিশা দেখাবে প্রশাসন সেভাবেই চলবে। প্রশাসন নিজের ইচ্ছামতো চলতে পারবে না। নেতৃত্বরাই শেষ কথা বলবে।’  


    উল্লেখ্য সম্প্রতি দেগঙ্গা এলাকায় আনিসুরই হয়ে উঠেছিলেন একচ্ছত্র অধিপতি। তাঁর গ্রেপ্তারের পরই ভাইরাল ওই ভিডিও নিয়ে তৈরি হয়েছে বিতর্ক। ভিডিও প্রকাশ্যে আসতেই সরব হয়েছেন বিরোধীরা। যদিও এনিয়ে তৃণমূল কোনও মন্তব্য করেনি। বারাসতের বিজেপি নেতা তাপস মিত্র বলেন, ‘বীরভূমের অনুব্রত মণ্ডলও একসময় এমন ঔদ্ধত্য দেখাতেন।’  অন্যদিকে সিপিএম নেতা আহমেদ আলি বলেন, ‘দল যা নির্দেশ দিয়েছিল আনিসুর তাই মাইক ধরে কর্মীদের নির্দেশ দিয়েছেন।’


    এদিকে ‘দেগঙ্গার যুবরাজ’ আনিসুরের গ্রেপ্তারের পরই মুষড়ে পড়েছেন তাঁর দলের কর্মীরা। এমনকী তাঁর হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপও নীরব।
  • Link to this news (বর্তমান)