• বিপজ্জনক বাড়ি ভাঙা নিয়ে বিতর্ক মালিক-ভাড়াটিয়া বিবাদ চরমে
    বর্তমান | ০৫ আগস্ট ২০২৪
  • নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: দমদম স্টেশনের অদূরে একটি বিপজ্জনক বাড়ির একাংশ ভাঙা নিয়ে মালিক-ভাড়াটিয়া বিবাদ চরমে উঠেছে। স্টেশন সংলগ্ন গণপতি শূর কলোনির সাউথ সিঁথি রোডে অবস্থিত ওই তিনতলা বাড়িটি। নীচের অংশে ২১টি দোকান। মিষ্টি, জামা-কাপড়, শাড়ি, কেক-পেস্ট্রি থেকে গয়না, ওষুধ, চায়ের দোকানও রয়েছে সেখানে। দোতলায় বেশ কয়েকজন আবাসিকও থাকেন। আগে বাড়িটিতে কুমার আশুতোষ (ব্রাঞ্চ) নামে একটি স্কুল চলত। করোনার সময় ওই প্রাথমিক বিদ্যালয় বন্ধ হয়ে যায়। গোটা বাড়িটির বেহাল দশা। উপরের দিকে দেওয়াল ভেদ করে গাছ গজিয়ে উঠেছে। অভিযোগ, সম্প্রতি বিরাট পুলিস বাহিনীর উপস্থিতিতে কোনও আগাম নোটিস ছাড়াই পুরসভা বাড়িটির উপরের অংশ ভেঙে দিয়েছে। দোকানদার ইতু চক্রবর্তী বলেন, ‘আগে থেকে আমাদের কিছু জানানো হয়নি। হঠাৎ করে এসে তাঁরা দোকান থেকে বেরিয়ে যেতে বলেন। আশপাশের দোকান বন্ধ করে দেওয়া হয়। যেদিন বিপজ্জনক বাড়ির নোটিস লাগিয়েছে, সেদিনই ভাঙা শুরু করেছে।’ স্থানীয় ২ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলার কাকলি সেন বলেন, ‘অনেক আগেই ওই বাড়িটি বিপজ্জনক ঘোষণা করা হয়েছে। বাড়িটির অবস্থা খুব খারাপ। কিন্তু মেরামত হয়নি। কোনও খারাপ ঘটনা যে কোনওদিন ঘটতে পারে। তাই, আইন অনুসারে পুরসভা পদক্ষেপ করেছে।’ 


    বাড়ির মালিক এল কে টোডি বলেন, ‘১০০ বছর পুরনো বাড়ি। তাই ভগ্নদশা। ওই এলাকা খুবই জনবহুল। বাড়ি ভাঙতে গিয়ে কেউ আহত বা নিহত হলে তো সরকার আমার উপর দায় চাপাবে।’ তাঁর দাবি, তিনি অনেকবার দোকানদারদের সঙ্গে আলোচনা করেছেন। কিন্তু রফাসূত্র বেরয়নি। তিনি আরও বলেন, ‘আমি পুরসভাকে বলেছিলাম,  ভেঙে দিন। আইন অনুসারে পুরসভা পদক্ষেপ করেছে। আমি কোনও দোকানদারকে দোষ দিচ্ছি না। কিন্তু ভেঙে পড়লে আমার যেন কোনও দায় না থাকে।’ পুরসভা সূত্রে খবর, নোটিস দেওয়ার পরেও বাড়ি মেরামত না হলে তখন ‘বিপজ্জনক’ বোর্ড লাগিয়ে দেওয়া হয়। নতুন করে নোটিসও দেওয়া হয়। এরপরেও কোনও ব্যবস্থা না হলে পুরসভার টাউন প্ল্যানিং বিভাগের আধিকারিকদের অনুমতি নিয়ে বিপজ্জনক অংশ ভেঙে দেওয়া হয়। এক পুরকর্তা বলেন, ‘এভাবে আচমকা কোনও কাজ হয় না। এমনটা হতে পারে, নোটিস পেয়ে বাড়ির মালিক কিছু না করতে পেরে পুরসভাকে ভাঙার অনুমতি দিয়েছেন।’
  • Link to this news (বর্তমান)