সংবাদদাতা, কাকদ্বীপ: সঙ্কটে পিকনিক স্পট নিউ বকখালি। জঙ্গল সহ চর এলাকা ধীরে ধীরে নদীতে ধসে বিলীন হয়ে যাচ্ছে। কাকদ্বীপের নতুন পিকনিক স্পট নিউ বকখালিতে এখন হাতে গোনা কিছু ঝাউ গাছ ও ম্যানগ্রোভ দাঁড়িয়ে রয়েছে। অথচ কিছুদিন আগে পর্যন্ত মুড়িগঙ্গা নদীর এই চরে ঘন ম্যানগ্রোভের জঙ্গল ছিল। স্থানীয় বাসিন্দাদের দাবি, আগামী দুই থেকে তিন বছরের মধ্যে চরের বাকি জঙ্গলটুকুও নদীগর্ভে চলে যাবে। স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, অতীতে এই জঙ্গলের পিছনে মাটি ফেলে একটি মাঠ তৈরি করা হয়েছিল। ২০১৫ সাল নাগাদ ওই মাঠ থেকে মুড়িগঙ্গা নদীর তীরে যেতে প্রায় আধঘণ্টা সময় লাগত। সেই সময় ওই এলাকায় ঘন জঙ্গল ছিল। বনদপ্তরের পক্ষ থেকে প্রচুর গাছ লাগানো হয়েছিল। ২০১৮ সাল নাগাদ পর্যটন কেন্দ্র গড়ে তোলার লক্ষ্যে ওই এলাকাটিকে আরও সুন্দর করে সাজিয়ে তোলা হয়। নতুন ওই পিকনিক স্পটের নাম দেওয়া হয় নিউ বকখালি। এখনও পর্যন্ত বছরের বিশেষ দিনগুলিতে প্রচুর মানুষ এই নিউ বকখালিতে এসে পিকনিকে মেতে ওঠেন।
স্থানীয় এক বাসিন্দা মহাদেব সামন্ত বলেন, প্রতিটি প্রাকৃতিক বিপর্যয়ের সময় জঙ্গল সহ এই নদীর চরে ধস নামছে। পূর্ণিমা ও অমাবস্যার কোটালের সময়ও একই চিত্র দেখা গিয়েছে। এখন ওই নদীর চর জুড়ে বড় বড় ফাটল দেখা দিয়েছে। প্রায় প্রতিদিনই অল্প অল্প করে মাটি ধসে পড়ছে নদীতে। এভাবে চলতে থাকলে আগামী কয়েক বছরের মধ্যে সম্পূর্ণ জঙ্গল সহ এই চর নদীগর্ভে চলে যাবে। এরপরই বুধাখালি গ্রাম নদীর কাছাকাছি চলে আসবে। সরকারের উচিত এখনই পদক্ষেপ নেওয়া।
দক্ষিণ ২৪ পরগনার জেলা পরিষদের সহকারী সভাধিপতি শ্রীমন্তকুমার মালি বলেন, ওই এলাকায় পর্যটন কেন্দ্র গড়ে তোলার ভাবনা রয়েছে। কাকদ্বীপের বিধায়ক মন্টুরাম পাখিরা একটি বৈঠকে ওই এলাকায় সুরক্ষিত কংক্রিটের বাঁধ তৈরি করার বিষয়ে প্রস্তাব রেখেছেন। তাই বাঁধ তৈরি করার পরিকল্পনাও রয়েছে। নিজস্ব চিত্র