সুন্দরবনই দ্বিতীয় ঘর গোলিয়াথ হেরনের, নিরিবিলিতে ছুটি কাটাতে সুদূর পূর্ব আফ্রিকা থেকে পাড়ি
বর্তমান | ০৫ আগস্ট ২০২৪
নিজস্ব প্রতিনিধি, দক্ষিণ ২৪ পরগনা: সুন্দরবন যেন তাদের দ্বিতীয় ঘর। সুযোগ পেলেই ছুটি কাটাতে এই বাদাবনে চলে আসে তারা। কিছুদিন সময় কাটিয়ে ফের চলে যায় নিজেদের ডেরায়। সুন্দরবনের অন্যতম ট্যুরিস্ট হয়ে উঠেছে পূর্ব আফ্রিকার এই পাখি। নাম গোলিয়াথ হেরন। শান্ত মেজাজের এই প্রাণী অবশ্য ‘প্রাইভেসি’র সঙ্গে আপস করে না। গত কয়েক বছর ধরে সুন্দরী গাছের জঙ্গলে দেখা মিলছে বক প্রজাতির এই গোলিয়াথ হেরনের। আগে একটি-দু’টি করে উড়ে আসত। মাঝে একটা বড় সময় আবার তাদের দেখাই মেলেনি। বনকর্মী ও পক্ষীপ্রেমীরা ধরেই নিয়েছিলেন, গোলিয়াথ হেরন বোধহয় ‘ডেস্টিনেশন’ বদল করেছে, সুন্দরবন তাদের নাপসন্দ।
পাখি বিশেষজ্ঞরা বলছেন, গভীর জঙ্গলই এই পাখির নিরাপদ আশ্রয়স্থল। তারা চায় নিরিবিলি পরিবেশ, যেখানে তাদের কেউ বিরক্ত করবে না। এমন পরিবেশ পেলে দিব্যি ছুটি কাটাতে পারে তারা। সেক্ষেত্রে সুন্দরবনের মতো বিশাল বনভূমি এই চত্বরে আর কোথায়? ফলে আজ না হয় কাল তারা ফিরে আসবেই। হয়তো এসেওছে। কিন্তু গভীর জঙ্গলে থাকায় কারও চোখে পড়েনি।
গোলিয়াথ হেরনের সুন্দরবনে আসা নিয়ে গবেষণাও শুরু হয়েছিল। পর পর তিন বছর এই তাদের দেখা মিললেও ২০২২ সালের পর কারও আর চোখে পড়েনি। সেটাই রেকর্ড হয়েছিল। কিছুদিন আগে গোসাবা ১ নম্বর কম্পার্টমেন্ট জঙ্গলে হঠাৎ করে বক জাতীয় এই পাখির দেখা মিলেছে। একটি গোলিয়াথ হেরন নদীর ধারে ঘুরে ঘুরে মাছ ধরছিল। সুন্দরবন ব্যাঘ্র প্রকল্পের বিদ্যা রেঞ্জের বনকর্মী সন্ন্যাসী গায়েনের ক্যামেরায় ধরা পড়েছে সেই ছবি। গোলিয়াথ হেরনের আগমন নিয়ে শেষ পর্যন্ত পাখি বিশেষজ্ঞদের কথাই মিলে গেল।
আর পাঁচটা বকের মতো দেখতে হলেও তার গলা, মাথা ও পেটে লালচে আভা রয়েছে। পাখিটির ডানা কালচে রঙের। তাই বাকিদের থেকে সহজেই একে আলাদা করা যায়। পাখিটি বিশাল আকৃতির। বিশেষজ্ঞরা জানিয়েছেন, কাঁকড়া, ছোট মাছ, ব্যাঙ, গিরগিটি ইত্যাদি তাদের মূল খাবার। এই পাখিকে দেশের আর কোনও বনাঞ্চল বা পাখিরালয়ে দেখা গিয়েছে, এমন কোনও রেকর্ড নেই। এর থেকেই স্পষ্ট যে, সুন্দরবনই হল তাদের অন্যতম ‘হলিডে ডেস্টিনেশন’। এত নিরিবিলি পরিবেশ দেশের আর কোনও জঙ্গলে নেই। তবে ভাগ্য সহায় হলে তবেই সুন্দরবনের জঙ্গলে এক ঝলক দেখা যাবে গোলিয়াথ হেরনকে।