• গ্রামাঞ্চলে ডেঙ্গুর ২৭ লক্ষ আঁতুড়ঘর, ১ কোটি বাড়িতে সমীক্ষা, উদ্বেগে পঞ্চায়েত দপ্তর
    বর্তমান | ০৫ আগস্ট ২০২৪
  • সৌম্যজিৎ সাহা, দক্ষিণ ২৪ পরগনা: গত কয়েক বছরে পুরসভাগুলির পাশাপাশি রাজ্যের গ্রামাঞ্চলেও ডেঙ্গুর বাড়বাড়ন্ত দেখা গিয়েছে। বিভিন্ন বয়সের মানুষের প্রাণ পর্যন্ত কেড়ে নিয়েছে মশাবাহিত এই রোগ। এই পরিস্থিতিতে ডেঙ্গু সংক্রমণ রুখতে নানা উদ্যোগ নিচ্ছে সরকার। তার অংশ হিসেবে পঞ্চায়েত দপ্তর বাড়ি বাড়ি সমীক্ষা করে ডেঙ্গুর আঁতুড়ঘর বা ‘হটস্পট’ চিহ্নিতকরণের কর্মসূচি নেয়। তাতেই উঠে এল চাঞ্চল্যকর তথ্য। রাজ্যজুড়ে ডেঙ্গুর প্রায় ২৭ লক্ষ আঁতুড়ঘরের খোঁজ মিলেছে। অর্থাৎ, এসব জায়গায় ডেঙ্গুবাহক মশার বংশবৃদ্ধির অনুকূল পরিস্থিতি তৈরি হয়ে রয়েছে। মশাবাহিত রোগের সংক্রমণ ঠেকাতে সরকারের লাগাতার প্রচার ও বছরভর তৎপরতার মধ্যেও কেন এমন পরিস্থিতি, প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে তা নিয়ে। এই তথ্য হাতে আসার পর অবশ্য তৎপর হয়েছে পঞ্চায়েতগুলি। 


    ডেঙ্গু মোকাবিলার জন্য এই প্রথম পঞ্চায়েত দপ্তরের তরফে একটি বিশেষ অ্যাপ চালু করা হয়েছে। এই অ্যাপের মাধ্যমে মশাবাহিত রোগ নির্মূলের দায়িত্বে থাকা কর্মীদের উপর নজরদারি চালানো হয়। তাঁরা যেখানে যেখানে গিয়ে সরেজমিনে সমীক্ষা চালিয়েছেন, সেখান থেকেই তাঁদের ওই অ্যাপে তথ্য আপলোড করতে হয়েছে। সূত্রের খবর, প্রায় এক কোটি বাড়িতে গিয়ে এই সমীক্ষা করা হয়। দেখা যায়, কোথাও খোলা পাত্রে জল জমে আছে, কারও হুঁশ নেই। কোথাও আবার বাড়ির ভিতরে নিকাশি এতটাই অপরিষ্কার যে মশককুলের পোয়া বারো! কোনও কোনও বাড়িতে একাধিক ‘হটস্পট’ও মিলেছে। 


    রিপোর্ট বলছে, দুই ২৪ পরগনা, মালদহ, কোচবিহার এবং নদীয়ায় মশার আঁতুড়ঘরের সংখ্যা সর্বাধিক। এই ক’টি জেলাতেই দু’লক্ষের বেশি মশার আঁতুড়ঘরের সন্ধান পেয়েছেন সমীক্ষকরা। জুলাইয়ের শেষে জমা পড়া রিপোর্টে বলা হয়েছে, রাজ্যজুড়ে চিহ্নিত ২৭ লক্ষ ‘হটস্পট’-এর মধ্যে ২২ লক্ষ জায়গা সাফসুতরো করে দেওয়া হয়েছে। সংশ্লিষ্ট বাড়ি এবং সংলগ্ন লোকালয়ের বাসিন্দাদের এ বিষয়ে সতর্কও করে দেওয়া হয়েছে। বাকিগুলির ক্ষেত্রেও দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে খবর। পঞ্চায়েত দপ্তরের আধিকারিকদের মতে, আগাম এই সমীক্ষা চালানোর উদ্দেশ্যই হল মশার বংশবৃদ্ধির অনুকূল পরিবেশ ধ্বংস করে দেওয়া। পরবর্তীতে কোথাও যদি অস্বাস্থ্যকর পরিবেশ তৈরি হয়ে মশার লার্ভা বাড়তে থাকে, দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। গ্রামীণ এলাকায় মশাবাহিত এই রোগ এভাবে অনেকটাই নিয়ন্ত্রণ সম্ভব বলে আশাবাদী তাঁরা। সেই সঙ্গে আগাম এতগুলি ডেঙ্গু ‘হটস্পট’ চিহ্নিত হওয়ায় এবার এই রোগের প্রাদুর্ভাব ঠেকানো যাবে বলে মনে করছেন তাঁরা। 
  • Link to this news (বর্তমান)