বিনিয়োগ হিসেবে সোনার কয়েন-বিস্কুট কেনার প্রবণতা বাড়ছে
বর্তমান | ০৫ আগস্ট ২০২৪
নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: এবারের কেন্দ্রীয় বাজেটে সোনার উপর আমদানি শুল্ক ৯ শতাংশ কমিয়েছে কেন্দ্রীয় সরকার। তার প্রভাব কিছুটা হলেও পড়েছে বাজারে। কারণ, সোনার দাম কমে গিয়েছে। তবে বাজেট ঘোষণার আগে যখন চড়া ছিল দর তখনও দেশবাসী সোনায় বিনিয়োগ বাড়িয়ে ছিলেন। এমনটাই দাবি ওয়ার্ল্ড গোল্ড কাউন্সিলের। দোকান হোক বা আর্থিক প্রতিষ্ঠান, সোনার কয়েন বা বিস্কুট কিনে রাখার প্রবণতা বেড়েছে। ২০২৩ সালের এপ্রিল থেকে জুন পর্যন্ত সময়ের সঙ্গে চলতি বছরের ওই একই সময়ের তুল্যমূল্য হিসেব কষে এমনই জানাচ্ছে কাউন্সিল।
তথ্য অনুযায়ী, ২০২৩ সালের এপ্রিল থেকে জুন পর্যন্ত দেশে কয়েন বা বিস্কুটের মাধ্যমে সোনায় বিনিয়োগ হয়েছিল ২৯.৫ টন। ভারতীয় মুদ্রায় তার দাম ছিল ১৫ হাজার ৪১০ কোটি টাকা। চলতি বছরে ওই একই সময়ে বিক্রি হয়েছে ৪৩.১ টন। তার দাম ২৭ হাজার ৫০ কোটি টাকা। যেহেতু গত বছরের তুলনায় সোনার দাম গত ত্রৈমাসিকে চড়া ছিল, তাই বিক্রির অঙ্ক তুলনামূলকভাবে এবার অনেকটা বেশি। এই তথ্য দিয়ে কাউন্সিলের বক্তব্য, অন্যদিকে ছ’মাসের হিসেব কষলে, ২০২৩ সালের জানুয়ারি থেকে জুন পর্যন্ত যেখানে ৬৩.৯ টন সোনা বিক্রি হয়েছিল বিনিয়োগের উদ্দেশে, সেখানে এবার তা ৮৬.৭ টনে পৌঁছয়। বিক্রি বৃদ্ধির হার প্রায় ৩৭ শতাংশ। স্বর্ণ শিল্পমহল বলছে, গয়নার সোনার মতো কয়েন বা বিস্কুটের ক্ষেত্রেও তিন শতাংশ হারে জিএসটি প্রযোজ্য হয়। তবে এক্ষেত্রে মজুরি বাবদ ক্রেতাকে কোনও খরচ করতে হয় না। তাই অনেকেই বিনিয়োগ হিসেবে এই ধরনের সোনা কিনে রাখেন। যেহেতু আকস্মিক প্রয়োজনে যে কোনও সময়ে এই সোনা বিক্রি করা যায় বা বন্ধক দেওয়া যায়, তাই বিনিয়োগের মাধ্যম হিসেবে সোনার কয়েন বা বিস্কুটের চাহিদা ক্রমে বাড়ছে। স্বর্ণশিল্পীরা বলছেন, কলকাতা তথা বাংলাতেও এই প্রবণতা বাড়ছে।