• রাজ্যে বিজেপি বিধায়কদের অন্দরে ফাটল ক্রমশ বাড়ছে
    বর্তমান | ০৫ আগস্ট ২০২৪
  • নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: রাজ্যের বিজেপি বিধায়কদের মধ্যে অনৈক্যের ছবি ক্রমশ বেআব্রু হচ্ছে। বিধানসভার চলতি অধিবেশনে একাধিকবার তার ইঙ্গিত মিলেছে। একাধিক বিষয়ে উত্তর ও দক্ষিণবঙ্গের বিজেপি জনপ্রতিনিধিদের মতানৈক্য সামনে এসে পড়েছে। বিশেষত, উত্তরবঙ্গকে পৃথক রাজ্য করার দাবিতে সেখানকার বিজেপি বিধায়কদের সঙ্গে দক্ষিণবঙ্গের বিধায়কদের স্পষ্ট মতপার্থক্য রয়েছে। এর উপর মুর্শিদাবাদকে ঘিরে নয়া সঙ্কট তৈরি হয়েছে গেরুয়া পরিষদীয় দলে। স্থানীয় বিজেপি বিধায়ক গৌরীশঙ্কর ঘোষ এই জেলাকে কেন্দ্রশাসিত অঞ্চল করার দাবিতে এলাকায় জনসমর্থন জোগাড় করছেন। সম্প্রতি তিনি স্থানীয়দের নিয়ে এই দাবির সপক্ষে বড় এক মিছিল করেন। বিষয়টি নিয়ে দক্ষিণবঙ্গের একাধিক বিধায়ক ক্ষুব্ধ। 


    সূত্রের দাবি, বিজেপি পরিষদীয় দলের বহু সদস্য নিজেদের মধ্যে বাক্যলাপ পর্যন্ত করেন না। পরিষদীয় দলেও সুকান্ত মজুমদার, বিরোধী দলনেতা এবং দিলীপ ঘোষের লবি সক্রিয়। শুক্রবার দলের সাংগঠনিক সম্পাদক অমিতাভ চক্রবর্তী বিধাসভায় পরিষদীয় দলের ঘরে একটি বৈঠক ডেকেছিলেন। সেখানে অধিকাংশ বিধায়কই গরহাজির ছিলেন। শুধু তাই নয়, বৈঠক চলাকালীন গৌরীশঙ্কর ঘোষ ঘর থেকে বেরিয়ে বিধানসভা চত্বরই পরিত্যাগ করেন। বিজেপির অন্দরের সমীকরণে অমিতাভ চক্রবর্তীর বিরোধী হিসেবেই পরিচিত গৌরীশঙ্করবাবু। তিনি দলের অন্যতম রাজ্য সম্পাদক হলেও কোনও সাংগঠনিক দায়িত্ব তাঁকে দেওয়া হয় না বলে অভিযোগ। অমিতাভবাবু রাজ্য বিজেপির সর্বোচ্চ সাংগঠনিক নেতা। রাজ্য বিজেপির সভাপতি ও সংগঠন সম্পাদক, দু’জনই উত্তরবঙ্গের মানুষ। দক্ষিণবঙ্গের বিধায়কদের দাবি, উত্তরবঙ্গের বিধায়কদের প্রতি এই দুই শীর্ষনেতা অনেকটাই নরম। সব মিলিয়ে বিধায়কদের পরিমণ্ডলে বঙ্গ বিজেপির এই বিভেদের চিত্র আগামী দিনে কী চেহারা নেয়, সেটাই এখন দেখার। 
  • Link to this news (বর্তমান)