নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: ডাক্তারদের বায়োমেট্রিক হাজিরা নিয়ে বিস্তর দুর্নীতির অভিযোগ উঠছে। এবারে তাই মোবাইল অ্যাপেই হাজিরা দেওয়ার পদ্ধতি আনছে দেশের চিকিৎসা শিক্ষার শীর্ষ সংস্থা ন্যাশনাল মেডিক্যাল কমিশন (এনএমসি)। সংশ্লিষ্ট মেডিক্যাল কলেজে উপস্থিত থাকলে তখনই কার্যকর হবে অ্যাপ। এমনই ব্যবস্থা থাকবে। রবিবার কল্যাণী এইমস-এ আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে এসে একথা বলেন এনএমসি’র শীর্ষকর্তারা।
এদিকে দেশের সমস্ত মডার্ন মেডিসিনের চিকিৎসকদের ইন্ডিয়ান মেডিক্যাল রেজিস্টারের (আইএমআর) নাম পাল্টে হচ্ছে ন্যাশনাল মেডিক্যাল রেজিস্টার (এনএমআর)। এনএমসি কর্তারা বলেন, এমাস থেকেই এনএমআর চালু হতে চলেছে। চিকিৎসকদের রেজিস্ট্রেশনের জন্য পোর্টাল খুলে দেওয়া হবে। পাশাপাশি, পশ্চিমবঙ্গ মেডিক্যাল কাউন্সিলের বিরুদ্ধে তাঁরা অভিযোগ জানান তথ্য না দিয়ে অসহযোগিতার। তা অবশ্য উড়িয়ে দিয়ে রাজ্য মেডিক্যাল কাউন্সিলের সভাপতি সুদীপ্ত রায় বলেন, অভিযোগটি রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলেই মনে হচ্ছে। এদিনের ‘টিচার্স মিট’ অনুষ্ঠানে ছিলেন রাজ্যের চার মেডিক্যাল কলেজের অধ্যক্ষ ও অধিকর্তারা। ডাক্তারদের জন্য নতুন রেজিস্টার হচ্ছে কেন? এনএমসি’র শীর্ষকর্তাদের বক্তব্য, আমরা দেখেছি, আইএমআর-এ অনেক জালিয়াতি হচ্ছিল। তিন-চারজন করে ডাক্তারের ছিল এক-একটি রেজিস্ট্রেশন নম্বর! এনএমআর হলে সেই জালিয়াতি করা সম্ভব হবে না। তাছাড়া ভিন রাজ্যের মেডিক্যাল কাউন্সিলে নথিভুক্ত চিকিৎসকদের অন্য রাজ্যে কাজ করতেও সমস্যা হচ্ছিল। এসব আর হবে না। চিকিৎসকদের যাবতীয় তথ্যের ডিজিটাল রেকর্ড থাকবে। দেশবাসীও সব তথ্য পেয়ে যাবেন। আমরাও বুঝতে পারব, ভারতে কতজন ডাক্তার আছেন, তাঁদের শিক্ষাগত যোগ্যতা কী। ভুয়ো ডিগ্রিধারীদেরও চিহ্নিত করা যাবে। রাজ্য মেডিক্যাল কাউন্সিলগুলির তথ্যের জন্য অপেক্ষা করতে হবে না। সবক’টি মেডিক্যাল কলেজের সঙ্গে যোগাযোগ থাকবে আমাদের। স্বাস্থ্য বিশ্ববিদ্যালয়গুলি থেকেই সরাসরি তথ্য পেয়ে যাব। এনএমসি কর্তারা বলেন, এনএমসি প্রত্যেক চিকিৎসককে দেবে ইউনিক আইডি। সারা দেশেই প্র্যাকটিস করতে পারবেন তাঁরা। তবে একজন ডাক্তার যেরাজ্যে প্র্যাকটিস করবেন, সেখানকার কাউন্সিলের অনুমতি নিতে হবে তাঁকে।