• ঘূর্ণিঝড়ে ক্ষতিগ্রস্তদের ত্রাণ-খাবারের ব্যবস্থা প্রশাসনের, প্রায় ২৪ ঘণ্টা পর ফিরল আলো
    বর্তমান | ০৫ আগস্ট ২০২৪
  • সংবাদদাতা, তারকেশ্বর: শনিবার সন্ধ্যায় মাত্র কয়েক মিনিটের ঘূর্ণিঝড়ে তছনছ হয়ে গেল তারকেশ্বর ও ধনেখালি ব্লকের বেশ কয়েকটি গ্রাম। এই ঘূর্ণিঝড়ের ফলে সন্তোষপুর, নিশ্চিন্তপুর, হবিবপুর সহ আরও বেশ কয়েকটি গ্রামের জনজীবন বিপর্যন্ত হয়েছে। এই গ্রামগুলি সন্তোষপুর ও গোপীনাথপুর পঞ্চায়েতের মধ্যে পড়ে।


    শনিবার সন্ধ্যায় ঝড়ের পরই বিদ্যুৎহীন হয়ে পড়ে একাধিক গ্রাম। ভেঙে পড়ে বিদ্যুতের খুঁটি। পরে প্রশাসনের পক্ষ থেকে জেনারেটর চালিয়ে আলোর ব্যবস্থা করা হয়। বহু বাড়ির চাল উড়ে গিয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলিকে ত্রিপল দেওয়া হয়েছে এবং তাঁদের খাবারের ব্যবস্থা করা হয়েছে।


    রবিবার সকালে ঘটনাস্থলে যেতেই চোখে পড়ল ঘূর্ণিঝড়ের ধ্বংসলীলা। এজবেস্টসের চাল টুকরো টুকরো হয়ে ছড়িয়ে রয়েছে চারদিকে। কোথাও আবার ঢালাইয়ের জন্য বেঁধে রাখা লোহার রড উড়ে গিয়েছে। শনিবার রাতে মহকুমা শাসক, বিডিও, বিধায়ক সহ জনপ্রতিনিধিরা ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা পরিদর্শন করেন। এদিন সকাল থেকেই যুদ্ধকালীন তৎপরতায় ভেঙে পড়া গাছ সরানোর কাজ শুরু হয়েছে। নতুন করে বসানো হয়েছে বিদ্যুতের খুঁটি।


    ধনেখালি ব্লকের নিশ্চিন্তপুরের বাসিন্দা জয়ন্তী রায় বলেন, শনিবার সন্ধ্যায় বিকট আওয়াজ শুনে বাইরে এসে দেখি চারদিক অন্ধকার। হঠাৎ ঘূর্ণির দাপটে লণ্ডভণ্ড হয়ে গেল গোটা পাড়া। আমার বাড়ির এজবেস্টসের চাল উড়ে চলে গেল। জীবনে কখনও এমন ঘটনার সম্মুখীন হইনি। গ্রামের প্রায় ১৪-১৫টি বাড়ির চাল উড়ে গিয়েছে। সাধারণ ঝড়-বৃষ্টি হলে আগাম কিছু ব্যবস্থা নেওয়া যায়। কিন্তু এই ধরনের ঘটনা ঘটবে কোনওদিন ভাবিনি। প্রশাসনের লোকজন রাতেই এসে জেনারেটরের ব্যবস্থা করেন। খাবারেরও ব্যবস্থা করেন তাঁরা। তারকেশ্বরের বিধায়ক রামেন্দু সিংহ রায় বলেন, শনিবার সন্ধ্যায় ও রবিবার সকালে ঘটনাস্থলে গিয়েছিলাম। ১০০ জনের বেশি ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের জন্য খাবারের ব্যবস্থা করা হয়েছে। বহু বাড়িতে বিদ্যুতের তার ছিঁড়ে গিয়েছে। এদিন সন্ধ্যার আগেই বিদ্যুতের খুঁটিতে সংযোগ দেওয়া হলেও সব ঘরে আলো পৌঁছায়নি। ক্ষতিগ্রস্তদের সাহায্যের ব্যাপারে জেলাশাসকের কাছে আবেদন করা হয়েছে। গ্রাম পঞ্চায়েত ও পঞ্চায়েত সমিতির সদস্য এবং বিধায়ক হিসেবে এই জনপ্রতিনিধিরা যে ভাতা পান, তার একটি অংশ ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলিকে দেওয়া হবে বলে সিদ্ধান্ত হয়েছে।
  • Link to this news (বর্তমান)