• একাধিক গ্রামে বন্যা পরিস্থিতিতে দুর্ভোগ
    বর্তমান | ০৫ আগস্ট ২০২৪
  • সংবাদদাতা, শান্তিনিকেতন: রবিবার ভোরে লাভপুরের ঠিবা পঞ্চায়েতের তালতলায় কুয়ে নদীর বাঁধ ভেঙে বিস্তীর্ণ এলাকা প্লাবিত হয়েছে। জলবন্দি হয়ে পড়েছে জয়চন্দ্রপুর, হরিপুর, চতুর্ভূজপুর সহ একাধিক গ্রাম। সেখানকার মানুষ চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন। এদিন সকালেই এলাকার পরিস্থিতি খতিয়ে দেখতে যান প্রশাসনিক আধিকারিকরা। কীভাবে দ্রুত বাঁধ মেরামতি করা যায়, তা নিয়ে পদক্ষেপ নিচ্ছে সেচদপ্তর ও জেলা প্রশাসন।


    বৃহস্পতিবার রাত থেকে ক্রমাগত বৃষ্টি শুরু হয় বীরভূম জেলায়। ফলে শুক্রবার বোলপুর শহর সহ মহকুমার একাধিক এলাকা জলমগ্ন হয়ে পড়ে। সবথেকে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয় লাভপুর ব্লকের ঠিবা পঞ্চায়েত। শনিবার সকাল থেকেই বিপদসীমার উপর দিয়ে বইছিল কুয়ে নদীর জল। তালতলা, কান্দরকুলো, খাঁপুর সহ একাধিক জায়গায় নদীর বাঁধে ফাটল দেখা দেয়। স্থানীয়রা তখনই আশঙ্কা করেছিলেন রাতেই বাঁধ ভেঙে যেতে পারে। তাঁদের সেই আশঙ্কাই সত্যি হল। এদিন ভোরে তালতলার স্লুইস গেটের কাছে নদী বাঁধ ভেঙে যায়। এরফলে লাভপুর ব্লকের সঙ্গে যোগাযোগ সম্পূর্ণরূপে বিচ্ছিন্ন হয়ে যায় জয়চন্দ্রপুর, হরিপুর ও চতুর্ভূজপুর গ্রামের। কার্যত এই তিনটি গ্রামের মানুষ জলবন্দি হয়ে পড়েন। এছাড়াও ঠিবা, বাঘা, বাগসিনা সহ পার্শ্ববর্তী ১৭-১৮টি গ্রাম প্লাবিত হয়েছে। জলের তলায় চলে গিয়েছে এলাকার কয়েক হেক্টর চাষের জমি। 


    এদিন সকালে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করতে যান বীরভূম জেলা পরিষদের সভাধিপতি কাজল শেখ। স্থানীয় বাসিন্দা ও চাষিদের সঙ্গে কথা বলেন তিনি। পাশাপাশি এলাকা পরিদর্শন করেন লাভপুরের তৃণমূল বিধায়ক অভিজিৎ সিনহা। এছাড়া লাভপুরের বিডিও সহ পুলিস ও প্রশাসনের তরফে ঘটনাস্থল তদারকি করা হয়। এদিন বিকেলে বন্যা কবলিত এলাকা পরিদর্শন করেন বীরভূম জেলাশাসক বিধান রায়। ইতিমধ্যেই জলবন্দি অবস্থায় থাকা গ্রামের বাসিন্দাদের নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নিয়ে যাওয়ার কাজ শুরু করা হয়েছে। স্থানীয় স্কুলগুলিতে ত্রাণ শিবিরের ব্যবস্থা করেছে প্রশাসন। বন্যা কবলিত মানুষজনের খাবারের কোনও অসুবিধা যাতে না হয়, তারজন্য ঠিবা পঞ্চায়েতে রান্না করা হচ্ছে। জল কিছুটা কমলেই বাঁধ মেরামতি করার কাজ শুরু হবে বলে প্রশাসন জানিয়েছে। সেই কারণেই যেখানে নদী বাঁধে ভাঙন ধরেছে, তার পাশে মাটি মজুত করা হচ্ছে। তবে এলাকার বাসিন্দাদের অভিযোগ, আগে বাঁধ সংস্কার করা হলে এই ভয়াবহ পরিস্থিতির শিকার হতে হতো না। 


    স্থানীয় বাসিন্দা অমৃত পাল, মথুরানাথ মণ্ডল, উত্তম পাল বলেন, শনিবার থেকে আমাদের ঘুম নেই। এদিন ভোরে বাঁধ ভেঙে যায়। তারপরে একাধিক গ্রাম জলবন্দি হয়ে গিয়েছে। প্রচুর ধানজমি এখন জলের তলায়। ধান রোপণ হয়ে গিয়েছিল। তাই জল দ্রুত না সরলে প্রচুর ক্ষতি হবে। 


    সভাধিপতি বলেন, প্রয়োজনীয় সব ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। কিন্তু প্রকৃতির কাছে সকলেই অসহায়। জেলাশাসক বলেন, জল কমলেই বাঁধের ভাঙা অংশ দ্রুত মেরামত করা হবে। ক্ষয়ক্ষতি কতটা হয়েছে, সেই বিষয়টি স্পষ্টভাবে বোঝা যাবে। যাঁদের মাটির বাড়ি ভেঙে গিয়েছে বা পাকা বাড়ি পাননি, সেগুলি পঞ্চায়েত ও ব্লক অফিসের সঙ্গে আলোচনা করে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
  • Link to this news (বর্তমান)