নিজস্ব প্রতিনিধি, আরামবাগ: ডিভিসির ছাড়া জলে খানাকুল ও পুরশুড়ায় প্লাবনের আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। রবিবার ১ লক্ষ কিউসেকের বেশি হারে জল ছেড়েছে ডিভিসি। তারফলে বন্যা পরিস্থিতির শঙ্কা দেখা দিয়েছে। দামোদর ও মুণ্ডেশ্বরী নদীর জল বিপদসীমার কাছাকাছি পৌঁছতে পারে। এছাড়া খালগুলির জলও টইটম্বুর হয়ে উঠেছে। তবে দ্বারকেশ্বর নদের জলস্তর আগের থেকে অনেকটা কমেছে। এদিন আবার দুপুরের পর বৃষ্টি হওয়ায় নতুন করে আতঙ্কও দেখা দিচ্ছে। তাই দ্রুত পরিস্থিতি খতিয়ে দেখে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য উচ্চ পর্যায়ের প্রশাসনিক বৈঠক হয় আরামবাগে। এদিন বৈঠকে যোগ দেন রাজ্যের কৃষি ও কৃষি বিপনন দপ্তরের প্রিন্সিপাল সেক্রেটারি ওঙ্কার সিং মিনা, হুগলির জেলাশাসক মুক্তা আর্য, জেলা পরিষদের সহ সভাধিপতি কৃষ্ণচন্দ্র সাঁতরা সহ অনেকেই।
প্রশাসন সূত্রে জানা গিয়েছে, আরামবাগ মহকুমার উপর দিয়ে প্রচুর নদনদী বয়ে গিয়েছে। এখানে দ্বারকেশ্বর, রূপনারায়ণ, দামোদর, মুণ্ডেশ্বরী প্রভৃতি নদ নদী রয়েছে। এছাড়া অজস্র খালও রয়েছে। ফলে বিভিন্ন নদীতেই বাসিন্দারা নৌকায় পারাপার করেন। বর্তমানে নদীর জলস্তর বেড়ে যাওয়ায় তা যাত্রীদের জন্য বিপজ্জনক হয়ে দাঁড়িয়েছে। এরজন্য সমস্ত জায়গায় আগামী ৭ আগস্ট পর্যন্ত ফেরি পরিষেবা বন্ধ রাখার নির্দেশ দিয়েছে প্রশাসন। এছাড়া বন্যা পরিস্থিতি তৈরি হওয়ার আশঙ্কায় বন্যবপ্রবণ এলাকায় স্কুল ও অঙ্গনওয়াড়ি কেন্দ্র আগামী ৭ আগস্ট পর্যন্ত বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত হয়েছে। ব্লক ও মহকুমা স্তরে ২৪ ঘণ্টার জন্য কন্ট্রোল রুম খুলেছে প্রশাসন।
এদিন বিকেলের পর দামোদর ও মুণ্ডেশ্বরী নদীতে জলস্তর বাড়তে থাকে। এর জেরে নদী তীরবর্তী কিছু এলাকার বাসিন্দাকে সরিয়ে আনার কাজ শুরু করেছে প্রশাসন। খানাকুল, পুরশুড়ায় কিছু প্রাইমারি ও হাইস্কুলকে ত্রাণ শিবির হিসেবে নেওয়া হয়েছে। এদিন মহকুমা শাসকের অফিসে বৈঠকে ছিলেন আরামবাগ পুরসভার ৬ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলার স্বপন নন্দী। তিনি বলেন, বন্যা পরিস্থিতির সময় বিভিন্ন জায়গায় যেতে হয়। অনেক সময় বালি, বস্তা, টর্চ, গাড়ি প্রভৃতি প্রয়োজন হয়। সেই সবের আগাম ব্যবস্থা করে রাখার অনুরোধ করেছি বৈঠকে। আরামবাগে বৈঠকের পর প্রশাসনের কর্তারা খানাকুল, পুরশুড়া প্রভৃতি এলাকায় যান।
স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, বাঁকুড়া, পুরুলিয়ায় বৃষ্টি কমে যাওয়ায় দ্বারকেশ্বর নদে জল কমেছে। কিন্তু গোঘাটের কিছু এলাকায় এখনও জল দাঁড়িয়ে রয়েছে। আরামবাগের সাংসদ মিতালি বাগ এদিন গোঘাটের কুলিয়া এলাকায় পরিদর্শনে যান। দুপুরের পর আরামবাগে ভারী বৃষ্টি হওয়ায় শহরের বিভিন্ন রাস্তায় জল জমে যায়। এরফলে যাতায়াত নিয়ে চরম দুর্ভোগে পড়েন বাসিন্দারা। ফলে শহরের বাসিন্দাদের একাংশ, আরামবাগের নিকাশি সমস্যা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে।
আরামবাগের মহকুমা শাসক সুভাষিনী ই বলেন, দামোদর, মুণ্ডেশ্বরীতে জল বাড়ছে। ইতিমধ্যে কিছু রাস্তায় জল জমে যাওয়ায় স্কুল, অঙ্গনওয়াড়ি কেন্দ্র বন্ধ করা হয়েছে। নদী তীরবর্তী এলাকার কিছু বাসিন্দাকে উঁচু জায়গায় স্থানান্তরিত করা হচ্ছে। পরিস্থিতির দিকে আমরা নজর রাখছি।