বিহারের জাদু! এক বছরে দ্বিগুণ ব্যবসা রায়গঞ্জ শহরের বেকারি ব্যবসায়ীদের
বর্তমান | ০৫ আগস্ট ২০২৪
নির্মাল্য সেনগুপ্ত, রায়গঞ্জ: নানা প্রতিবন্ধকতার পরেও প্রতিবেশী রাজ্য বিহারের কল্যাণে বিকশিত হচ্ছে উত্তর দিনাজপুর তথা রায়গঞ্জের বেকারি ব্যবসা। দূরত্বের কারণে অন্যান্য জেলায় ময়দা, চিনির মতো বেকারির কাঁচামাল সংগ্রহ করতে বেশি খরচ পড়ে যায়। ভৌগলিক অবস্থানের জন্য স্বল্প খরচে রায়গঞ্জের বেকারি ব্যবসায়ীরা বিহারের মিল থেকে কম দামে সংগ্রহ করেন ময়দা, চিনির মতো সামগ্রী। স্বাভাবিকভাবেই এখানে কেক, পাউরুটির মতো বেকারি প্রোডাক্টের উৎপাদন খরচ কমেছে। ফলে প্রতিযোগিতার বাজারে দাম ও গুণমান বজায় রেখে ব্যবসা বাড়াতে পারছেন তাঁরা। রায়গঞ্জের কেক, বিস্কুট, কুকিস, প্যাটিস, পাউরুটি শুধু জেলায় আর সীমাবদ্ধ থাকছে না, দেদার বিকোচ্ছে উত্তরবঙ্গের প্রায় সব জেলায়। এমনকি রাজ্যের সীমা পেরিয়ে বিহারের আরারিয়া, পূর্ণিয়া, কিষাণগঞ্জ, কাটিহার সহ কয়েকটি জেলায় পাড়ি দিচ্ছে এখানকার কেক, পাউরুটি। উত্তর দিনাজপুর বেকারি অ্যাসোসিয়েশনের দাবি, গত কয়েকবছরে এখানকার বেকারি প্রোডাক্টের ব্যবসা অন্তত দ্বিগুণ বেড়েছে।
রায়গঞ্জ মার্চেন্ট অ্যাসোসিয়েশনের সম্পাদক অতনু বন্ধু লাহিড়ী বলেন, নানা প্রতিবন্ধকতা সত্ত্বেও দাম এবং গুণমানের ভারসাম্য বজায় রাখেন এখানকার বেকারি ব্যবসায়ীরা। ফলে এখানকার বেকারি প্রোডাক্টের সুনাম তৈরি হয়েছে আশপাশের জেলা ও ভিনরাজ্যে।
উত্তর দিনাজপুর বেকারি অ্যাসোসিয়েশনের প্রেসিডেন্ট সন্দীপ বিশ্বাসের কথায়, আমাদের সংগঠনে নথিভুক্ত ব্যবসা ধরলে অন্তত ৪০টি সংস্থা জেলায় বেকারি প্রোডাক্ট তৈরি করে। এর বাইরেও ছোট, মাঝারি মিলিয়ে অন্তত শতাধিক ব্যবসায়ী রয়েছেন। প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে জেলার ১০ হাজার মানুষ এই ব্যবসার সঙ্গে জড়িত। বিহার থেকে কম দামে কাঁচামাল আনায় আমাদের লাভের পরিমাণ কিছুটা বেড়েছে।
আর সেই চেষ্টার জন্যই গত কয়েক বছরে সার্বিকভাবে জেলার বেকারি ব্যবসা দ্বিগুণ বেড়েছে। নভেম্বর থেকে মার্চ পর্যন্ত বেকারি ব্যবসার মূল মরশুম। ওই সময় যেমন রকমারি প্যাটিস, বিস্কুট, কুকিজ, পাউরুটি বিক্রি হয়, তেমনই কেকের ব্যবসাও বেড়ে যায়। তবে ব্যবসার শ্রীবৃদ্ধি হওয়ার কারণ তুলনামূলকভাবে কম দামে ময়দা ও চিনি আমরা পাই বিহার থেকে। অবশ্য ছোট ব্যবসায়ীরা স্থানীয়ভাবেই কাঁচামাল সংগ্রহ করে ব্যবসা করেন।
সংগঠনটির অন্যান্য কর্মকর্তাদের মধ্যে সন্দীপ বিশ্বাস, পলাশ কুমার রায় সহ অন্যরা বলেন, আশপাশের জেলায় শুনি বেকারি ব্যবসা করতে গিয়ে সমস্যার সম্মুখীন হন ব্যবসায়ীরা। ঋণ পাওয়া থেকে শুরু করে সরকারি সহায়তার মতো বিষয়ে আমরাও বিভিন্ন সমস্যায় পড়ি। তবে তারপরও চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি। আশা করি আগামীতে এখানকার বেকারি প্রোডাক্টের সুনাম আরও দূরদুরান্তে ছড়িয়ে পড়বে। নিজস্ব চিত্র।