৭টির বদলে রয়েছে চারটি জলাধার, পলি ও পর্যাপ্ত জমির অভাবেও কমেছে ধারণ ক্ষমতা
বর্তমান | ০৫ আগস্ট ২০২৪
কৌশিক ঘোষ, কলকাতা: দামোদর অববাহিকায় বন্যা নিয়ন্ত্রণের জন্য বহুমুখী নদী প্রকল্পের পরিকল্পনা করা হয়েছিল ৭৫ বছর আগে। কিন্তু সেই পরিকল্পনা পুরোপুরি বাস্তবায়িত হয়নি। ডিভিসির আওতায় দামোদর ও তার সঙ্গে যুক্ত নদীগুলির উপর মোট সাতটি বাঁধ তৈরির পরিকল্পনা হলেও শেষ পর্যন্ত চারটি তৈরি হয়। সাতটি বাঁধ তৈরি করা গেলে অনেক বেশি পরিমাণে জল ধরে রাখা যেত। সেই সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে পলি জমতে জমতে চারটি বাঁধের জলধারণ ক্ষমতা কমেছে। পর্যাপ্ত জমি না পাওয়ার জন্য বাঁধগুলির প্রয়োজনীয় সম্প্রসারণও করা যায়নি।
ডিভিসির অবসরপ্রাপ্ত চিফ ইঞ্জিনিয়ার সত্যব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় কয়েক বছর আগে তথ্য ও পরিসংখ্যান সহ এ সংক্রান্ত একটি বিস্তারিত রিপোর্ট পেশ করেছিলেন। সেখানে মন্তব্য করা হয়েছিল, বড়সড় বন্যা পরিস্থিতির অন্যতম কারণ বাঁধগুলির অপর্যাপ্ত জলধারণ ক্ষমতা। এই সমস্যার নিরিখে ডিভিসি কার্যত ‘আগ্নেয়গিরি’র অবস্থায় রয়েছে।
মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় একাধিকবার উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন ডিভিসির বাঁধগুলিতে পলি জমার ফলে জলধারণ ক্ষমতা কমে যাওয়া নিয়ে। পলি তুলে জলাধার সংস্কার করা হলে বন্যা অনেকটাই নিয়ন্ত্রণ করা যেত বলে মনে করেন তিনি। এক্ষেত্রে ডিভিসির সাফল্য ও ব্যর্থতা বিশ্লেষণ করে জিওলজির অধ্যাপক ডঃ কৌশিক মুখোপাধ্যায় একটি রিপোর্ট তৈরি করেন। সেখানে তিনি দাবি করেন, মাইথন, পাঞ্চেত, তিলাইয়া ও কোনার—ডিভিসির এই চারটি বাঁধের জলধারণ ক্ষমতা ১৯৫০ এর দশক থেকে ২০১৬ সাল পর্যন্ত ২৩ থেকে ৪৩ শতাংশ পর্যন্ত কমেছে। সত্যব্রতবাবু তাঁর রিপোর্টে জানিয়েছেন, শুরুর সময়ের পরিকল্পনা অনুযায়ী কেন্দ্রীয় সরকার যদি ডিভিসির আওতায় সাতটি বাঁধই নির্মাণ করত, তাহলে ৩৫৯৬ মিলিয়ন কিউবিক মিটার (এমসিএম) জল ধরে রাখা সম্ভব হতো। কিন্ত চারটি বাঁধ নির্মিত হওয়ায় মোট জলধারণ ক্ষমতা কমে দাঁড়ায় ১৮৬৩ এমসিএম। তবে জলাধার তৈরির জন্য পরিকল্পনামতো জমি না পাওয়ার কারণে জলধারণ ক্ষমতা বাস্তবে আরও কমে হয় ১২৯১ এমসিএম। প্রকল্প রূপায়ণের আগে যে পরিকল্পনা হয়েছিল, তার মাত্র ৩৬ শতাংশ জলধারণ করতে পারে ডিভিসির বাঁধগুলি।
তবে এই রিপোর্টে জলাধারের পলি তুলে ধারণ ক্ষমতা বাড়ানোর উদ্যোগকে সমর্থন করা হয়নি। বলা হয়েছে, ২০১১ সালে সেন্ট্রাল ওয়াটার কমিশন জানিয়ে দিয়েছে, কারিগরি ও আর্থিক কারণে এই উদ্যোগের বাস্তবায়ন সম্ভব নয়। ডিভিসি কর্তৃপক্ষও এই বক্তব্যের সঙ্গে সহমত। কারণ, শুধু মাইথন ও পাঞ্চেতের জলাধারে এই কাজ করতে ৫০ হাজার কোটি টাকা খরচ হবে। তারপরও পলি জমতে থাকবে। তবে ডিভিসি কর্তৃপক্ষের দাবি, পলি জমা কমাতে একগুচ্ছ ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। সেই সঙ্গে বাঁধগুলির আয়ু বাড়ানোর চেষ্টাও করা হয়েছে।