• ‘ছাদ ফুটো’ শিয়ালদহ ‘রাজধানী’র!  প্রবল বৃষ্টিতে কাকভিজে ‘এলিট’ ট্রেনের যাত্রীরা
    বর্তমান | ০৫ আগস্ট ২০২৪
  • নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: ধারাবাহিক প্রাণঘাতী দুর্ঘটনা। ঘণ্টার পর ঘণ্টা লেট। নিম্ন মানের খাবার। বিকল এসি। যাত্রী নিরাপত্তা এবং স্বাচ্ছন্দ্য কার্যত শিকেয় উঠেছে ভারতীয় রেলে। গত কয়েকবছরে পরিষেবার মান ক্রমেই নামছে। এজন্য ট্রেনের টিকিট বুকিংয়ের আগে বুক কাঁপছে বহু যাত্রীর। এবার দেশের অন্যতম এলিট ট্রেন ‘রাজধানী’তেই সফরত যাত্রীদের বৃষ্টি জলে স্নান করার বিরল অভিজ্ঞতা হল! গত শুক্রবার শিয়ালদহ-রাজধানী এক্সপ্রেসে এই অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেছে। 


    এই ব্যাপারে বি-ফাইভের এক যাত্রী বলেন, রাতে ঘুমোচ্ছিলাম। হঠাৎ ঝর্নার মতো জল পড়তে আরম্ভ করল। কিছু বোঝার আগেই কাকভেজা হয়ে গেলাম। মহিলা যাত্রীদের দশা আরও অস্বস্তিকর। গভীর রাতে ঘুমন্ত অবস্থায় শাওয়ারের ঢঙে গা ভেজানো নিজের জীবদ্দশায় ঘটেনি। ঘটনাটিকে ট্রেন পরিচালনায় ভারতীয় রেলের চূড়ান্ত ব্যর্থতার নিদর্শন বলেই ব্যাখ্যা করেন ক্ষুব্ধ ওই যাত্রী।


    আর-এক যাত্রী বলেন, রাতে খাবারের মান অত্যন্ত খারাপ ছিল। পরিমাণ নিয়েও বহু যাত্রীর মুখে অনুযোগ শোনা গিয়েছে। কিন্তু কোনও প্রতিবাদ করিনি। জরুরি প্রয়োজনে কলকাতায় ফেরার তাড়া ছিল। তাই পুরো পেট না ভরলেও চুপচাপ শুয়েই পড়ি। কিন্তু রাজধানী এক্সপ্রেসের ছাদ ফুটো থাকবে, এমনটা স্বপ্নেও ভাবিনি। সবে চোখ লেগে এসেছে, আচমকাই দেখি পুরো ভিজে গেলাম! বাইরে বৃষ্টির ধারা ছাদ বেয়ে নাগাড়ে পড়ছিল। এভাবেই রেলের সৌজন্যে জলে ভিজে অবস্থাতেই ওই জার্নি শেষ করতে হল। রেলের বিভিন্ন বিভাগে অভিযোগ জানিয়েও সুরাহা মেলেনি। 


    পূর্ব রেলের এক কর্তা বলেন, সদর দপ্তরে কর্মরত কিছু অফিসার জেনারেল ম্যানেজারকে (জিএম) বিভিন্নভাবে বিভ্রান্ত করছেন। ঠিক তথ্য তাঁর কাছে পৌঁছচ্ছে না। অপারেশন ও মেনটেন্যান্স বিভাগে নানা ধরনের কারচুপি চলছে। তার ফল ভুগতে হচ্ছে গোটা জোনকে। পূর্ব রেল সম্পর্কে নেতিবাচক রিপোর্ট জমা পড়েছে রেল বোর্ডেও। সূত্রের দাবি, চলতি মাসে জয়া ভার্মা বোর্ড প্রধানের পদ থেকে সরে গেলেই এই জোনে ‘ময়লা সাফাই’ শুরু হবে। কারণ কর্মজীবনে জয়া শিয়ালদহের ডিভিশনাল রেলওয়ে ম্যানেজার (ডিআরএম) পদে ছিলেন। সেই সূত্রেই নাকি সংশ্লিষ্ট কিছু অফিসার বাড়তি সুবিধা নিচ্ছেন।
  • Link to this news (বর্তমান)