• ৫০ বছরের দাবি পূরণ, পাকা রাস্তার কাজ শুরু হওয়ায় খুশি শ্যামবাঁধপাড়া
    বর্তমান | ০৬ আগস্ট ২০২৪
  • সংবাদদাতা, বিষ্ণুপুর: ১৫০ বছরের পুরনো পুরসভা হলেও বিষ্ণুপুরের শ্যামবাঁধপাড়া আজও আস্ত একটা গ্রাম। পুরসভার ২ নম্বর ওয়ার্ডের মধ্যে অবস্থিত হলেও শহর থেকে প্রায় এক কিমি দূরে অবস্থিত। শহরের সঙ্গে গ্রামের যোগাযোগের উন্নতির জন্য দীর্ঘ পঞ্চাশ বছর ধরে পাকা রাস্তার দাবি জানিয়ে আসছিলেন বাসিন্দারা। কিন্তু, এতদিন তা হয়নি। আর তা নিয়ে বিরোধীরা বারবার ওই গ্রামের বাসিন্দাদের নিজেদের অনুকূলে আনতে সক্ষম হয়। রাস্তার দাবিতে বাসিন্দারা বিভিন্ন সময়ে বিরোধী রাজনৈতিক দলের আন্দোলনেও শামিল হয়েছেন। তবে এবার সেই প্রতীক্ষার অবসান হচ্ছে। সোমবার থেকেই শহর থেকে গ্রামের যাওয়ার জন্য ১২০০মিটার পাকা রাস্তা তৈরির কাজ শুরু হয়েছে। এতে বেজায় খুশি বাসিন্দারা। 


    বিষ্ণুপুর পুরসভার চেয়ারম্যান গৌতম গোস্বামী বলেন, শ্যামবাঁধপাড়ায় রাস্তা তৈরির দীর্ঘদিনের দাবি ছিল। আগে কোনও কারণে তা হয়নি। আমি পুরসভার দায়িত্ব নেওয়ার পর গ্রামে যাওয়ার রাস্তা তৈরির জন্য প্রস্তাব পাঠিয়েছিলাম। সম্প্রতি তা মঞ্জুর হয়েছে। দ্রুত টেন্ডার প্রক্রিয়া সম্পূর্ণ করার পর এদিন নির্মাণকাজ শুরু করা হয়েছে।     


    শ্যামবাঁধপাড়ার ভজু লোহার, টিঙ্কু লোহার, জগন্নাথ টুডু বলেন, আমরা পুরসভার অন্তর্ভুক্ত হওয়া সত্ত্বেও গ্রামে বসবাস করি। শহর থেকে গ্রামের দূরত্ব এক কিমি। বাঁধের পাড়ের কোল দিয়ে কাঁচা রাস্তায় যাতায়াত করতে হয়। বর্ষাকালে ভীষণ সমস্যা হয়। ছেলেমেয়েদের স্কুলে যাতায়াত থেকে শুরু করে নিত্য প্রয়োজনে শহরে যাতায়াত করতে হয়। কিন্তু, বছরের পর বছর ধরে আমরা অবহেলার শিকার হয়ে এসেছি। সেই জন্য আমরা কোনও রাজনীতি দেখিনি। যারাই রাস্তার দাবি নিয়ে আন্দোলন করেছে। আমরা তাদের সঙ্গেই শামিল হয়েছি। এবার বহু বছরের দাবি পূরণ হচ্ছে। এতে আমরা ভীষণ খুশি। 


    উল্লেখ্য, বিষ্ণুপুর পুরসভার ২ নম্বর ওয়ার্ডের নতুনমহলের কাছে ঐতিহাসিক শ্যামবাঁধ রয়েছে। বাঁধের এক পাশে রয়েছে শ্যামবাঁধপাড়া। সেখানে লোহারপাড়া ও আদিবাসীপাড়া মিলিয়ে প্রায় ৫০টি পরিবার বসবাস করে। দোকান, বাজার থেকে শুরু করে স্কুল কলেজ সহ যাবতীয় কাজে বাসিন্দাদের শ্যামবাঁধের কোলে সংকীর্ণ কাঁচা রাস্তা দিয়ে শহরে যাতায়াত করতে হয়। বর্ষাকালে বাঁধে জল বাড়লেই জল চুঁইয়ে রাস্তা কাদা হয়ে যায়। তখন যাতায়াত করা সমস্যা হয়। এবার সেই সমস্যা মিটতে চলেছে। 
  • Link to this news (বর্তমান)