• নবদ্বীপধামে শুরু গৌরাঙ্গ মহাপ্রভুর ঝুলন যাত্রা উৎসব, ভক্তদের ভিড়
    বর্তমান | ০৬ আগস্ট ২০২৪
  • সংবাদদাতা, নবদ্বীপ: সোমবার থেকে নবদ্বীপধামে শুরু হল গৌরাঙ্গ মহাপ্রভুর ঝুলন যাত্রা উৎসব।  প্রতিপদ থেকে এই ঝুলন যাত্রা শুরু হয়ে চলবে এক পক্ষকাল অর্থাৎ ঝুলন পূর্ণিমা পর্যন্ত। রাধাকৃষ্ণের মিলিত তনু গৌরাঙ্গ মহাপ্রভু। তাই শ্রীকৃষ্ণের ঝুলন যাত্রার আগেই শুরু হয় গৌরাঙ্গ মহাপ্রভুর  ঝুলন। এদিন থেকে ঝুলন পূর্ণিমা পর্যন্ত গৌরাঙ্গ মহাপ্রভুকে রুপোর সিংহাসনে বসিয়ে ঝোলানো হয়। এবার একাদশী থেকে পূর্ণিমা পর্যন্ত ঝুলনের শেষ পাঁচদিন প্রতিদিনই পরানো হবে নিত্যনতুন রকমারি পোশাক। পূর্ণিমার দিন গৌরাঙ্গ মহাপ্রভুকে সাজানো হবে সোনার নানা ধরনের হার, মুকুট, হাতের বাজু, পায়ের নুপুর, হাতে রাজদণ্ড সহ নানা স্বর্ণালংকারে। যদিও শ্রীকৃষ্ণের ঝুলন যাত্রা ১৬ আগস্ট শুক্রবার অর্থাৎ একাদশী থেকে শুরু হবে। চলবে ১৯ আগস্ট সোমবার ঝুলন পূর্ণিমা পর্যন্ত। ইতিমধ্যে গৌরাঙ্গ মহাপ্রভুর ঝুলন দেখতে দূরদূরান্ত থেকে ভিড় করেছেন অসংখ্য ভক্ত পুণ্যার্থী ও পর্যটকরা। 


    রাধাকৃষ্ণের ঝুলন যাত্রার দিন থেকে পাঁচদিন মহাপ্রভুকে পরানো হয় নতুন পোশাক। যেমন একাদশীর দিন হয় নটবর বেশ। তেমনি দ্বাদশীতে রাজ নটবর, ত্রয়োদশীর দিন রাখাল বেশ। সেদিন হাতে দেওয়া হয় রূপোর বাঁশি। চতুর্দশীর দিন নাগরী বেশ, আর পূর্ণিমার দিন রাজবেশ। ঝুলন পূর্ণিমায় ৬০ থেকে ৭০ ভরি সোনার গহনা পরানোর পাশাপাশি ফুলের সাজে সাজানো হবে বিগ্রহ। এই ক’দিন ভিন্ন ভিন্ন দিনে নানা পদের রকমারি ভোগ দেওয়া হয়। শেষ দিন ঝুলন পূর্ণিমার সন্ধ্যায় লুচি, মালপোয়া ছানার বড়া, ক্ষীর, রাবড়ি ভোগ দেওয়া হবে। এই পাঁচদিন বিভিন্ন ঝুলন লীলাকীর্তন পরিবেশিত হবে। এছাড়াও অষ্টপ্রহর নামসংকীর্তন, ঝুলন গান এবং ভাগবত পাঠও অনুষ্ঠিত হবে।  


    রাধাকৃষ্ণের ঝুলন উপলক্ষে নবদ্বীপের বিভিন্ন মঠ মন্দির ফুল আলোকমালায় সেজে উঠবে। গোবিন্দ জিউ মন্দির, গানতলার বলদেব জিউ মন্দির, রাধা মদনমোহন মন্দির, সমাজবাড়ি, শ্রীবাস অঙ্গন, জন্মস্থান মন্দির, রাধা মদনগোপাল মন্দির, কানাই বলাই মন্দির, রাধাবাজারের পুরীর মন্দির, শ্যামসুন্দর মন্দির সহ বিভিন্ন মন্দির মেতে উঠবে ঝুলন উৎসবে। 


    নবদ্বীপ বিষ্ণুপ্রিয়া সমিতির সভাপতি সুদিনকুমার গোস্বামী বলেন, রাধাকৃষ্ণের অপ্রাকৃত ঝুলন লীলাকে স্মরণ করে আমাদের ধামেশ্বর মহাপ্রভুর মন্দিরে শুরু হয়েছে ঝুলন যাত্রা। এই ঝুলন যাত্রাকে বলা হয় হিন্দোল উৎসব অর্থাৎ আনন্দ ও সৌহার্দের প্রতীক। যা আমাদের কাছে বিশ্ব ভ্রাতৃত্বের প্রতীক। একে অপরের হাতে রাখিবন্ধনের মাধ্যমে বিশ্বভ্রাতৃত্ব বোধ জাগিয়ে তোলা হয়। নবদ্বীপ গৌড়ীয় বৈষ্ণব সমাজের মহাসচিব কিশোরকৃষ্ণ গোস্বামী বলেন, নবদ্বীপে প্রায় দেড়শোর বেশি মঠ-মন্দির আছে। তার মধ্যে গৌরাঙ্গ মহাপ্রভুর মন্দির, সমাজবাড়ি এবং শ্রীবাস অঙ্গনে সোমবার থেকে ঝুলন যাত্রা শুরু হল। সামনের একাদশী থেকে বাদবাকি মন্দিরগুলোতে ঝুলন উৎসব শুরু হবে। -নিজস্ব চিত্র
  • Link to this news (বর্তমান)