• জলস্তর বেড়ে যাওয়ায় বন্ধ ফেরি, বিপাকে কয়েক হাজার
    বর্তমান | ০৬ আগস্ট ২০২৪
  • নিজস্ব প্রতিনিধি, রানাঘাট: আগাম নোটিস ছাড়াই ফেরি সার্ভিস বন্ধ হয়ে যাওয়ায় বিপাকে হাজার খানেক মানুষ। এর জেরে সপ্তাহের প্রথম কর্মদিবসেই নদীয়ার শান্তিপুর ও কালনার মধ্যে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। চিকিৎসাপ্রার্থী থেকে চাকরিজীবীদের ফেরিঘাটে এসেও ফিরতি পথ ধরতে হয়। অনেককেই আবার গুপ্তিপাড়া ঘাট দিয়ে ঘুরে কালনা পৌঁছতে হয়েছে। আচমকা তৈরি হওয়া দুর্ভোগ নিয়ে ক্ষোভ উগরে দিয়েছেন সাধারণ মানুষ ও নিত্যযাত্রীরা।


    গত কয়েক দিনের টানা বৃষ্টি এবং বিভিন্ন ব্যারেজ থেকে জল ছাড়ার কারণে গঙ্গায় জলস্তর অনেকটাই বেড়ে গিয়েছে। এরই মাঝে শান্তিপুরের কিছু কিছু এলাকায় নদী ভাঙনও শুরু হয়েছে। জলস্তর বেড়ে যাওয়ার কারণে বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে শান্তিপুর থেকে কালনার মধ্যে ফেরি চলাচল। সোমবার সকালে হঠাৎই লঞ্চ চলাচল বন্ধের সিদ্ধান্ত জানায় কর্তৃপক্ষ। ফলে নিত্যযাত্রীদের চূড়ান্ত ভোগান্তির শিকার হতে হয়। ভৌগলিকভাবে গঙ্গা দ্বারা বিভক্ত নদীয়া ও পূর্ব বর্ধমান জেলা। যদিও নিত্যনৈমিত্তিক বিভিন্ন কাজে গঙ্গা পারাপারের জন্য দুই জেলার মানুষকে নির্ভর করতে হয় ফেরির উপর। যাত্রীর পাশাপাশি গাড়িঘোড়া পারাপার, গবাদি পশুর খাবার, বিভিন্ন বাজারে মাছ এবং কাঁচা আনাজ আদান প্রদানের জন্যেও প্রয়োজন ভেসেলের। ফলে হঠাৎ করেই ফেরি পরিষেবা বন্ধ হয়ে যাওয়ায় ভোগান্তি চরম সীমায় পৌঁছেছে। নদী পারাপার না করতে পেরে এদিন ফেরিঘাটে দাঁড়িয়েই ক্ষোভ উগরে দিয়েছেন নিত্যযাত্রীরা। পলান বিশ্বাস নামে এক ব্যক্তি বলেন, আমি কালনা শশীবালা সাহা উচ্চ বালিকা বিদ্যালয়ের শিক্ষাকর্মী। স্কুলের চাবি আমার কাছেই থাকে। কিন্তু ঘাটে এসে শুনছি ফেরি চলছে না। স্কুলে পরীক্ষা রয়েছে। কীভাবে স্কুলের তালা খোলা হবে জানি না। এইভাবে বিনা নোটিসে ফেরি বন্ধ করার সিদ্ধান্তের তীব্র প্রতিবাদ জানাই। একই সুরে পেশায় শিক্ষক অশোক বসু বলেন, আমাকে প্রতিদিন নৃসিংহপুর থেকে কালনা যেতে হয় চাকরির সূত্রে। সেখানে একটি স্কুলের শিক্ষক আমি। কোনও নোটিস ছাড়াই ফেরি পরিষেবা বন্ধ করা হয়েছে। আগে থেকে জানা থাকলে বিকল্প ব্যবস্থা করে রাখতে পারতাম। স্কুলে পরীক্ষা চলছে। আমি না যেতে পারলে অনেক সমস্যা হবে। বিষয়টি নিয়ে নদীয়ার জেলাশাসক অরুণ প্রসাদ বলেন, এই ঘাটগুলিতে ফেরি পরিষেবা বন্ধের নির্দেশিকা আমদের জেলা থেকে দেওয়া হয়নি। পাশের জেলার তত্ত্বাবধানে সেগুলি। তবে আগামীদিনে পরিস্থিতির বিচারে আমাদের জেলার অধীনে থাকা ফেরিঘাটগুলি বন্ধ রাখা হতে পারে। 


    প্রসঙ্গত, অনেক স্কুলেই বর্তমানে পরীক্ষা চলছে। শান্তিপুরের বহু শিক্ষার্থী কালনার বিভিন্ন স্কুলে পড়ে। ফেরি বন্ধ হয়ে যাওয়ায় তাদের সময়ে পরীক্ষার হলে পৌঁছনোর রীতিমত চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়ায়। 


    অর্পিতা রায় নামে এক অভিভাবিকা বলেন, ছেলেকে স্কুল পর্যন্ত কীভাবে পৌঁছে দেব বুঝতেই পারছি না। আজ ওর পরীক্ষা। আগে থেকে জানলে গাড়ির ব্যবস্থা করা যেত। এদিকে, কালনা ঘাট বন্ধ থাকলেও এদিন বিকেল পর্যন্ত গুপ্তিপাড়া ঘাটের ফেরি পরিষেবা এদিন চালুই ছিল। ফলে বহু মানুষ টোটো ভাড়া করে গুপ্তিপাড়া ঘাট হয়ে নদী পার করেন। তারপর সেখান থেকে ট্রেনে পৌঁছন কালনায়। যেহেতু কাটোয়া লাইনে ট্রেন চলাচল এমনিতেই কম তাই দীর্ঘ সময় লেগে যায় তাদের গন্তব্যে পৌঁছতে। কিন্তু এদিন সন্ধেয় গুপ্তিপাড়া ফেরিঘাটও বন্ধ করে দেওয়া হয়। 


    অন্যদিকে, শান্তিপুরের পাশাপাশি কালীগঞ্জেও বল্লভপাড়া ফেরিঘাট বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। ফলে নদী পেরিয়ে কালনায় পৌঁছনোর আর কোনও পথই খোলা রইল না। 
  • Link to this news (বর্তমান)