রামপুরহাট শহরে একে একে পুকুর ভরাট করে হচ্ছে বড় বড় আবাসন
বর্তমান | ০৬ আগস্ট ২০২৪
সংবাদদাতা, রামপুরহাট: শহরজুড়ে একে একে পুকুর ভরাট করে বড় বড় বাড়ি তৈরি হচ্ছে। বাদ পড়ছে না পুকুরের পাড়ও। এরই মধ্যে এবার এক সেনাকর্মীর নামে টিন দিয়ে ঘিরে প্রাচীন পুকুর ভরাটের অভিযোগ করলেন রামপুরহাট পুরসভার ৬ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দাদের একাংশ। তাঁরা গণসাক্ষরিত অভিযোগ পুরসভায় জমা দিয়েছেন। পুরসভার চেয়ারম্যান সৌমেন ভকত বলেন, সোমবার অভিযোগ পাওয়ার পরই পুকুর ভরাট না করার জন্য নোটিস দেওয়া হয়েছে। না শুনলে ওই সেনাকর্মীর নামে থানায় এফআইআর করা হবে।
প্রবীণ বাসিন্দাদের দাবি, শহরে পুকুর বোজানোর প্রবণতা শুরু হয়েছিল বাম আমল থেকেই। একাধিক ওয়ার্ডে পুকুর ভরাট চললেও উদাসীন থেকেছে পুরসভা। অনেক পুকুরের এখন আর অস্তিত্বই নেই বলে এলাকাবাসীর অভিযোগ। কোথাও তৈরি হয়েছে বাড়িঘর, কোথাও নোংরা আবর্জনা ফেলে বুজিয়ে দেওয়া হয়েছে। তবে গত কয়েক বছরে পুকুর, জলাশয় বোজানোর প্রবণতা বেড়েছে বলে মনে করেন শহরের অনেকেই। বাসিন্দারা বলেন, ৫, ৪, ৬, ৭, ১২ সহ বিভিন্ন ওয়ার্ডে প্রোমোটারের থাবায় অবাধে পুকুর ভরাট চললেও উদাসীন থেকেছে পুরসভা। আবার বেশকিছু পুকুর সংস্কারের অভাবে বিল্পুপ্তির পথে। শহরের বাসিন্দাদের মতে, কিছু ব্যক্তি লোভের বশবর্তী হয়ে অবৈধভাবে পুকুরে দিনের পর দিন মাটি ও নোংরা আর্বজনা ফেলে বন্ধ করে দিচ্ছে। তাঁদের উদ্দেশ্য, মাটি ফেলে পুকুর বন্ধ করে বাস্তুজমিতে রূপান্তরিত করতে পারলে মোটা দামে বিক্রি করা যাবে। হচ্ছেও তাও। পরে দেখা যাচ্ছে পুকুর বা জলাশয় বুজিয়ে যেসব বাড়ি তৈরি হয়েছে, সেখানে কংক্রিটের রাস্তা তৈরি করে দিচ্ছে পুরসভা। জলের সংযোগ পৌঁছে দেওয়া হচ্ছে। এমনকী, সহজেই মিলছে বিদ্যুৎ সংযোগও। ফলে প্রশাসন ও পুরসভার একাংশের মদতের অভিযোগ তুলছেন বাসিন্দাদের একাংশ। এতে পরিবেশের উপরও আঘাত হানা হচ্ছে বলে তাঁরা জানিয়েছেন।
এরই মধ্যে এবার রামপুরহাটের ছয় নম্বর ওয়ার্ডের প্রাচীন ‘পচা গোরা’ পুকুরে ইমারতি দ্রব্যের ভাঙা অংশ ফেলে বোজানোর অভিযোগ উঠল এলাকারই তাপস প্রামাণিক নামে এক সেনাকর্মীর বিরুদ্ধে। স্থানীয়দের অভিযোগ, ওই সেনাকর্মী তাঁর বাড়ির পাশের পুকুরের পাড় টিন দিয়ে ঘিরে ভাঙা ইট ও কচড়া ফেলে বুজিয়ে দিচ্ছেন। সোমবার অভিযোগ পেতেই পুরসভার পক্ষ থেকে ভরাট না করার পাশাপাশি পুকুরটিকে পূর্বের অবস্থায় ফেরানোর নোটিস দেওয়া হয়।
যদিও ওই সেনাকর্মী বলেন, বাগান করার জন্য পুকুর পাড় টিন দিয়ে ঘিরেছি। পরে টিনের ওপারে দিন চারেক আগে কচড়া ফেলে সকলের চলাচলের সুবিধার্থে রাস্তা বের করেছি। এটা আমার অন্যায় হয়েছে। পুরসভায় বলেছি, শ্রমিক লাগিয়ে টিন খুলে দেওয়ার পাশাপাশি কচড়া তুলে নেব।
শহরের প্রবীণ নাগরিকরা বলেন, চুয়াত্তর বছর আগে পুরসভার তকমা পাওয়া এই গঞ্জ শহরের চারিদিকে যে অজস্র ছোটবড় পুকুর-জলাশয় ছিল, সেই সংখ্যাটি কমতে কমতে এখন এক তৃতীয়াংশে দাঁড়িয়েছে। এলাকাবাসীর পর্যবেক্ষণ, যে গুটিকয়েক পুকুর এখনও বেঁচে রয়েছে, তার অধিকাংশই জমি দালালদের কব্জায় কিংবা নজরে। বিভিন্ন উপায়ে সেগুলি ভরাট করা চলছে। ইতিমধ্যেই অনেক ছোট জলাশয় বুজিয়ে দিয়ে পুকুরের পাড় কেনাবেচা সম্পন্ন হয়েছে। তবে, এখনও কিছু পুকুর রয়েছে, যেগুলি পুরসভা সংস্কার করলে এলাকার মানুষ উপকৃত হতেন। বরং পুর প্রশাসনের প্রচ্ছন্ন মদতে পুকুর ভরাট হয়ে আসছে। যদিও চেয়ারম্যান বলেন, পুকুর ভরাটের অভিযোগ পেলেই ব্যবস্থা নেওয়া হয়। -নিজস্ব চিত্র