• নিখোঁজ নাবালিকা বোনকে খুঁজতে গিয়ে পথ দুর্ঘটনায় মৃত্যু হল দাদা সহ দু’জনের
    বর্তমান | ০৬ আগস্ট ২০২৪
  • সংবাদদাতা, কান্দি: পাঁচদিন ধরে নিখোঁজ নাবালিকা বোন। সেই বোনকে খুঁজতে গিয়ে পথ দুর্ঘটনায় মৃত দাদার দেহ ফিরল বাড়িতে। সোমবারের এই ঘটনা ভরতপুর থানার বিন্দারপুর গ্রামে। আবার ওই দুর্ঘটনায় নাবালিকার এক পাতানো দাদারও মৃত্যু হয়েছে। এদিন সেই পাতানো দাদার দেহও ফেরে বড়ঞা থানার পাঁচথুপি গ্রামে। তাই প্রতিবেশী ওই দুই গ্রামে এখন শোকের ছায়া।


    প্রসঙ্গত, রবিবার দুপুরে পূর্ব বর্ধমান জেলার কেতুগ্রাম থানার বিরুড়ি গ্রামের কাছে বাইক ও টাটা সুমোর মুখোমুখি সংঘর্ষে মৃত্যু হয় দুই যুবকের। মৃতরা হলেন খোকাবাবু শেখ (২১) ও সুজন শেখ (১৮)। তাঁদের বাড়ি যথাক্রমে ভরতপুর থানার বিন্দারপুর ও বড়ঞা থানার পাঁচথুপি ডাঙাপাড়া এলাকায়। দুর্ঘটনার পর কেতুগ্রাম রামজীবনপুর ব্লক প্রাথমিক স্বাস্থ্যকেন্দ্রে নিয়ে আসা হলে চিকিৎসকরা তাঁদের মৃত বলে জানান। এরপর সোমবার কাটোয়া মহকুমা হাসপাতালের মর্গে তাঁদের দেহের ময়নাতদন্ত হয়। পরে বিকেল নাগাদ দুই যুবকের দেহ ফেরে নিজেদের বাড়িতে।


    মৃত খোকাবাবুর পরিবার সূত্রে জানা গিয়েছে, তাঁরা ছয়ভাই বোন। খোকাবাবু কর্মসূত্রে মুম্বইয়ে ছিলেন। মহরম কাটানোর ছুটি নিয়ে তিনি সেখান থেকে বাড়ি এসেছিলেন। এদিকে গত বৃহস্পতিবার হঠাৎ করেই খোকাবাবুর নাবালিকা ছোট বোন নিখোঁজ হয়ে যায়। নিখোঁজের পর থেকেই বিভিন্ন জায়গায় পরিবারের পক্ষ থেকে খোঁজ করা হচ্ছিল। এরপর শনিবার রাতে তাঁরা জানতে পারেন পূর্ব বর্ধমানের কেতুগ্রাম থানার মৌলি গ্রামে তাঁদের মেজ জামাইয়ের বাড়িতে ওই নাবালিকা রয়েছে। সেই হিসেবে রবিবার খোকাবাবু তাঁর বন্ধু সুজনকে সঙ্গে নিয়ে মৌলি গ্রামে গিয়েছিল। একইসঙ্গে পরিবারের আরও কয়েকজন সদস্য বাসে চড়ে জামাই বাড়িতে গিয়েছিলেন। কিন্তু সেখানে পৌঁছনোর পর তাঁদের অপদস্থ করা হয় বলে অভিযোগ। এরপর দুপুরের দিকে তাঁরা কেতুগ্রাম থানার আনখোনা গ্রামের বাসস্টপেজে এসে ঠাঁই নেন। সেখানে ঠিক করা হয় ঘটনার অভিযোগ কেতুগ্রাম থানায় জানানো হবে। তাই খোকাবাবু ও বন্ধু সুজন ওই বাইকে চড়ে কেতুগ্রাম থানায় যাচ্ছিলেন। সেই সময় পথ দুর্ঘটনায় তাঁদের মৃত্যু হয়।


    মৃত খোকাবাবুর মা রুলি বিবি বলেন, আমরা জানতে পেরেছিলাম যে ছোট মেয়ে মেজ জামাইয়ের বাড়িতেই রয়েছে। কিন্তু ওরা মেয়েকে বের করে দিচ্ছিল না। সেই কারণে কেতুগ্রাম থানায় যাওয়ার পরিকল্পনা করি। কিন্তু ওই দুর্ঘটনায় আমি আমার নিজের ছেলে সহ পাতানো ছেলেকেও হারালাম।


    এদিকে এদিন বিকেলে দুই যুবকের দেহ বাড়িতে ফিরতেই দু’টি গ্রামে শোক নেমে আসে। খোকাবাবুর বাবা বাবলু শেখ বলেন, সুজন আমার পাতানো ছেলে ছিল। আমার ছেলের সঙ্গে ওর চরম বন্ধুত্ব ছিল। কিন্তু এখন মনে হচ্ছে দুর্ঘটনায় আমার তিন ছেলেমেয়েকে হারিয়ে ফেললাম। মেয়েকেও খুঁজে পেলাম না। আবার দুইজনের প্রাণ গেল। • নিজস্ব চিত্র
  • Link to this news (বর্তমান)