• ঘাটালের রাস্তা দখলমুক্ত করা নিয়ে দড়ি টানাটানি প্রশাসনের মধ্যেই
    বর্তমান | ০৬ আগস্ট ২০২৪
  • সংবাদদাতা, ঘাটাল: ঘাটাল শহরের রাস্তার দু’ পাশ দখলমুক্ত করা নিয়ে আজ মঙ্গলবার প্রশাসনিক মিটিংয়ের দিকে তাকিয়ে ঘাটাল মহকুমার বাসিন্দরা। তাঁদের প্রশ্ন, মুখ্যমন্ত্রীর নির্দেশ কি আদৌ কার্যকর হবে? দখলমুক্ত হবে রাস্তা? ঘাটালের মহকুমা শাসক সুমন বিশ্বাস বলেন, ৬ আগস্ট এনিয়ে একটি মিটিং ডাকা হয়েছে। দেখা যাক, ওই মিটিংয়ে কী সিদ্ধান্ত হয়।


    মেচোগ্রাম থেকে ঘাটাল ময়রাপুকুর মোড় পর্যন্ত পুরো রাস্তাটিই ১০ মিটার করে চওড়া হয়েছে। তা ছাড়াও ঘাটাল পুরসভার উপর দিয়ে ওই রাস্তার দু’ দিকেই তিন মিটার করে সার্ভিস রোড এবং সার্ভিস রোডের পাশে দু’দিকে কংক্রিটের হাইড্রেন তৈরি করে দেওয়া হয়েছে।


    শহরের বাসিন্দরা জানান, রাস্তা সম্প্রসারণের কাজ পুরোপুরি শেষ হতে না হতেই ওই ড্রেনগুলির উপর কাঠের কাঠামো করে বহু দোকানঘর তৈরি হয়েছে। বেশকিছু দোকান চালুও হয়ে গিয়েছে। অনেকে আবার সার্ভিস রোডের উপরেই ব্যবসা ফেঁদেছেন। এর ফলে পথচারীদের খুবই সমস্যা হচ্ছে।


    লোকসভা নির্বাচনে ঘাটাল শহরে তৃণমূলের খারাপ ফল হয়। দল পর্যালোচনা করতে গিয়ে জানতে পারে, দলের এক শ্রেণির নেতা প্রচুর টাকার বিনিময়ে ওইসব অবৈধ নির্মাণগুলির অনুমতি দিয়েছে। শহর কমিটির এক নেতা বলেন, আমরা তাদের চিহ্নিত করে টাকা ফেরত দিয়ে দখলমুক্ত করে দেওয়ার কথা বলেছি। কারণ আমরা চাই না, ড্রেনের উপর ওই ভাবে নির্মাণ থাকুক। পুরো ড্রেনটি ওইভাবে দখল হয়ে গেলে ভবিষ্যতে ড্রেন পরিষ্কার করা যাবে না। তাছাড়াও যাঁরা ড্রেনের উপর দোকান করবেন তাঁরা স্বাভাবিক ভাবেই ড্রেনের মধ্যেই বর্জ্যপদার্থ ফেলবেন। ওই হাইড্রেনটি কয়েক মাসের মধ্যে আবর্জনায় অবরুদ্ধ হয়ে যাবে। দলীয় নেতৃত্ব দলের নেতাদের সতর্ক করার পাশাপাশি নির্মাণগুলি ভেঙে দেওয়ার জন্য পূর্তদপ্তরকে সুপারিশ করেছে। পূর্তদপ্তরের এক আধিকারিক বলেন, আমরা ওই নির্মাণগুলি রাখতে চাই না। পূর্তদপ্তর বার বার অবৈধ দখলগুলি সরিয়ে নেওয়ার জন্য ঘোষণা করে। তাতেও কাজের কাজ কিছু হয়নি। অন্যদিকে দলের পক্ষ থেকে টাকা ফেরত দেওয়ার কথা বলা হয়েছিল, দলের সেই নির্দেশকেও মান্যতা দেয়নি দলের এক শ্রেণির নেতা। বরং ক্রমশ দখলদারি বাড়ছে।এদিকে লোকসভা ভোটের পরই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় রাস্তার পাশে সরকারি জায়গা দখলের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য দল ও প্রশাসনকে নির্দেশ দেয়। সেই নির্দেশ মতো ঘাটাল মহকুমার ক্ষীরপাই পুরসভা একটু নড়েচড়ে বসলেও ঘাটাল পুরসভা শীতঘুমেই রয়েছে। ঘাটাল পুরসভার চেয়ারম্যান তুহিনকান্তি বেরা বলেন, ওই সমস্ত দখল তো প্রশাসন, পূর্তদপ্তর এবং পুলিসের উপস্থিতিতে মুক্ত করার কথা। আমাদের নয়।   প্রশাসনের মধ্যেই দখলমুক্তির বিষয়ে দড়ি টানাটানি খেলা চলায় ক্ষুব্ধ সাধারণ মানুষ। তাঁরা বলেন, এতো সুন্দর রাস্তা এবং ড্রেনটি এভাবে দখলদারদের হাতে চলে যাবে ভাবতে পারিনি। তাই আজকের মিটিংয়েও যে  ফলপ্রসূ আলোচনা হবে তা বিশ্বাস করতে রাজি নন এই মহকুমার মানুষ।-নিজস্ব চিত্র
  • Link to this news (বর্তমান)