• নবদ্বীপের সাধু কাণ্ডে নয়া মোড়, তদন্তে জমির মাফিয়া সাধু ধরমবীরের খোঁজ
    বর্তমান | ০৬ আগস্ট ২০২৪
  • নিজস্ব প্রতিনিধি কৃষ্ণনগর: কেঁচো খুঁড়তে গিয়েয কেউটে! ভুয়ো নথি দিয়ে বাড়ি নির্মাণের অভিযোগে গ্রেপ্তার হয়েছিলেন এক সাধু। যার নাম জয়ন্তকুমার সাহা ওরফে জগদার্তিহা দাস। সেই সাধুকান্ডের তদন্তে নেমে জমি মাফিয়া আর এক সাধুর হদিশ পেলেন তদন্তকারী অফিসাররা। যার নাম দয়াল মুকুন্দ দাস ওরফে ধরমবীর সিং।‌ তাঁর বিরুদ্ধেও মামলা করা হয়েছে। যাকে হন্যে হয়ে খুঁজছে পুলিস। নবদ্বীপের জমি হাঙরদের সিন্ডিকেটের সঙ্গে এই সাধুর বড়সড় যোগসাজশ রয়েছে বলে পুলিস জানতে পেরেছে। দেশের বাইরে সে যাতে না চলে যায়, তার জন্যও তৎপর হয়েছে পুলিস। এমনকী নিজের প্রভাব প্রতিপত্তি খাটিয়ে দীর্ঘদিন ধরে জমির অবৈধ কারবারের সঙ্গে ওই ব্যক্তি যুক্ত রয়েছে বলে জানা গিয়েছে। বিভিন্ন থানা এলাকায় তাঁর বিরুদ্ধে অভিযোগ রয়েছে। এমনকি অবৈধভাবে জমি কেনা বেচাতেও বিদেশিদের যুক্ত করিয়েছে সে। 


    কৃষ্ণনগর পুলিস জেলার অতিরিক্ত পুলিস সুপার (গ্রামীণ) বলেন, অবৈধভাবে বাড়ি নির্মাণের অভিযোগে জয়ন্তকুমার সাহা নামে এক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।‌ তাঁকে হেফাজতে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ চলছে।‌ তদন্তে বেশ কিছু নাম উঠে এসেছে। তাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।  


    পুলিস জানতে পেরেছে, একসময় ইসকনের গোশালার দায়িত্বে ছিলেন ধরমবীর সিং। সেই সময় জগদার্তিহা দাসের সঙ্গে তিনি পরিচয় করেন। উল্লেখ্যযোগ্য বিষয় হল, জগদার্তিহা দাস আবার ইসকনের ইন্টারনাল অডিট দেখাশোনা করতেন। সেই সূত্রে ধরেই দুজনের মধ্যে সখ্যভাব গড়ে ওঠে বলে জানা গিয়েছে।  তারপর থেকেই নাকি ‘ইসকনের সাধু’ এই ট্যাগকে ব্যবহার করে জমির প্রমোটারির কাজ শুরু করে ধরমবীর। নবদ্বীপ এলাকায় সে রীতিমতো ল্যান্ড মাফিয়া ‘সাধু’ হয়ে ওঠে। তদন্তে নেমে এমনটাই জনাতে পেরেছেন তদন্তকারীরা। গত বৃহস্পতিবার জালিয়াতি ও পুরো কাগজপত্র তৈরি না করে বাড়ি নির্মাণের অভিযোগে মায়াপুরের সাধু জয়ন্তকুমার সাহাকে গ্রেপ্তার করে নবদ্বীপ থানার পুলিস। নিয়মের তোয়াক্কা না করেই গৌরনগর এলাকার কৃষি জমিতে পাঁচতলা বিল্ডিং বানায় সে। অভিযোগ, বিল্ডিং বানানোর পর ২০২১ সাল নাগাদ সেই কৃষি জমিকে অকৃষিতে রূপান্তরিত করে। এমনকী সেই বিল্ডিং বিদেশিদেরকেও বিক্রি করে। মায়াপুর-বামনপুকুর-১ পঞ্চায়েতের তরফ থেকে এই নিয়ে থানায় অভিযোগ করা হয়।   ধৃত ব্যক্তির সঙ্গে বর্তমানে ইসকনের কোনোও যোগ নেই। তবে পুলিস জানতে পেরেছে, অতীতে দীর্ঘ বছর ইসকনের সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে জড়িয়ে ছিল জগদার্তিহা। ইসকনের সামান্য ভক্ত জয়ন্ত কুমার সাহা থেকে বিপুল টাকার মালিক জগদার্তিহা দাস হয়ে ওঠার গল্পটাও বেশ চমকপ্রদ। পুলিস তদন্তে জানতে পেরেছে, ২০০৩ থেকে ২০০৯ সাল পর্যন্ত জয়ন্ত ইসকনের সঙ্গে যুক্ত ছিল। ২০০৯ সাল থেকে ২০১৫ সাল পর্যন্ত ইসকনের কলকাতা অফিস সে কাজ করত। ২০১৫ সাল নাগাদ সে আবার নবদ্বীপের মায়াপুরের ইসকনে ফিরে আসে। তারপর টানা তিন বছর ইসকনের ল্যান্ড ডিপার্টমেন্টের নানা বিষয় দেখাশোনা করত। ২০১৮ সালে ইসকনের অন্তবর্তী অডিট ডিপার্টমেন্টে তাকে স্থানান্তর করা হয়। সেখানেও টানা তিন বছর তিনি গুরুদায়িত্ব সামলেছিল। ২০২১ সালের জুন মাস থেকে জগদার্তিহা দাস ইসকনের ল্যান্ড ডিপার্টমেন্টের চিফ হয়ে ফিরে আসে। ২০২৩ সালের মে মাস পর্যন্ত ওই পদে সে বহাল ছিল। তারপর কোনও এক অজ্ঞাত কারণে ইসকনের তরফ থেকে তাকে সরিয়ে দেওয়া হয়। ততদিন পর্যন্ত ইসকনের জমি বিভাগের সর্বেসর্বা ছিল সে। তিনি। যার জেরেই রাজনীতি থেকে প্রশাসন মহলে প্রভাব প্রতিপত্তি বিস্তার করেছিল জয়ন্ত।
  • Link to this news (বর্তমান)