নিজস্ব প্রতিনিধি, আসানসোল: এক কেজি উচ্ছের দাম আশি টাকা, এক কেজি ভেন্ডির দাম ৬০ টাকা। বৃষ্টিতে সব্জি নষ্ট হয়ে গিয়েছে এই অজুহাতে দেদার দর হাঁকা শুরু করেছে অসাধু সব্জি বিক্রেতারা। মূল্যবৃদ্ধির জেরে নাভিশ্বাস ওঠা মধ্যবিত্তর পকেট কেটে বিপুল মুনাফা করছে এক শ্রেণির ব্যবসায়ী। অভিযোগ উঠতেই একই দিনে আসানসোলের তিন মার্কেটে হানা দিল পুলিস ও প্রশাসন। অতিরিক্ত দাম নিলে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া হবে বলে হুশিয়ারি দিয়েছেন তাঁরা।
এদিন সকালে আসানসোলের গোপালপুর বাজারে সব্জির দাম হয় আকাশছোঁয়া। ব্যবসায়ীদের দাবি, তাঁরা নাকি নিজেও চাষি। কিছু সব্জি কিনে আনতে হয়। প্রবল বৃষ্টিপাতের জেরে কোনও সব্জিই পাওয়া যাচ্ছে না তাই এমন দশা। করুণ কাহিনি শুনিয়ে কুমড়োর দাম বললেন, কেজি প্রতি ৪০ টাকা। টম্যাটো ৫০ টাকা কেজি, ঢেঁড়শ ৬০ টাকা, পটল ৪০ টাকা, শশা ৮০ টাকা কেজি। উচ্ছের দাম শুনে ভিড়মি খাওয়ার জোগাড়। এক কেজি উচ্ছের দাম ৮০ টাকা। একই অবস্থা কল্যাণপুর হাউসিং, আপকার গার্ডেন এলাকাতেও। মূলত শহরের ছোট বাজারগুলির কিছু অসাধু ব্যবসায়ী বেশি দাম নিচ্ছেন। আসানসোল শহরের বহু মানুষ বিত্তবান। তাঁরা সব্জির দামদরের পরোয়া করে না। যা চায় তাই দেন, বিপাকে পড়েন সাধারণ মধ্যবিত্ত, নিম্নবিত্ত শ্রেণির মানুষরা। ধনী ক্রেতা থাকায় তাই দরদাম নিয়ে কেউ চিৎকার করলেও ব্যবসায়ীরা গুরুত্ব দেন না।
অভিযোগ পৌঁছেছে প্রশাসনের কাছ পর্যন্ত। তাই তারা সোমবারই তিনটি বাজারে হানা দিয়েছে। তাঁরা এদিন আসানসোল দক্ষিণ থানার গোপালপুর, কুলটি থানার কুলটি ও বরাকর বাজারে অভিযান চালিয়েছে। জেলা রেগুলেটরি মার্কেট কমিটির সম্পাদক দিলীপ মণ্ডল বলেন, বড় বাজারগুলিতে আমাদের ধারাবাহিক নজরদারি চলছে। তারা সেভাব মানুষকে ঠকানোর সাহস পাচ্ছে না। কিন্তু ছোট মার্কেট রয়েছে যা সব সময়ে আমাদের নজরে আসে না, সেখানে বেশি দাম নেওয়ার অভিযোগ পেয়েছে। সেখানেও অভিযান শুরু হয়েছে।
যদিও দামোদর নদের উপর বার্নপুর-বিহারীনাথ সাঁকো ভেঙে যাওয়ায় শিল্পাঞ্চলে টাটকা সব্জির সঙ্কট সৃষ্টি করতে পারে। এই সেতু কার্যত আসানসোলের সব্জি করিডর। বাঁকুড়া থেকে চাষিরা সকাল হলেই দামোদর পেরিয়ে বার্নপুরে আসত সব্জি বিক্রি করতে। এখন সেতু তো ভেসে গেছেই খেয়া পারপারও বন্ধ।-নিজস্ব চিত্র