টাকা লগ্নির জন্য মহিলাদের ব্রেনওয়াশ করত অভিযুক্তর স্ত্রী
বর্তমান | ০৬ আগস্ট ২০২৪
নিজস্ব প্রতিনিধি, বহরমপুর: মহিলাদের কাছ থেকে টাকা নিয়ে কয়েক মাসের মধ্যে টাকা দ্বিগুণ করে দেওয়া হবে। এই টোপে প্রায় ২০জন মহিলার কাছ থেকে কয়েক কোটি টাকা নিয়ে আত্মসাৎ করেছে বহরমপুরের সুমন দাস। এই কাজে তার সঙ্গী ছিল স্ত্রী সঙ্ঘমিত্রা দাস। বহরমপুরের চুয়াপুরের ওই দম্পতি পরিকল্পনা করেই লোক ঠকিয়েছে বলে অভিযোগ। স্বামীর পর স্ত্রীকেও গ্রেপ্তার করেছে পুলিস।
পুলিস ও স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, গত কয়েক বছর ধরে বহরমপুরের চুয়াপুর এলাকায় বিভিন্ন মহিলা ও স্বনির্ভর গোষ্ঠীর সদস্যদের কাছে নানা টোপ দিত তারা। বিশেষ করে অভিযুক্ত সুমন তার স্ত্রীকে দিয়ে মহিলাদের কাছ থেকে টাকা আদায় করাত। গ্রামের মহিলারা সরল বিশ্বাসে তাড়াতাড়ি টাকা দ্বিগুণ হওয়ার আশায় অনেক টাকা দিয়েছিল। সুমনের স্ত্রী বাড়ি বাড়ি গিয়ে মহিলাদের বলত, তার স্বামীর রিয়েল এস্টেটের ব্যবসা আছে। প্রচুর জমি ও ফ্ল্যাট রয়েছে তাদের নামে। পাশাপশি কিছু দোকান ও ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠান আছে। এভাবেই সে মহিলাদের ব্রেনওয়াশ করত। এইসব শুনে মহিলাদের বিশ্বাস হয়। তারপর অল্প করে কিছু টাকা সঙ্ঘমিত্রার হাতে তুলে দেয়। কয়েক মাসের মধ্যেই সেই টাকার দ্বিগুণ পরিমাণ অর্থ ওই মহিলাদের ফেরত দেয় ওই প্রতারক দম্পতি। এলাকায় সেই খবর রটে যায়। তাতে একজনের টাকা পাওয়ার কথা জানার পর এলাকায় অন্যান্য মহিলারাও টাকা দিতে ইচ্ছুক হয়। এভাবেই প্রায় ২০জনের কাছ থেকে কয়েক কোটি টাকা হাতিয়েছে ওই দম্পতি। দিনের পর দিন বিভিন্ন মহিলাদের কাছ থেকে টাকা নিয়ে তা ফেরত দিচ্ছিল না সুমন ও তার স্ত্রী।
গত শনিবার রাতে চুয়াপুরে সুমনের বাড়ির সামনে ওই মহিলারা টাকা ফেরতের দাবি নিয়ে ব্যাপক বিক্ষোভ দেখাতে শুরু করেন। খবর পেয়ে বহরমপুর থানার পুলিস ঘটনাস্থলে যায়। অভিযুক্ত প্রতারককে গ্রেপ্তার করতে গেলে পুলিসকে ঘিরেও বিক্ষোভ দেখানো শুরু করেন মহিলারা। পুলিসের কাছ থেকে অভিযুক্তকে ছিনিয়ে নেওয়ার জন্য ধস্তাধস্তি শুরু করে দেয় তারা। এমনকী পুলিসের গাড়ির সামনে শুয়ে পড়ে আত্মহত্যার চেষ্টা করেন বিক্ষোভকারী মহিলারা। তারপর বিক্ষোভকারীদের শান্ত করে সুমন ও তার স্ত্রীকে থানায় নিয়ে আসে পুলিস। সুমনের গ্রেপ্তারির পর তার স্ত্রীকেও গ্রেপ্তার করেছে পুলিস।
বহরমপুর থানার এক পুলিস অফিসার বলেন, গোটা ঘটনার তদন্ত চলছে। মহিলাদের ভুল বুঝিয়ে তাদের কাছ থেকে লক্ষ লক্ষ টাকা নিয়েছে অভিযুক্ত সুমন ও তার স্ত্রী। প্রত্যেককেই তারা বলেছিল, টাকা দ্বিগুণ করে দেওয়া হবে। একজন মহিলা অপর মহিলার বাড়িতে গিয়ে গল্পের চলে এমনভাবে বিষয়গুলি বলত, তাতে সহজেই বিষয়টি ছড়িয়ে পড়ে।
বিক্ষোভকারী মহিলারা বলেন, আমরা আমাদের টাকা ফেরত চাই। আমরা এক একজন আট থেকে ১০ লক্ষ টাকা, অনেকে ২০ লক্ষ টাকা পর্যন্ত দিয়েছি। নিজেদের সব সঞ্চয় আমরা ওদের বিশ্বাস করে দিয়েছি। ওদেরকে আসল সব টাকা ফেরত দিতে হবে।