সংবাদদাতা, বারুইপুর: ২০২০ সালের ৪ আগস্ট। ওইদিন গভীর রাতে বারুইপুর কাছারি বাজারের কাপড়পট্টিতে বিধ্বংসী আগুন লেগেছিল। ছাই হয়ে গিয়েছিল একের পর এক দোকান। এই নিয়ে চার বছর হল। কিন্তু এই কাপড়পট্টির ব্যবসায়ীদের এখনও হুঁশ ফেরেনি। এখনও কোনও দোকানে নেই অগ্নিনির্বাপক যন্ত্র। নেই পর্যাপ্ত জলের ব্যবস্থাও। আর এনিয়ে পুরসভা ও প্রশাসনের নজরদারিও নেই। আবার বড় আগুন লেগে গেলে চোখের নিমিষে পুড়ে যাবে এই কাপড়পট্টি। কাছারি বাজার কাপড়পট্টি সংগঠনের সম্পাদক উত্তম নাথ অবশ্য একথা স্বীকার করেছেন। তিনি বলেন, ঠিকই, কোনও দোকানেই নেই অগ্নিনির্বাপক যন্ত্র। তবে আমরা পুজোর পরেই মিটিং ডেকে এই ব্যাপারে সিদ্ধান্ত নেব। আর বারুইপুর পুরসভার চেয়ারম্যান শক্তি রায়চৌধুরী বলেন, আমরা আগেই জানিয়েছিলাম ব্যবসায়ীদের। কিন্তু তাঁরা গুরুত্ব দেননি।
বারুইপুর থানার সামনেই এই কাছারি বাজারের কাপড়পট্টি। প্রায় ৯০টির মতো দোকান আছে। প্রশাসন ও পুরসভা থেকে অগ্নিকাণ্ডের পর নতুন ঘর নির্মাণ করে দেওয়া হয়েছিল। এই কাপড়পট্টিতে অধিকাংশ দোকানই একেবারে গায়ে গায়ে। ঘিঞ্জি পরিবেশ। সরু একটা রাস্তা ভিতরে ঢোকার। শুধু অগ্নিনির্বাপক মেশিন নয়, সিসিক্যামেরাও নেই অধিকাংশ দোকানে। তবে সম্পাদক উত্তমবাবু বলেন, কিছুদিন পরেই সিসি ক্যামেরা বসানো হবে। চেষ্টা চালানো হচ্ছে। এই কাপড়পট্টিতে দমকল ঢোকারও পর্যাপ্ত রাস্তা নেই। এক ব্যবসায়ী বলেন, অনেক সমস্যার মধ্যেই কাজ হয় এই কাপড়পট্টিতে। ২০২০ সালে অগ্নিকাণ্ডের সময়ে জলের ব্যবস্থা করতে হিমশিম খেতে হয়েছিল। থানার ভিতরে জলাধার থেকে পাইপ টেনে তবেই জল দিতে পেরেছিল দমকলের লোকজন। এখনও পর্যন্ত কোনও জলের ব্যবস্থা নেই গোটা বাজারেই। তবে কেন অগ্নিনির্বাপক যন্ত্র রাখা হয়নি, সেই ব্যাপারে কেউ মুখ খোলেননি। ( নিজস্ব চিত্র )