• দ্রুত জল নিষ্কাশনের পর স্বাভাবিক সতীপীঠ কঙ্কালীতলা, জনসমাগম
    বর্তমান | ০৬ আগস্ট ২০২৪
  • সংবাদদাতা, বোলপুর: অতিবৃষ্টির জেরে প্লাবনের পর রবিবার থেকে ফের স্বাভাবিক হতে শুরু করে সতীপীঠ কঙ্কালীতলা। সোমবার থেকে পুরোদমে শুরু হয়েছে পুজোপাঠ। জেলা প্রশাসন ও স্থানীয় কঙ্কালীতলা পঞ্চায়েতের প্রচেষ্টায় মন্দির প্রাঙ্গণ থেকে দ্রুত জল নিষ্কাশন করে পরিস্থিতি স্বাভাবিক করা হয়েছে। পরিস্থিতি খতিয়ে দেখতে শনিবার বিকেল থেকে রাত পর্যন্ত মন্দিরে উপস্থিত ছিলেন জেলাশাসক বিধান রায়। তাঁর তত্ত্বাবধানে সেদিনই মন্দির পরিষ্কার শুরু হয়। এরপর জলমুক্ত হতেই রবিবার মন্দিরে পুজোপাঠ শুরু হয়েছে বলে ট্রাস্ট সূত্রে জানা গিয়েছে। তাই শ্রাবণ মাসের তৃতীয় সোমবার উপলক্ষ্যে সতীপীঠে এদিন ভিড় উপচে পড়েছিল। রাজ্যের অন্যতম ধর্মীয় তীর্থস্থান সতীপীঠ কঙ্কালীতলা। পুনরায় মন্দিরে পর্যটক, দর্শনার্থী ও পুণ্যার্থীদের ভিড় চোখে পড়ায় খুশি স্থানীয় পঞ্চায়েত ও জেলা প্রশাসন। জেলাশাসক বলেন, জল নিষ্কাশন যাতে দ্রুত হয়, প্রশাসন তাতে নজর রেখেছিল। পুণ্যার্থীরা আগের মতোই পুজো দিতে পারবেন বলে আমি আশাবাদী। উল্লেখ্য, বৃহস্পতিবার থেকে শুক্রবার পর্যন্ত রাতভর অতিবৃষ্টির জেরে ফুলেফেঁপে ওঠে ছোট নদী নামে খ্যাত কোপাই। জল এতটাই বেড়ে যায় যে শান্তিনিকেতন ও পাড়ুই থানার মধ্যবর্তী কোপাই নদীর সেতুর উপর দিয়ে বইতে শুরু করে। জলের স্তর বিপদসীমার উপরে প্রবাহিত হতেই নদী সংলগ্ন আশেপাশের গ্রামের মানুষ আতঙ্কিত হয়ে ওঠেন। এই কোপাই নদীই সতীপীঠ কঙ্কালীতলার পাশ দিয়ে বয়ে গিয়েছে। ফলে নদীর জলে কঙ্কালীতলার মন্দির প্রাঙ্গণও কার্যত ডুবে যায়। এমনকী, নদীর জল মন্দিরের গর্ভগৃহেও প্রবেশ করে। ফলে, অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে মন্দিরে পুণ্যার্থীদের প্রবেশ বন্ধ করে শান্তিনিকেতন থানা। এরপর শনিবার বিকেলে সেই জলমগ্ন পরিস্থিতি দেখতে মন্দির পরিদর্শন করেন জেলাশাসক বিধান রায়। তিনি নিজেও হাঁটু জলে নেমে পরিস্থিতি সরজমিনে খতিয়ে দেখেন। এরপর জল নিষ্কাশন যাতে দ্রুত হয় সেই ব্যবস্থা করার জন্য পঞ্চায়েতকে নির্দেশ দেন। তাঁর উপস্থিতিতেই মন্দির প্রাঙ্গণ পরিষ্কার করার কাজ শুরু হয়। এরপর সেদিন থেকেই শুরু হয় গঙ্গারতি। সেই রাতেই পূজার্চনা শুরু হতে জেলাশাসক নিজেও কঙ্কালী মায়ের কাছে পুজো দেন। এরপর রবিবার থেকে পুণ্যার্থীদের জন্যও সতীপীঠের দরজা খুলে দেওয়া হয়। এবিষয়ে কঙ্কালীতলা পঞ্চায়েতের উপপ্রধান মোহাম্মদ ওহিউদ্দিন ওরফে মামন বলেন, সতীপীঠে পুজো দেওয়ার জন্য সারাবছরই পুণ্যার্থীদের সমাগম হয়। শ্রাবণ মাস চলছে বলে পর্যটক ও দর্শনার্থীরা আরও বেশি করে ভিড় করছেন। এমতাবস্থায় অতিবৃষ্টির জন্য মন্দিরে পুজোয় সাময়িক ব্যাঘাত ঘটেছিল। কিন্তু জেলা প্রশাসনের সহায়তায় পঞ্চায়েত সদস্য ও কর্মীরা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করতে ঝাঁপিয়ে পড়েছিলেন। এরজন্য রবিবার থেকেই ফের স্বাভাবিক পুজো শুরু হয়েছে। সোমবার সতীপীঠে শিবভক্তদের ঢল নেমেছিল।


     মন্দিরের দুই সেবায়েত বুদ্ধদেব ঠাকুর ও জয়ন্ত চৌধুরী বলেন, মায়ের কৃপায় আগের মতো পুণ্যার্থীদের সমাগম হচ্ছে বলে ভালো লাগছে। পরিস্থিতির দ্রুত সমাধান করার জন্য পঞ্চায়েত ও জেলা প্রশাসনকে ধন্যবাদ জানাই। • নিজস্ব চিত্র
  • Link to this news (বর্তমান)