ছাত্র আন্দোলন যে এমন ভয়াবহরূপ নেবে ভাবতে পারিনি। হাসিনা তো দেশ ছাড়ল, এখন মেয়েটার কি হবে? ঈশ্বর ওদের রক্ষা করো। বাংলাদেশের ফুলবাড়ি থানার দাসিয়ারছড়ায় বাড়ি ছিল। ২০১৫ সালে ছিটমহল বিনিময়ের চুক্তির পরে ভারতে আসি। স্বামী সহ এক ছেলে, বউমা, নাতিকে নিয়ে এপারে চলে এসেছি। ন’বছর ধরে দিনহাটার ভিলেজ-১ ছিটমহল ক্যাম্পের আই-৭ নম্বর ব্লকে বাস করছি। ওপার বাংলায় মেয়ে আছে। প্রায় দিন ভিডিও কলে কথা হয়। কিছুদিন ধরে বাংলাদেশে ছাত্র আন্দোলন চলছে। শহর এলাকায় গণ্ডগোল হলেও আমাদের আগের গ্রামে কোনও কিছু ছিল না। সোমবার দুপুর থেকে হঠাৎ সবকিছু কেমন যেন বদলে যায়। মোবাইলেই দেখলাম প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা পদত্যাগ করেছেন। তিনি ভারতে এসেছেন। ওই দেশের খবর জানার জন্য দুপুরে মেয়েকে ভিডিওকল করেছিলাম। কিন্তু, লাগেনি। ওই দেশে তখন ইন্টারনেট ছিল না। বিকেল ৫টা নাগাদ মেয়ের ফোন আসে। মেয়ে শোভারানি ফোনে জানায়, পরিবার নিয়ে চিন্তায় রয়েছে। গ্রামে চারিদিকে ভাঙচুর হচ্ছে। ফুলবাড়ির বড়ভিটায় অনেকের বাড়িঘর আন্দোলনকারীরা জ্বালিয়ে দিয়েছে। বাড়ির সকলেই ভীত। ওরা আতঙ্ক রয়েছে। বাড়িঘর ভেঙে দিলে, জ্বালিয়ে দিলে কোথায় আশ্রয় নেবে। শেখ হাসিনা থাকলে অতটা চিন্তা ছিল না। কিন্তু, এখন তিনি নেই। তাই ভয় বাড়ছে বলে মেয়ে কেঁদে ফেলে।
শুনেছিলাম ছাত্র আন্দোলন। কিন্তু, এসব কি দেখছি। জাতির পিতা বঙ্গবন্ধুর মূর্তি ভাঙা হচ্ছে। রামদা নিয়ে লোকেরা ঘুরে বেড়াচ্ছে। সাধারণ মানুষকে হুমকি দিচ্ছে। যারা জাতির পিতার মূর্তি ভাঙে, তারা যাইহোক ছাত্র হতে পারে না। সেই কারণেই এই আন্দোলন নিয়ে চিন্তা বাড়ছে। শহরের সেই বিভীষিকা গ্রামে ছড়িয়ে পড়ছে ধীরে ধীরে। সেই আগুন মেয়ের বাড়িতেও লাগে কি না সেই চিন্তায় রয়েছি। আমাদের যেমন ভারত সরকার রক্ষা করেছে। মেয়েকেও যেন তারা রক্ষা করে। পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হলে, মেয়ের পরিবারের কি হবে তা নিয়েই ভাবছি এখন। ( মেয়ের পরিবারের সঙ্গে কথা বিদ্যাময়ীর। - নিজস্ব চিত্র।)