শ্রাবণী মেলার তৃতীয় সপ্তাহে ৫ লক্ষাধিক পুণ্যার্থীর ভিড়
বর্তমান | ০৬ আগস্ট ২০২৪
সংবাদদাতা, ময়নাগুড়ি: ময়নাগুড়ির জল্পেশ শ্রাবণী মেলা চলছে। গত রবিবার বিকেল থেকে সোমবার পর্যন্ত শ্রাবণী মেলার ইতিহাসে রেকর্ড ভক্তের সমাগম হয়েছে বলে দাবি জল্পেশ মন্দির কমিটির। কমিটি জানিয়েছে, পাঁচ লক্ষাধিক পুণ্যার্থী এসেছেন তৃতীয় সপ্তাহের শ্রাবণী মেলায়। এদিকে, মেলায় যেন কোনওরকম বিশৃঙ্খল পরিস্থিতির সৃষ্টি না হয় তারজন্য রবিবার দুপুর থেকে সোমবার দুপুর পর্যন্ত জল্পেশের বিভিন্ন এলাকায় ঘোরেন জলপাইগুড়ির পুলিস সুপার খণ্ডবাহলে উমেশ গণপত।
রবিবার সন্ধ্যা থেকে সোমবার দুপুর পর্যন্ত উত্তরবঙ্গের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আসেন ভক্তরা। প্রচণ্ড ভিড়ের কারণে রবিবার রাতে একসময় টিকিট দেওয়াই বন্ধ করে দেয় মন্দির কমিটি। বহু ভক্ত টিকিট ছাড়াই মন্দিরের গর্ভগৃহে প্রবেশ করেন। গভীর রাতে অবশেষে ভক্তদের হুড়োহুড়ি এড়াতে মন্দির প্রাঙ্গণে প্রবেশের বড় গেটটি বন্ধ করে দেওয়া হয়। খুলে দেওয়া হয় ছোট গেট। অপরদিকে, প্রশাসনের নির্দেশকে বুড়ো আঙুল দেখিয়ে তৃতীয় সপ্তাহের শ্রাবণী মেলাতেও প্লাস্টিকের ব্যবহার দেখা গিয়েছে। মন্দিরে প্রবেশের রাস্তার দু’ধারে ছড়িয়ে ছিটিয়ে পড়ে থাকে প্লাস্টিকের গ্লাস, বোতল। মেলা শুরুর আগে প্রশাসনের পক্ষ থেকে প্লাস্টিকের গ্লাস, জলের বোতল ব্যবহারের উপর নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছিল। কিন্তু, তা রোখা যায়নি। জল্পেশ মন্দির কমিটির সম্পাদক গীরেন্দ্রনাথ দেব সোমবার বলেন, শ্রাবণী মেলায় তৃতীয় সপ্তাহে যে ভিড় হল তা অন্যান্য বছরের রেকর্ড ভেঙে দিয়েছে। পাঁচ লক্ষের বেশি ভক্তের সমাগম হয়েছে। প্রশাসন সক্রিয় থাকায় সুষ্ঠুভাবেই পুণ্যার্থীরা গর্ভগৃহে প্রবেশ করে শিবের মাথায় জল ঢালতে পেরেছেন। এসপি নিজে রাতভর ছিলেন। তবে একজন ভক্ত ভিড়ের কারণে সংজ্ঞা হারান। আমাদের একজন ভলান্টিয়ারের হাত কেটে গিয়েছে। এই দু’টি ঘটনা ছাড়া আর কোনও অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেনি। ভিড়ের জন্য টিকিট কাউন্টার বন্ধ করে দেওয়া হয়েছিল।’ পুলিস সুপার বলেন, ‘তৃতীয় সপ্তাহের শ্রাবণী মেলা ভালোভাবে কেটেছে। আমি নিজে মন্দিরে রাত থেকে ছিলাম। এই সপ্তাহে ভিড় একটু বেশিই হয়েছে।’ জয়গাঁ থেকে আসা মিঠু মণ্ডল, কোচবিহার থেকে আসা মণিকা সরকার বলেন, প্রতিবারই শ্রাবণী মেলায় আসি। এরকম ভিড় অতীতে দেখিনি। গর্ভগৃহে প্রবেশ করতেই দু’ঘণ্টা লেগে গিয়েছে। ভিড় থাকলেও সুষ্ঠুভাবেই পুজো দিতে পেরেছি।