নিজস্ব প্রতিনিধি, জলপাইগুড়ি: নামেই গার্লস হাইস্কুল। কিন্তু, ছাত্রীর সংখ্যা তলানিতে। খাতায়-কলমে মাত্র ৮৩ জন পড়ুয়া নিয়েই খুঁড়িয়ে চলছে শহরের বেগম ফয়জন্নেসা বালিকা বিদ্যালয়। অভিযোগ, দিন দিন ছাত্রীর সংখ্যা কমছে। ফলে স্কুলটির ভবিষ্যৎ নিয়ে প্রশ্ন উঠে গিয়েছে। এ বছর স্কুলের ৭৫ বছর অর্থাৎ প্ল্যাটিনাম জুবিলি। কিন্তু, অর্থের অভাবে স্কুলভবনে পড়েনি রঙের প্রলেপ। ক্লাসের বেশিরভাগ ফ্যান খারাপ। বিপজ্জনক অবস্থায় ঝুলছে বিদ্যুতের তার। স্কুলে নেই সাফাইকর্মী। ফলে ছাত্রীদের শৌচালয়ের অবস্থা খুবই খারাপ। এই পরিস্থিতিতে স্কুল বাঁচাতে কার্যত ‘চাঁদা’ তুলতে নেমেছেন শিক্ষিকারা।
প্রশাসনিক আধিকারিকদের পাশাপাশি তাঁরা যেমন জনপ্রতিনিধিদের কাছে দরবার করছেন তেমনই যাচ্ছেন বিভিন্ন সংগঠন ও ব্যবসায়ীদের কাছেও। একদিকে, স্কুলের জন্য অর্থ সংগ্রহের মরিয়া চেষ্টা, অন্যদিকে ছাত্রীদের ধরে-বেঁধে হলেও স্কুলে আনতে বাড়ি বাড়ি যাচ্ছেন শিক্ষিকারা। তাতেও খুব একটা লাভ হচ্ছে না। অভিযোগ, জলপাইগুড়ি শহরের বোসপাড়ায় অবস্থিত এই গার্লস হাইস্কুলে খাতায়কলমে ৮৩ জন ছাত্রী থাকলেও নিয়মিত স্কুলে আসে অনেক কম। অনেকেই অন্য স্কুলে ভর্তি হয়েছে। ফলে এখন যে ক’জন ছাত্রী আছে, অন্তত তাদের ধরে রাখাটাই চ্যালেঞ্জ শিক্ষিকাদের।
স্কুলের টিচার ইনচার্জ মিমি রায় বলেন, ‘স্কুল বাঁচাতে সবরকম চেষ্টাই করছি। আমাদের সামনে জোড়া সঙ্কট। একদিকে, পড়ুয়া কম। অন্যদিকে, স্কুলের তহবিল ফাঁকা। অবস্থা এমনই যে, স্কুলের এবছর প্ল্যাটিনাম জুবিলি। কিন্তু আমরা, স্কুল ভবন রং করতে পারিনি। সেই খরচের টাকাও নেই আমাদের কাছে।’ স্কুল বাঁচাতে জলপাইগুড়ির বিধায়ক প্রদীপকুমার বর্মার দ্বারস্থ হয়েছেন শিক্ষিকারা। বিধায়ক বলেন, ‘খুবই সঙ্কটে রয়েছে স্কুলটি। শিক্ষাদপ্তরের সঙ্গে কথা বলব। দেখা যাক, কতদূর কী করতে পারি।’
স্কুলে একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি রয়েছে। পড়ানো হয় কলা বিভাগ। স্কুল সূত্রে জানা গিয়েছে, একাদশে মাত্র ১০ জন এবং দ্বাদশে ছাত্রী ন’জন। মাধ্যমিক দেবে ১০ জন। শিক্ষিকা ১২ জন। অশিক্ষক কর্মী একজন, চতুর্থ শ্রেণির কর্মী নেই। স্কুলে রোজ তালা খোলা, ছুটির পর তালা দেন এলাকারই একজন। মাঝেমধ্যে বাইরে থেকে লোক এনে পরিষ্কার করানো হয় শৌচালয়। মাঝেমধ্যেই খারাপ হচ্ছে লাইট, পাখা। কিছুদিন আগে একসঙ্গে ১৬টি ফ্যান খারাপ হয়ে যায়। টিআইসি বলেন, ‘ছাত্রী সংখ্যা কম হওয়ায় স্কুল রক্ষণাবেক্ষণের জন্য যে ফান্ড পাওয়ার কথা, সেটাও পাই নামমাত্র। তা দিয়ে স্কুল চালানো যায় না। বাধ্য হয়ে