সংবাদদাতা, আলিপুরদুয়ার: রবিবার রাতভর বৃষ্টিতে ভাসল হ্যামিল্টনগঞ্জের বিস্তীর্ণ এলাকা। স্থানীয় পাঁচ মোড় এলাকায় থাকা একটি হাইড্র্যান্টের জল উপচে গোটা এলাকা প্লাবিত হয়। হ্যামিল্টনগঞ্জ হাট, নেতাজিপল্লি, সুভাষপল্লি, স্মরজিৎপল্লি, পাঁচমোড়, কালীবাড়ি মোড়, ফুটবল গ্রাউন্ড ও বিবেকনগরে বাড়িতে জল ঢুকে যায়। সুভাষপল্লিতে প্রায় ১৫টি বাড়িতে এদিন রান্নাবান্না হয়নি। তৃণমূলের লতাবাড়ি অঞ্চল সভাপতি মৃত্যুঞ্জয় দে ব্যক্তিগত উদ্যোগে ওই পরিবারগুলির জন্য খাবারের ব্যবস্থা করে দেন। অবশ্য সোমবার দুপুরের পর অনেক এলাকা থেকে জল নেমে যায়।
স্থানীয় বাসিন্দারা বলেন, কালচিনি, রায়মাটাং ও চিঞ্চুলা সহ বহু চা বাগানের জল হ্যামিল্টনগঞ্জের পাঁচ মোড়ের একটি হাইড্র্যান্টে এসে জমা হয়। এদিন রাতের বৃষ্টিতে সেই নিকাশি নালার জল উপচে হ্যামিল্টনগঞ্জ প্লাবিত হয়। তাঁদের অভিযোগ, এলাকায় থাকা ছোট ছোট নিকাশি নালাগুলি দীর্ঘদিন সংস্কারের অভাবে বুজে গিয়েছে। যার ফলেই এই জলমগ্ন পরিস্থিতি। হ্যামিল্টনগঞ্জ ব্যবসায়ী সমিতির সম্পাদক বিপ্লব ঘোষ বলেন, নিকাশি নালা সংস্কার না হওয়ার জন্যই বৃষ্টিতে এলাকা জলমগ্ন হয়েছে। বিষয়টি পঞ্চায়েত কর্তৃপক্ষের নজরেও আনা হয়েছে। কিন্তু কোনও কাজ হয়নি। এলাকার বাসিন্দারাও বলেন, হ্যামিল্টনগঞ্জে এই অব্যবস্থার জন্যই অল্প বৃষ্টিতে বিপত্তি দেখা দিচ্ছে।
লতাবাড়ি গ্রাম পঞ্চায়েতের প্রধান ধীরেন বাগোয়ার বলেন, হ্যামিল্টনগঞ্জের নিকাশি নালাগুলি নিয়মিত সাফাই হয়। কিন্তু পাঁচ মোড়ের ওই হাইড্র্যান্টের জল কোনও কারণে আটকে গিয়ে এলাকায় ঢুকে পড়ে। সমস্যা কাটাতে লাগোয়া কালচিনি গ্রাম পঞ্চায়েতের সীমানায় গদিখানায় থাকা একটি নালা সংস্কারের কথা বলা হয়েছে জেলা পরিষদকে।
তৃণমূলের লতাবাড়ি অঞ্চল সভাপতি মৃত্যুঞ্জয়বাবু বলেন, কালচিনি পঞ্চায়েতের গদিখানা থেকে ওই নিকাশি নালাটি হ্যামিল্টনগঞ্জের ফরোয়ার্ড নগরে ধূপিঝোরাতে মিশেছে। জেলা পরিষদ সংস্কারের চেষ্টা করছে। সংস্কার হলেই হ্যামিল্টনগঞ্জের জলমগ্ন হওয়ার সমস্যা মিটে যাবে।