• পুরসভা ও মেডিক্যালের টানাপোড়েন, হাসপাতাল চত্বরে বর্জ্যের দুর্গন্ধে টেকা দায়
    বর্তমান | ০৬ আগস্ট ২০২৪
  • নিজস্ব প্রতিনিধি, জলপাইগুড়ি: বর্জ্য সরানো নিয়ে পুরসভা ও হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের টানাপোড়েন। আর এরই জেরে জলপাইগুড়ি মেডিক্যালের জোড়া হাসপাতাল চত্বরে জমছে আবর্জনার পাহাড়। পরিস্থিতি এমনই যে, দুর্গন্ধে টেকা দায়। সুপার স্পেশালিটি হাসপাতালের আউটডোরে রোগীরা ডাক্তার দেখানোর পর যেখান থেকে ওষুধ নেন, ঠিক তারপাশেই জমে রয়েছে বর্জ্য। অভিযোগ, জায়গাটি এতটাই দুর্গন্ধযুক্ত যে, নাকে রুমাল চাপা দিয়েও বমি উঠে আসে। বারবার হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকে বলেও লাভ হয়নি। 


    মেডিক্যালের সুপার ডাঃ কল্যাণ খাঁর অভিযোগ, যে বর্জ্যের কথা বলা হচ্ছে, তা নন-মেডিক্যাল ওয়েস্ট। এই বর্জ্য সরানোর কথা পুরসভার। কিন্তু, তারা নিয়মিত সাফাই করে না। ফলে পরিস্থিতি এমন হয়েছে। এনিয়ে জলপাইগুড়ি পুরসভার চেয়ারপার্সন পাপিয়া পালের দাবি, পুরসভার শুধু নন মেডিক্যাল ওয়েস্ট নেওয়ার কথা। কিন্তু, বারবার বলার পরও হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ নন মেডিক্যাল ওয়েস্টের মধ্যে মেডিক্যাল ওয়েস্ট মিশিয়ে দিচ্ছে। পুরসভার বর্জ্য ফেলা হয় পাহাড়পুর ডাম্পিং গ্রাউন্ডে। সেখানে মেডিক্যাল ওয়েস্ট ফেলা যাবে না। বাসিন্দাদের আপত্তি আছে। 


    মেডিক্যাল সুপারের অবশ্য বক্তব্য, পুরসভা মোটেই ঠিক বলছে না। শুধুমাত্র নন মেডিক্যাল ওয়েস্টই রাখা হয়। কালো পলিথিনে নন মেডিক্যাল ওয়েস্ট রাখার কথা। কিন্তু, সবসময় কালো পলিথিন পাওয়া যায় না। তাই মেডিক্যাল ওয়েস্ট রাখার ব্যাগে নন মেডিক্যাল ওয়েস্ট ভরে দেওয়া হয়। সেকারণে হয়তো পুরসভা মনে করছে, ওটা মেডিক্যাল ওয়েস্ট। কিন্তু, আদৌও বিষয়টি তেমন নয়। 


    জলপাইগুড়ি মেডিক্যাল কর্তৃপক্ষের বক্তব্য, বারবার পুরসভার কাছে ভ্যাট চাওয়া হয়েছে। ভ্যাট থাকলে বর্জ্য ছড়িয়ে ছিটিয়ে পড়ে থাকার প্রশ্ন আসে না। কিন্তু, আমাদের এখনও পুরসভা কোনও ভ্যাট দেয়নি। জেলা হাসপাতালে একটা ভ্যাট ছিল। সেটা ভেঙে গিয়েছে। পরে আর মেরামত করা হয়নি। এনিয়ে চেয়ারপার্সনের বক্তব্য, ভ্যাট দেওয়ার প্রশ্নই নেই। সলিড ওয়েস্ট ম্যানেজমেন্ট প্রকল্পে ভ্যাট থাকবে কেন? হাসপাতালকে বলা হয়েছিল, চেম্বার বানিয়ে তার ভিতর নন মেডিক্যাল ওয়েস্ট ফেলতে। কিন্তু, তারা এখনও তা করে উঠতে পারেনি। 


    হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের অভিযোগ, নিয়মিত পুরসভার গাড়ি আসে না। সেকারণেই বর্জ্য জমে যাচ্ছে। পাল্টা চেয়ারপার্সনের বক্তব্য, এত লোকবল নেই যে, রোজ গিয়ে হাসপাতাল থেকে বর্জ্য নিয়ে আসবে। সপ্তাহে একদিন গিয়ে বর্জ্য তুলে নিয়ে আসা হবে। তাছাড়া মেডিক্যাল কলেজ তো পঞ্চায়েত এলাকায়। আগেই বলেছিলাম, বর্জ্য তোলার জন্য পুরসভাকে কিছু অর্থ দেওয়া হোক। কিন্তু, সেব্যাপারে উদ্যোগ নেয়নি হাসপাতাল। মেডিক্যালের সুপার বলছেন, পুরসভা যদি বর্জ্য তোলার জন্য টাকা চায়, তাহলে তাদের লিখিত জানাতে হবে। (জলপাইগুড়ি মেডিক্যাল চত্বরে পড়ে বর্জ্য। - নিজস্ব  চিত্র।)
  • Link to this news (বর্তমান)