নিজস্ব প্রতিনিধি, জলপাইগুড়ি: দলে যোগদান করানো নিয়ে জলপাইগুড়িতে তৃণমূল কংগ্রেসের কোন্দল। টাউন ব্লক সভাপতিকে না জানিয়ে শহরে যোগদান কর্মসূচি করার অভিযোগ উঠেছে তৃণমূলের এসসি এসটি ওবিসি সেলের জেলা সভাপতি কৃষ্ণ দাসের বিরুদ্ধে। অন্যদিকে কৃষ্ণর দাবি, দলের জলপাইগুড়ি টাউন ব্লক সভাপতি তপন বন্দ্যোপাধ্যায় সহ জেলা নেতৃত্বকে জানিয়েই কর্মসূচি করা হচ্ছে। কিন্তু, তাঁরা কেউ কোনও যোগদান কর্মসূচিতে হাজির থাকছেন না। ফলে অভিযোগ ও পাল্টা অভিযোগ ঘিরে জলপাইগুড়িতে তৃণমূলে এখন দ্বন্দ্ব তুঙ্গে।
এ বিষয়ে দলের জেলা সভানেত্রী মহুয়া গোপের বক্তব্য, ‘কোথাও কোনও যোগদান কর্মসূচি হলে সবাইকে নিয়েই করা উচিত। আগেও বিষয়টি বলা হয়েছিল। কিন্তু, তা মানা হয়নি। এখন বিষয়টি যে পর্যায়ে পৌঁছেছে, রাজ্য নেতৃত্বকে জানিয়ে দলগতভাবে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
সোমবার জলপাইগুড়ির ১৫ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলার তথা দলের টাউন ব্লক সভাপতি তপন বন্দ্যোপাধ্যায় সাংবাদিক বৈঠক করেন। সেখানে নাম না করে কৃষ্ণ দাসের বিরুদ্ধে তোপ দাগেন। বলেন, ‘দলের শাখা সংগঠনের ওই সভাপতি বিভিন্ন ওয়ার্ডে যোগদান কর্মসূচি করছেন। কিন্তু, টাউন ব্লক সভাপতি হিসেবে আমাকে কিছুই জানাচ্ছেন না। যাঁরা আগে থেকেই তৃণমূলে আছেন, তাঁদের হাতেই পতাকা ধরিয়ে বলা হচ্ছে, যোগদান করানো হল। বিষয়টি নিয়ে কর্মীদের মধ্যে বিভ্রান্তি তৈরি হচ্ছে। জেলা ও রাজ্য নেতৃত্বকে জানানো হয়েছে।’
অন্যদিকে, কৃষ্ণ দাসের পাল্টা দাবি, ‘আমি দল গঠন করছি। দল ভাঙছি না। দলের যেসব কর্মী কিছু নেতার উপর রাগ করে বসে গিয়েছিলেন, বিজেপিকে ভোট দিয়েছেন, তাঁদের আবার দলে ফেরাচ্ছি। তাঁরা আমার মাধ্যমে তৃণমূলে সক্রিয়ভাবে কাজ করতে চাইছেন। আর প্রতিটি কর্মসূচি সম্পর্কেই দলের টাউন ব্লক সভাপতি, জেলা সভানেত্রীকে জানানো হয়। তাঁরা কোনও কর্মসূচিতেই থাকেন না।’
কৃষ্ণ দাস বারোপেটিয়া নতুনবস পঞ্চায়েতের প্রাক্তন প্রধান। বর্তমানে তৃণমূলের শাখা সংগঠনের জেলা সভাপতি। গ্রাম থেকে এসে কেন তিনি শহরে দলের রাশ নিজের দখলে নেবেন, মূলত তা নিয়েই দ্বন্দ্ব। টাউন ব্লক সভাপতির তোপ, সম্প্রতি শহরের ১, ২, ৪, ১৫ ও ১৯ নম্বর ওয়ার্ডে যোগদান কর্মসূচি করেছেন ওই নেতা। সেসব কর্মসূচি থেকে দলের জনপ্রতিনিধিদের বিরুদ্ধেও কথা বলা হয়েছে। এতে দলের ক্ষতি হচ্ছে। নিজেকে জাহির করার চেষ্টা করছেন ওই নেতা। কৃষ্ণর পাল্টা বক্তব্য, ‘শহরের নেতারা যদি এতই দক্ষ, তাহলে দল লোকসভা ভোটে জলপাইগুড়িতে পিছিয়ে পড়ল কেন? শহরে কর্মসূচি করছি। আগামী দিনেও করব।’